জানেন রসগোল্লার আদি জন্মস্থান কোথায়? না জানলে জেনে নিন












রসগোল্লা। এটি হয়তো কেউ অপছন্দ করেন না। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা। আর এ জনপ্রিয় বস্তুটি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে দুই রাজ্যের মধ্যে চলছিল লড়াই। শেষে জয় হলো বাংলারই।
হিন্দুস্থান টাইমসের খবরে প্রকাশ, রসগোল্লার জিওগ্র্যাফিকাল ইন্ডিকেশন (জিআই) ফর গুডসের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ভারতের উড়িষ্যার সাথে লড়াইয়ে জড়িয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ। সে লড়াই চলে প্রায় আড়াই বছর। শেষে মুম্বাই থেকে জিআই

কর্তৃপক্ষের ঘোষণা এলো রসগোল্লা বাংলারই।

রসগোল্লা কলকাতার। এটাই কয়েক যুগ ধরে জেনে এসেছে ভারতবাসী। তবে ২০১৫ সালে রসগোল্লার আঁতুড়ঘরের নয়া দাবিদার হিসেবে উঠে আসে ওড়িষ্যার নাম। নিজেদের রসগোল্লার উত্‍‌সস্থল হিসেবে দাবি করে জিআই-এর অধিকারের দাবিতে লড়াই শুরু করে ওড়িষ্যা সরকার। তাদের যুক্তি ছিল, উল্টোরথের পরদিন ওড়িষ্যায় পালিত হয় রসগোল্লা দিবস। হিন্দু পৌরাণিক মতে প্রচলিত রয়েছে যে, ‘খালার বাড়ি থেকে ফিরে আসার সময় জগন্নাথ দেবকে ঘরে ঢুকতে দেননি লক্ষ্মী দেবী। তাকে না-নিয়ে জগন্নাথ দেব খালার বাড়ি যাওয়ায়, তিনি রেগে গিয়েছিলেন। তখন লক্ষ্মীদেবীকে রসগোল্লা উপহার দেন জগন্নাথ দেব। তাতেই খুশি হয়ে পথ ছেড়ে দেন লক্ষ্মী দেবী। সেই থেকেই নাকি রসগোল্লা দিবস পালনের রীতি চলে আসছে। কথিত এই গল্পের যুক্তি দেখিয়েই রসগোল্লার উত্‍‌সস্থল হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করে ওড়িষ্যা।
তবে বাংলাও লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকেনি। প্রয়োজনীয় নথি পেশ করে রসগোল্লার মালিকানা দাবি করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রসগোল্লার বাঙালিয়ানা নিয়ে পেশ করা হয় নানা জোরদার যুক্তি। দাবি করা হয়, দেশের কোনো অংশেই ছানার কোনো মিষ্টি ভোগ হিসেবে দেওয়ার প্রচলন নেই। দেবতাকে নিবেদন করে ক্ষীরের মিষ্টি দেওয়ারই প্রচলন রয়েছে।
আর একটি যুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘ছানা নামটি বাংলার নিজস্ব। গরম দুধে কোনো অম্ল দিয়ে সেটিকে কাটিয়ে বা ছিন্ন করে ছানা তৈরি হয়। অনেকটা মায়ের নাড়ি ছেঁড়া সন্তানের মতো। দুধ ছিন্ন করে তৈরি ছানা দিয়ে অতীতে দেবভোগ্য কোনো বস্তু তৈরি হতো ভারতীয় হিন্দু সমাজে। প্রাণীদেহ থেকে উত্‍‌পন্ন দুধ কাটালে তা অপবিত্র হয়ে যায়, এই যুক্তিতে তা দেবতাকে দেওয়া হতো না।’
ওড়িষ্যার যুক্তির বাস্তব কোনো ভিত্তি না-থাকায় তাদের দাবি দাবি খারিজ করে রসগোল্লার জিআই রেজিস্ট্রেশন পশ্চিমবঙ্গকেই দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।