তারকাদের কেন হরেক পেশা?

অভিনেতা-অভিনেত্রী কিংবা সংগীত শিল্পী, তাঁদের রয়েছে হরেক রকম পেশা। এই চর্চাটা বাংলাদেশে ইদানিংকালে তুলনামূলক বেড়ে গেছে। একটা সময়ে কিন্তু এমন চল ছিল না। শোবিজ নিয়েই তাঁরা মেতে থাকতেন। অন্য কিছু করার সময় থাকতো না। বর্তমানে অন্য পেশায় নিজেকে জড়ানো যেন একটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

চিত্রনায়ক আলমগীরের পারিবারিকভাবেই রয়েছে পোশাক শিল্পের ব্যবসা। অভিনয়ের ব্যস্ততা হঠাৎ কমিয়ে সেই পেশায় নজর দেন। চলচ্চিত্রের প্রতি নজর ছিল না মাঝে বেশ কয়েকবছর। তাঁর রয়েছে একাধিক গার্মেন্টস। আরেক নায়ক ফারুকেরও রয়েছে গার্মেন্টস ব্যবসা। সেখানকার ব্যস্ততা মিটিয়ে অভিনয়ে নেই বললেই চলে।

জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন ‘মাত্রা’ নামে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার মালিক। এই ব্যবসার সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। সেই ব্যস্ততার ভিড়ে অভিনয় কিংবা নির্মাণে নামমাত্র সময় দেওয়া হয়। আফসানা মিমিরও রয়েছে ‘কৃষ্ণচূড়া’ নামে একটি প্রডাকশন হাউজ ও একটি স্কুল। সেখানকার ব্যস্ততায় নাকি ফুরসত হয়ে উঠেনা অভিনয়ের। কন্ঠশিল্পী শহীদ পারিবারিকভাবে ব্যবসায়ী। চট্টগ্রামের বিখ্যাত ওয়েল গ্রুপের মালিক তাঁর পরিবার। ‘ওয়েল ফুড’ নামে রাজধানীসহ সারা দেশে ফাস্টফুড ও বেকারির ব্যবসা রয়েছে তাঁর। আরেক কন্ঠশিল্পী আসিফের রয়েছে অডিও ব্যবসা। কুমিল্লাতে তার মিষ্টির দোকানও রয়েছে। বাপ্পারাজের দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে বায়িং হাউসের ব্যবসা। তা নিয়েই তাঁর সব ব্যস্ততা।

গত কয়েক বছরে তারকাদের মধ্যে অনেকেই নৃত্যনতুন ব্যবসায় ঝুঁকছে। তাঁর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শাকিব খান। যমুনা ফিউচার পার্কে ফাস্টফুডের দোকান রয়েছে তাঁর। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের দিকেও সামনে নজর দিবেন। হাবিব ওয়াহিদের রয়েছে ‘কাবাব অন সেভেন’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট। ঈশিতা, জয়, পারভেজ, মিলন মাহমুদ, শাফিন আহমেদ,এলিটা, অপূর্ব প্রত্যেকেরই রয়েছে খাবারে ব্যবসা। মাহফুজ আহমেদের ছিল ‘বিলবোর্ড’ ব্যবসা। নওশিন-হিল্লোল দম্পতি শুরু করেছিলেন ‘সিগনেচার’ নামে ফ্যাশন হাউস। কিছু দিন যেতে না যেতেই বন্ধ করে দেন সিগনেচার। বর্তমানে অনলাইন ভিডিও পোর্টাল ‘থার্ডবেল’ এর ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত আছেন দুজনেই। নারীদের রূপচর্চা বিষয়ক ‘টিউলিপ নেইলস অ্যান্ড স্পা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তুলছেন চিত্র নায়িকা নিপুন। তৌকিরের রয়েছে রিসোর্ট।

নোবেল দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন কর্পোরেট পেশায়। তপু , তুহিনরাও আছেন কর্পোরেট পেশায়। দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন বেশ কয়েকজন নামী শিল্পী। অনেকে আছেন শিক্ষকতা পেশায়।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের ভিন্ন পেশা। এমন উদাহরন যদি টানা হয়, তাহলে তার সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে। সিনিয়র থেকে জুনিয়র। সবাই ভিন্ন কোনো পেশার সঙ্গে নিজেকে জড়াচ্ছে। একটা সময়ে হারিয়ে যাচ্ছে। যখনই মিডিয়ায় নিজেদের জায়গা নড়বড়ে হয়ে যায়। ভিন্ন পেশায় নিজেদের পুরোপুরি জড়িয়ে ফেলে। এমনটা নিশ্চয়ই সাংস্কৃতিক মাধ্যমের জন্য সুখকর হতে পারে না। কারণ তাতে ক্রমশই মেধাশুন্য হয়ে পড়ছে এ মাধ্যম। আর নিজেদের কাজটাও তো যথাযথ ভাবে করতে পারেন না।

চিত্রনায়ক রিয়াজ বলেন, ‘এখন তো আমি অভিনয়ে নিয়মিত নই। তাই অন্যদিকে নজর দিয়েছি। যখন আমার অভিনয়টা মূল ফোকাস ছিল। তখন কিন্তু অন্যদিক খেয়াল করতে পারিনি। একজনের পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। এটা আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু যাঁরা অভিনয়ের পাশাপাশি অন্যকিছু করে থাকেন। তাঁদেরও বা কীভাবে দোষ দেবেন। অভিনয়কে বা মিডিয়াকে ভালবাসে বলেই তো তারা এ মাধ্যমে এসেছেন। কিন্তু জীবন যাপনের জন্য এ পেশার ওপর আসলে ভরসা করা সম্ভব হচ্ছে না। সবারই প্রয়োজনীয়তা একটা সময় শেষ হয়ে যায়। তখনো তো তাদের জীবন যাপন করতে হয়। কীভাবে সম্ভব হবে চলা তখন। ‘

অভিনেতা অপূর্বর রয়েছে রেস্টুরেন্ট ব্যাবসা। তিনি বলেন ‘ রান্নাবান্না আমার ভালো লাগে। শখ বলা চলে। সেখান থেকে এই রেস্টুরেন্টের প্ল্যানিং। আর সবচেয়ে বড় কথা , এই রেস্টুরেন্ট হয়েছে বন্ধুদের উৎসাহে। ওদের শেয়ারও আছে। শুধু আমার নয় এই ব্যবসা। ওরাই মূলত দেখাশুনা করে। আমি মাঝেমধ্যে সময় দেই। অভিনয়ের ব্যস্ততায় সেখানে সময় দেওয়া হয় না। আর যদি অভিনয়ের বাইরে কতটা জরুরি সে প্রশ্ন করা হয়। তাহলে বলব বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এটা জরুরি। কারণ শুধু অভিনয়ের ওপর নির্ভর করে এখন আর জীবিকা নির্বাহ করা সবার সম্ভব নয়।’

শুধু যে অভিনেতা-অভিনেত্রী কিংবা সংগীত শিল্পী, তা নয়। শিল্পের প্রায় সব মাধ্যমের মানুষেরই বিকল্প কিছু ভাবতে হচ্ছে। শিল্পটা যেন আজকাল আর কারও মূল ও একমাত্র পেশা হওয়ার যোগত্যা রাখে না।

বাংলা ইনসাইডার অবলম্বনে