নিজের অতীত কি ভুলে গেছেন হরভজন













ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেট। তবে খেলার পরিস্থিতি ও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে কথার যুদ্ধ কখনও যে মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তা ভুলে যান অনেকেই। এমনকি সে মাত্রায় অনেক সময় নজর রাখতে ভুলে যান ক্রিকেটাররা! আর এটা ক্রিকেট খেলারই অংশ। নিদাহাস ট্রফি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এই সিরিজ যে উত্তাপ ছড়িয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে, তাঁর রেশ সহজে মনে কাটবে না। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার টুর্ণামেন্টটা দীর্ঘ দিন মনে রাখবেন সবাই।

এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে লিগ পর্বের ম্যাচে ঘটে কিছু বিতর্কিত ঘটনা। লঙ্কান খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের লেগে যাওয়া, আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাকিব আল হাসানের ব্যাটসম্যানদের খেলা ছেড়ে চলে আসার কথা বলা। ঘটনাগুলো ছিল ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন ফেলা। ম্যাচ শেষে যার জন্য সাকিব ও সোহানকে শাস্তিও দেয় আইসিসি।

তবে সে ঘটনা নিয়ে ব্যক্তিগত অভিমতের শেষ নেই কারো। ভারতীয় মিডিয়া তো বাংলাদেশকে ‘বেয়াদব’, ‘গুণ্ডা’ বলতে ছাড়েনি। ভারতীয় জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার হরভজন সিং বলছেন, বাংলাদেশ দলকেই নাকি নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল। সত্যিই বিষয়টি খুব হাস্যকর লাগে যখন হরভজন মাঠের শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলেন। ভাজ্জির হাত থেকে তাঁর নিজের দলের সতীর্থই ছাড় পায়নি আর অন্য দলের কথা তো বাদই দিলাম।

হরভজনের ক্রিকেট ইতিহাস ঘাটলে মাঠের খেলায় ভুড়ি ভুড়ি শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা সামনে আসবে। খেলার মাঠে সতীর্থকে চড় মারা, বর্ণবাদী মন্তব্য করার মতো ঘটনা নিজে ঘটিয়েছেন। সেই হরভজনও কথা বললেন সাকিব ও বাংলাদেশ নিয়ে। আর বাংলাদেশকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুরুটা করেন এভাবে, ‘এ রকম বেশ কিছু ঘটনায় আমি নিজে জড়িত ছিলাম। তারপরও আমি এই বিষয়ে কথা বলছি। আপনি যখন অতিতে ফিরে যাবেন, তখন এই সব ঘটনার জন্য লজ্জিত হবেন। ক্রিকেটের জন্য এগুলো দুঃখজনক ব্যপার। বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেক দর্শক হারিয়েছে। ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রডের আরো কঠোর হওয়া উচিত ছিল। আমি বিস্মিত তাদের ম্যাচ ফির মাত্র ২৫ শতাংশ জরিমানা হওয়ায়। আমি মনেকরি তাদের অন্তত কয়েক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল। পুরো দলকেই নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল।’

সত্যিই খুব অবাক লাগে হরভজনের এই কথায়। কেননা যদি তাঁর সময় আইসিসি মাঠের শৃঙ্খলা নিয়ে এখনকার মত কঠোর থাকতো তবে কত ডিমেরিট পয়েন্ট যে তিনি পেতেন তাঁর হিসাব করা যেত না।

২০০৮ সালের ‘মাঙ্কিগেট কেলেঙ্কারি’। স্পিনার হরভজন সিং অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে বানর ডেকে পড়েছিলেন রোষানলে। মামলা গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। শ্রীশান্তকে আইপিএলে চড়, আম্বতি রাইডুকে গালাগালসহ আরও অনেক কান্ড ঘটিয়েছেন দি ব্যাডবয় হরভজন।

সাকিব যা করেছে এরকম এর আগে অনেকে ক্রিকেটারই করেছে। পাকিস্তানের ইনজামাম, ভারতের সুনীল গাভাস্কার, শ্রীলঙ্কার রানাতুঙ্গা- কে নেই। তখন তাঁরা যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করে জাতীয় বীরে পরিণত হন, তাহলে আমাদের সাকিব কি দোষ করেছে। নাকি সে বাংলাদেশের মত উঠতি দলের সদস্য বলে এত কথা।

তাই শৃঙ্খলা নিয়ে হরভজন- গাভাস্কারদের মত ক্রিকেটারদের কথায় সত্যিই খুব অবাক লাগে। জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছে হয়, নিজের অতীত কি ভুলে গেছেন তাঁরা, নাকি ক্রিকেট মাঠে নোংরামি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ শুধু ভারতীয়রাই করলেই মানানসই লাগে।