প্রেমের পরিণতি এতোটাই বীভৎস! শেষমেষ জ্বালিয়ে মারা হলো……..












প্রথমে লাঠি পেঠা। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ। বেধরক মার খেয়ে তখন বাঁচার আর্তি জানানোর ক্ষমতাটুকুও ছিল না মালদার বাসিন্দা বছর চব্বিশের যুবকের। ধুঁকছিলেন বটে, কিন্তু তখনও প্রাণ ছিল দেহে। সেটুকুও কেড়ে নিতে কেরোসিন ঢেলে দিয়াশলাই জ্বালিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে দেওয়া হলো তাঁকে। তবু মৃতপ্রায় যুবককে বাঁচাতে এলেন না কেউ, বরং লেন্সবন্দি করা হল গোটা ঘটনার ভিডিও।

নারকীয়, বীভৎস, অমানবিক- যে কোনো বিশেষণই নেহায়েত ক্ষুদ্র মনে হয় রাজস্থানের এই ভালবাসার ঘটনার `শাস্তি প্রক্রিয়া` বর্ণনা করার ক্ষেত্রে। সভ্যতার উপর থেকে মনুষ্যত্বের প্রলেপটুকু উঠে গেলে প্রাগৈতিহাসিক যুগের যে গাঢ় অন্ধকার বেরিয়ে আসে, তারই সাক্ষী হয়ে থাকল মালদা এবং রাজস্থানের মানুষ। সেই ঘটনার ভিডিও এখন ভাইরাল।

নেপথ্যের কাহিনী বলতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে কয়েকটা বছর। কাজের সূত্রে রাজস্থানে গিয়েছিলেন মালদার যুবক মহম্মদ আফরাজুল। সেখানেই কাজ জুটিয়ে চলছিল দিন গুজরান। কিন্তু রাজস্থানের মেয়ে রুমা রানির প্রেমে পড়ে যান তিনি। সেখান থেকে শুরু হয় সমস্যার সূত্রপাত। সমাজ, পরিবার, ধর্মকে ফুতকারে উড়িয়ে তাঁদের ভালবাসা পরিণতি পায়। বিয়ে করেন দুজনে। কিন্তু শেষমেশ ভালবাসার `অপরাধে` নিজের প্রাণটাই দিতে হল আফরাজুলকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, পরনে লাল শার্ট, সাদা প্যান্ট, পায়ে সাদা স্নিকার- কার্যত কেতাদুরস্ত এক ব্যক্তির চরম হিংসার শিকার হয়েছেন আফরাজুল। প্রথমে তাঁকে কোপানো হয়। পরে মাটিতে ফেলে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওতে দেখতে পাওয়া লাল জামা পরিহিত ওই ব্যক্তিকে বলতেও শোনা যায়, এই কাজের জন্য ‘ উচিত শিক্ষা` দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

বিজেপি শাসিত রাজ্যে গৈরিক বাহিনীর এমন তাণ্ডব দেখে কার্যত হতবাক গোটা দেশ। রাজস্থানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, খুনী শম্ভুলাল রেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি কুঠার এবং একটি স্কুটার উদ্ধার হয়েছে।