বয়ফ্রেন্ড-টয়ফ্রেন্ড ম্যাটার করে না : অপু












অপু বিশ্বাস— বাংলাদেশের মিডিয়ার সবচেয়ে আলোচিত নাম এ মুহূর্তে। শাকিব খান তার সাথে ৯ বছরের সংসার জীবনের ইতি টেনে তালাক নোটিশ পাঠিয়েছেন।  বৃহস্পতিবার দুপুরে অপু জবাব দিলেন তালাকনামায় শাকিবের উল্লেখ করা অভিযোগের। বললেন, স্বামী-সন্তান নিয়ে থাকতে যান।

যে কাগজটা (তালাকনামা) নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি হাতে পেয়েছেন কিনা?

হ্যাঁ আমি হাতে পেয়েছি।

কখন হাতে পেয়েছেন?

গতকাল (বুধবার)।

শাকিব খানের বরাত দিয়ে আইনজীবী তালাকের দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে আছে— সন্তানকে গৃহপরিচারিকার কাছে রেখে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে চিকিৎসার নামে কলকাতায় ঘুরতে যাওয়া।

(কিছুক্ষণ হাসলেন)। এটা শাকিবের ভুল ধারণা। যাকে গৃহপরিচারিকা বলা হচ্ছে, শেলি আপা— উনি আসলে তা না, শাকিব তা জানেও। কেন বলছে জানি না। আমার যখন তিন বছর বয়স তখন থেকে পরিচয়। উনি আমার পরিবারের কোনো অংশে কম নয়। এখন বলতে পারেন উনার ধর্ম হয়ত আলাদা। আমার মা, বাবা, আত্মীয়-স্বজনকে যতটা বিশ্বাস করি ততটা পরিমাণ বিশ্বাসও তাকে করি। এটাতে কোনো ফাঁক নেই।

ছোটবেলা থেকে উনাকে দেখে আসছি। কোনভাবে গৃহপরিচারিকা হয় না। প্রতিমাসে আমার মাকে আমি হাতখরচ দেই, যেহেতু ডায়াবেটিসের মানুষ। শেলি আপাকেও আমি বলি, আপনার কিছু লাগলে আমাকে বলবেন। যখন মন চায়, তখন নেয়। সেটা কিন্তু মাসিক না। এইটুকুই! উনি আমার কাছে বড় বোন। আমরা চার ভাই-বোন। আমার পাশাপাশি বাসায় বড় হয়েছি। আমি ক্লাশ থ্রিতে যে স্কুলে ভর্তি হতে পেরেছি সেটা তার সুবাদেই ভর্তি হতে পেরেছি। তিনি ওইসময় ওই টিচিংটা না দিলে সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারতাম না। সে সুবাধে উনি আমার বড় বোন, অভিভাবক।

আর ঘটনাটা যেহেতু ঘটে গেছে সেহেতু প্রশ্ন আসতেই পারে আপনার মা কোথায়? আমার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা ধর্মপরায়ণ হয়ে উঠছেন। আমাদের হিন্দুদের তো নানা পূজা থাকেই। সে সুবাদে মা বললেন, ‘তুমি আর শেলি যেহেতু আছো আমি দশদিনের জন্য পূজাটা সেরে আসি।’ কিন্তু দুর্ঘটনা তো আর বলে-কয়ে হয় না। এটা হঠাৎ করে সকালবেলা (অপু বিশ্বাস  বাথরুমে পড়ে আঘাত পান) ঘটে যাওয়ার পর মা ও আমার বোনকে ফোন করলাম— কী করব জানতে চেয়ে। শাকিব ও তার পরিবারের কাউকে তো সহজে পাওয়া যায় না, তাই। এক মনিরের (শাকিবের চাচাতো ভাই) সাথে কথা হয়, সেটা মনির চাইলে তার (শাকিব) সাথে কথা হয়। আমার চাওয়াটা তাদের কাছে পৌঁছায় না। আমি চাইলে ফোন ধরেন না, ব্যাকও করেন না সময়মত। তখন আমি শেলি আপুকে বললাম, ‘আমার পক্ষে তো বাবুকে সাথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না।’ আমার বাচ্চা এখনো হাঁটতে শিখেনি— এক দু-পা হাঁটে, সেটা আবার পড়ে যায়, বসে যায়। কিন্তু আপুর পাসপোর্টের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আমার বাসার গৃহপরিচারিকা যে মেয়ে তার আবার তিনটা মেয়ে। সে অন্য একটা বাসায় কাজ করে। তাদেরকে বললাম আমার এখানে এসে থাকেন। সব মিলিয়ে শেলি আপু, আমার গৃহপরিচারিকা, তার মেয়ে, বাসার নিচে সাঈদ— এদেরকে বাবুর দেখাশোনার দায়িত্ব দিলাম।

এখন শাকিব কখন আসছে-কখন গেছে তা আমি জানি না। আমি আসলে কলকাতায় যাইনি। আপনি যদি বিদেশ থেকে সরাসরি কিন্তু সৈয়দপুর বিমানে যেতে পারবেন না। আপনাকে আগে ঢাকা কিংবা সিলেটে যেতে হবে। ঠিক তেমনি এখান থেকে আমি আগে কলকাতা, এরপর শিলিগুড়ি গিয়েছি। বাঘডোগরা নামের একটা এয়ারপোর্ট আছে, যেখানে আমার মেঝোবোনটা থাকে, যেটাকে আপনাকে সহজে দার্জিলিং হিসেবে চেনেন, সেখানে গিয়েছিলাম। ওখানে আমার বাচ্চা হয়েছিল, ওখানে ডাক্তার দেখাই। রাত হয়ে যাওয়ায় আমি কোনো ফিরতি ফ্লাইট পাইনি। আর আমার মেঝোবোন আমাকে পাঠাতে রাজি হননি। এখন ইমো, ভাইবার, স্যাটেলাইটের যুগ— আমি সারাক্ষণই আমার বাচ্চার আপডেট দেখছিলাম।

যে মানুষ ক্লাশ থ্রি থেকে আমাকে পড়াশোনা থেকে শুরু করে সাপোর্ট দিতে পারছে, সে মানুষ আমার বাচ্চাকে সাপোর্ট দিতে পারবে না এটা খুব হাস্যকর ব্যাপার। সেখান থেকে শেলি আপুর সাথে যোগাযোগ করে দেখতে পাই আমার বাচ্চা খুবই সুস্থ আছে, ভালো আছে। আমি পরদিনই চলে আসি।

এখন কেউ যদি ভিসার কপি দেখতে চায় আমি সেটাও দেখাতে পারব। এখন ডাক্তারের সার্টিফিকেট নিয়ে শাকিব কথা তুলছে, তো সময় মতো সেটাও পেয়ে যাবে। আমার যেহেতু সামাজিকভাবে একটা পরিচিতি আছে আর এগুলো যেহেতু শরীরের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা— রিপোর্টগুলো ইচ্ছেমত পত্র-পত্রিকায় ছাপাতে পারি না। এতটা নিকৃষ্ট না আমি আমার কিছু শারীরিক সমস্যা ফটোকপি আকারে ঘরে ঘরে পৌঁছিয়ে দিব।

এটা তো গেল চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়াদি, কিন্তু কথিত বয়ফ্রেন্ড— বিশেষ করে সরাসরি নায়ক বাপ্পীর নাম আসছে।

বাপ্পীর আমার কাছে অত্যন্ত আদরের ছোট ভাই। এখন যে বা যারা কথা তুলছে তাদের মানসিক ডাক্তার দেখানো উচিত। কারণ সুস্থ মাথায় কেউ এ ধরনের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে পারে না। যেমন সাত বছরের মেয়ে কখনো মা হতে পারে না, তেমন বাপ্পীকে ঘিরে আমাকে নিয়ে কথা বলাটা আমার কাছে ওই সমতুল্য। কারণ আমার জীবনে ভুল বলে তো কোনো কিছু নেই।

হ্যাঁ, বাপ্পীর সাথে আমি একটা ফটোশুট করেছি। বাপ্পী কোন একটা চ্যানেলে বলেছে, দিদির সাথে একটা কাজ করতে পারলে বেশ ভালো লাগবে। এটা আলাদা ব্যাপার। আমি তার সিনিয়র শিল্পী, তার আগে আসছি। হয়তবা দর্শক সারিতে কিছুটা সুনাম অর্জন আছে— সে চাওয়া থেকে বলতেই পারে। কিন্তু যে কথা ছড়ানো হয়েছে, যারা ছড়িয়েছেন তারা নিজেদেরকে ছোট করার জন্য ছড়িয়েছেন। কিন্তু বাপ্পীকে ঘিরে এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা, কথা বলাটাই বাহুল্য।

বাপ্পী নিকেতনে আপনার ড্রাইভারকে বাসা খুঁজে দিতে বলেছিল?

না, এটা ভুল কথা। এটা হয়েছিল কী— এশিয়ান টিভির একটা অনুষ্ঠানে এসে বাপ্পীর সাথে ওই লোকটার কথা হয়। উনি আমার ড্রাইভার না। উনি মনে হয় আমাদের পাশের বিল্ডিং ম্যানেজার বা ড্রাইভার। আর কিছু কিছু লোক থাকে না শিল্পীদের প্রতি আগ্রহ থাকে, নিজ থেকে কথা বলা— ওই রকম টাইপের। আমি জানি না আসলে কী হয়েছিল। বাপ্পী নাকি তাকে ফোন করে বলেছিল, ‘ভাইয়া, আমি একটা বাসা দেখবো আমার ফ্যামিলি শিফট হতে চাইছে। কাইন্ডলি দেখে দেবেন।’ উনি উনার আয়ত্বের মধ্যে বাপ্পীকে বলছেন। নিউজ-টিউজ আসার পর আমি উনাকে ডেকে জিজ্ঞেস করছি, ‘ভাইয়া কী অবস্থা, কী সব কথা-বার্তা হচ্ছে?’ উনি বললেন, ‘আপু আমি তো নিজেই জানি না।’ আজকে বাপ্পী বাসা দেখছে। কালকে আরেকজন দেখবে— সবাই তো আমার কথিত বয়ফ্রেন্ড হয়ে যাবে!

যারা কথিত বয়ফ্রেন্ড না জেনে ছড়াচ্ছে তাদের ডাক্তার দেখানো উচিত। কারণ বুঝতে হবে আমি একটা বাচ্চার মা। মিডিয়া পারসন মেয়েরা তার সন্তানকে লুকিয়ে রাখে, একমাত্র আমি আমার সন্তানকে এক সেকেন্ডের জন্য লুকাইনি। বরাবরের জন্য চাইছি আমি মা, আমার সন্তান আছে তা জানানোর জন্য— আমি কিন্তু সেটা পারিনি। আজকে আরেকটা কথা এখানে বলতে চাই। আমি কিন্তু আমার সংসার, সন্তান, স্বামীর পক্ষে সবসময় আছি। বিপক্ষে কখনো না। কথিত বয়ফ্রেন্ড-টয়ফ্রেন্ড ম্যাটার করে না।

শাকিব আপনার নাম পরিবর্তন না করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সবাই আমাকে অপু বিশ্বাস নামে চেনে। এখন অপু ইসলাম নামে তাকে বিয়ের সময় নাম পরিবর্তন করেছি। কিন্তু এ নামে সব জায়গায় আবার নতুন করে পরিচিতি করাতে গেলে কতগুলো পরিবর্তন করাতে হবে এটার ধারণা আছে?

নোটিশটি যেহেতু হাতে পেয়েছেন, আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?

আমি এ ব্যাপারে পরে কথা বলব। আপনারা যেহেতু বারবার ফোন করছিলেন, তাই ফোন ধরেছি। আরেকটু কথা বলি— আমার বাসা আপনারা চেনেন। আমাকে ভালোবাসেন, আপনারাও মিডিয়া পারসন। আমি মরে গেলে লাশটাও দেখবেন। আমাকে ফোনে না পেলে বাসার সামনে এসে ভিড় করলে আমার আশপাশের প্রতিবেশীরা বিরক্ত হয়। আশা করি এরপর থেকে ব্যাপারটা বিবেচনায় রাখবেন।

সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন শাকিব জোর করে আপনাকে ধর্ম পরিবর্তন করিয়েছে। কিন্তু এর আগে আপনি নিজেই বলেছেন, স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম পালন করছেন। তাহলে দ্বিমুখী বক্তব্য হয়ে গেল না?

আমাদের বিয়ের পরে শাকিব ধর্ম পরিবর্তনের জন্য জোরাজুরি করে। এখানে জোর করা মানে তো মারধর করা বা রিমান্ডে নেওয়া না। মানে হচ্ছে তার ইচ্ছেতে এবং সংসার সুখে রাখার জন্য আমি তার কথাটা মেনে চলেছি।

আইনিভাবে লড়বেন কিনা?

এ ব্যাপারে আমি আর কোন কথাই বলতে চাই না।