মোটরসাইকেলকে অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে যেভাবে জীবন বাঁচাচ্ছেন এই ‘অ্যাম্বুলেন্স দাদা’












গ্রামের কারো রক্তের প্রয়োজন হলেই ছুটে যান তিনি; খালি হাতে নয়, ‘মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স’ নিয়ে। নিজের মোটরসাইকেলটি অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে ১৯৯৮ সাল থেকে ধলাবাড়ি ও তার আশপাশের ২০ গ্রামের মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন তিনি।

এভাবেই তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। সেসব রোগীর মধ্যে মৃত্যুপথযাত্রী

ছিলেন অনেকেই। ভালোবেসে তাই এলাকার সবাই তার নাম দিয়েছে ‘অ্যাম্বুলেন্স দাদা’।

ঘটনার শেষ কিন্তু এখানেই নয়। প্রত্যেক মাসে দুই কিংবা তারও বেশি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে হাজার হাজার মানুষের রক্তের জোগান মেটান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার এই সমাজকর্মী। তার প্রকৃত নাম করিমুল। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ দিয়ে সম্মানিত করেছে।

রক্তের অভাবে মাকে না ফেরার দেশে চলে যেতে দেখে এ ধরনের উদ্যোগ নেন তিনি। সেটা ১৯৯৫ সালের কথা। তার মা জাফরান নেসার শরীর ভাল যাচ্ছিল না। মাঝরাতে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু জলপাইগুড়ি জেলার ধলাবাড়ি থেকে সবচেয়ে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দূরত্ব ছিল ৪০ কিলোমিটার।

করিমুল মাকে পৌঁছে দিতে গাড়ির জন্য হন্যে হয়ে খোঁজেন। কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি সেদিন। রাত ২ টা ৪৫ নাগাদ মৃত্যু হয় করিমুলের মায়ের। এরপর করিমুল সিদ্ধান্ত নেন, আর কোনো মানুষকে যেন বিনা চিকিৎসায় এভাবে মারা যেতে না হয়। এরপর জীবন বাঁচানোই তার উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে।

কয়েক বছর পরে তাঁর বন্ধু আজিজুল মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারান। করিমুল তাকে পিঠে বেঁধে ৫০ কিলোমিটার বাইক চালিয়ে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বেঁচে যায় আজিজুলের জীবন।

এর পরেই বাইকের সামনে ‘অ্যাম্বুলেন্স’ লিখে মানুষকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন তিনি। বিনামূল্য সেবা দিলেও প্রথম দিকে তেমন একটা সাড়া পাননি। অনেকেই দ্বিধায় ছিলেন বাইকে চড়বেন কি না। অনেকে আবার বিদ্রুপও করেছেন তাকে। নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন করিমুল। এখনও তার ইচ্ছা, এভাবেই সেবা দিয়ে যাবেন তিনি।