সেক্স থেরাপিস্টরা জানালেন, মানুষ কেন লুকিয়ে পর্ন দেখে?

পর্ন দেখার জন্য আলাদা ওয়েবসাইট আছে হাজার হাজার। কিন্তু তা সত্ত্বেও টেড ক্রুজের মতো অতি পরিচিত একজন রাজনীতিবিদ যখন টুইটারে পর্ন দেখতে চান এবং তাতে আবার লাইকও দেন, তাহলে তাকে নিয়ে সমালোচনা হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

গত সোমবার ‘Sexuall Posts’ নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওক্লিপে লাইক দিয়েছিলেন মার্কিন সিনেটর টেড ক্রুজ। একেবারে নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট থেকেই। তবে এই ঘটনা নিয়ে যখন আলোচনা শুরু হলো, তখন তিনি লাইক দেওয়ার বিষয়টি বেমালুম অস্বীকার করে বসলেন। বিষয়টি তিনি পুরোপুরি চাপিয়ে দিলেন তার কর্মীদের উপর যারা টুইটার অ্যাকাউন্টটি দেখাশোনা করে।

তবে এরই মধ্যে টুইটারে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে টেড ক্রুজের পর্ন লাইক দেওয়ার বিষয়টি। অনেকে তো মজা করে বলেই বসেছেন যে আপনি যদি টেড ক্রুজের মতো কেউ হয়ে থাকেন, তাহলে গোপনীয়তার সাথে পর্ন দেখার জন্য টুইটার খুব একটা খারাপ না। তবে ক্রুজ নিজেই যদি এই ভিডিও ক্লিপে লাইক দিয়ে থাকেন, তাহলে আরও অনেকের মতো তিনিও তার স্ত্রীর কাছে নিজের পর্ন দেখার ব্যাপারটি গোপন করছেন।

জ্যানেট ব্রিটো নামের একজন সাইকোলজিস্ট বলেন, ‘আমার অবশ্যই এমন ক্লায়েন্ট আছে যারা টুইটারে পর্ন দেখেন। টুইটার একটি সহজলভ্য ওয়েবসাইট হওয়ার কারণে হরহামেশাই মানুষ পর্ন দেখার জন্য টুইটারকে বেছে নিচ্ছে। একই কথা বলা যেতে পারে স্ন্যাপচ্যাট, টাম্বলার, ইনস্টাগ্রাম কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ক্ষেত্রে।’

পর্ন দেখা নিয়ে অতীতে দাম্পত্য কলহ তৈরি হয়েছিল, এমন মানুষদের ক্ষেত্রেই সাধারণ ওয়েবসাইট থেকে এসব পর্ন কন্টেন্ট দেখার প্রবণতা বেশি দেখা যায়, এমনটাই মনে করেন ব্রিটো। তার মতে, ‘যদি পারস্পরিক বিশ্বাস থাকে, তাহলে নিজের সঙ্গীর ব্রাউজিং হিস্টরি যাচাই করার খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না।’

লুকিয়ে পর্ন দেখতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ ব্রাউজারের ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করে থাকে বলে জানালেন কিম্বারলি রেসনিক অ্যান্ডারসন নামের একজন সেক্স থেরাপিস্ট। তিনি আরো বলেন, ‘গোপনীয়তার প্রতিশ্রুতি দেয়, এমন অনেক অনেক অ্যাপ আছে অ্যাপস্টোরে। কিন্তু আমার কাছে যারা পরামর্শের জন্য আসে, তাদের আমি বলি যে ইনকগনিটো পর্ন বলে কিছু নেই। ইন্টারনেটে একেবারে গোপনীয় বা অ্যানোনিমাস বলে কিছু নেই।’

পর্ন দেখা নিয়ে সঙ্গীর কাছ থেকে মিথ্যা বলাটা অবশ্য অনেকেই পছন্দ করেন না। ‘অনেকেই বিশেষ করে নারীরা আমাকে বলে থাকেন যে পর্ন দেখাটা যত না বড় অপরাধ তার থেকে বড় অপরাধ হলো মিথ্যা বলা এবং এই ব্যপারটি গোপন করা। এছাড়া পর্ন ভিডিওতে যেসব আচরণ এবং বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়, তা নিয়েও অনেক নারীই ক্ষুব্ধ,’ বলেছেন রেসনিক।

ক্রিস কিংম্যান নামের অপর এক থেরাপিস্টের মতে, ‘লুকানোর এই ব্যাপারটা থেকে বেরিয়ে আসাটাও একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।’ তার মতে, পর্ন একটি সম্পর্কের মাঝে কী ভূমিকা পালন করবে, এ বিষয়ে দুজনের মাঝে একটা ভালো বোঝাপড়া থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনি যখন গোপন রাখার এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসবেন, আপনার নিজেকে তখন অনেক সন্তুষ্ট এবং সম্পর্ক নিয়ে নিরাপদ মনে হবে।’

আমেরিকান ইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানা গেছে, পর্নগ্রাফিতে আসক্ত পুরুষেরা পর্ন দেখে যতটা উপভোগ করেন, বাস্তবে শারীরিক সংসর্গের সময় তারা ততটা উপভোগ করতে পারেন না। জরিপ চালানো তিন শতাধিক পুরুষের মধ্যে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ পর্ন দেখে নিয়মিত স্বমেহন করার পর শারীরিক সংসর্গ করেন। প্রতি চারজনে একজন বলেছেন, তারা সপ্তাহে অন্তত একবার পর্ন দেখেন। আর ২১ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ বলেছেন, তারা সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচবার দেখেন। সপ্তাহে ছয় থেকে ১০ বার দেখেন পাঁচ শতাংশ পুরুষ এবং ৪ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ সপ্তাহে ১১ বারের বেশি পর্ন দেখেন।