ধর্ষণের পর যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে ৫ বছরের শিশুকে হত্যা












পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করে তার লজ্জাস্থানে লাঠি ঢুকিয়ে হত্যা করার ঘটনার সাক্ষী রইলো ভারতের হরিয়ানার হিসার।

রবিবার সকালে সেই শিশুটির বাড়ির অদূরেই তার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়।

শিশুটির মা পুলিশকে জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৯টায় মেয়েকে পাশে নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন। রবিবার সকাল হতেই দেখেন বিছানায় মেয়ে নেই। আশপাশে খোঁজখবর নেন। তারপরই দেখা যায় বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে।

শিশুটির বাবা জানান, মেয়েটির যৌনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এসেছিল। শুধু তাই নয়, দেহের চারপাশে রক্ত পড়ে ছিল।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তোলেন তারা।

ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। উকলানা থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা রুজু করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ফরেন্সিক দল ও ডগ স্কোয়াড ঘটনাস্থল পরীক্ষা করেছে। ধর্ষণ হয়েছে কি না ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই স্পষ্ট হবে।




‘শাকিব খান শুধু সুপারস্টার নয়, একজন ভালো মানুষও’


২০১৭ ডিসেম্বর ১৬ ০০:৩১:১৪

'শাকিব খান শুধু সুপারস্টার নয়, একজন ভালো মানুষও'

শাকিব খান শুধু সুপারস্টার নয়, একজন ভালো মানুষও। তার সঙ্গে আমার দেশে-বিদেশে অনেক স্টেজ শো করার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি দেখেছি তার কথা-বার্তা আচার-আচরণ অমায়িক। সদালাপী, হাসি মুখে কথা বলেন। তার অভিনীত সিনেমাও আমি দেখেছি, চমৎকার অভিনয় করেন।’

সঙ্গীত, চলচ্চিত্র ও ব্যক্তি জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুপারস্টার শাকিব খান সম্পর্কে একান্ত সাক্ষাৎকারে এভাবেই বলেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খান।

তিনি আরও বলেন, ‘সিনেমায় আমি ৩০০ গান করেছি এর মধ্যে ৫০টির বেশি হবে শাকিব খানের সিনেমা। আমার এসব গানে শাকিবের লিপ মেলানো রয়েছে।

শাকিব এখন শুধু এদেশের জনপ্রিয় নায়ক নয়, কলকাতায়ও দেখেছি তার বেশ চাহিদা রয়েছে। এক সময় তার জনপ্রিয়তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়বে।’

শাকিব খান বর্তমানে রাশেদ রাহা পরিচালিত ‘নোলক’ সিনেমার শুটিংয়ে ভারতের হায়দরাবাদে রয়েছেন। ২১ ডিসেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

মনির খানের প্রথম আ্যালবাম ‘তোমার কোনো দোষ নেই’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার গাওয়া ‘তোমার ছেলে আজ বড় হয়েছে’, ‘শুধু মা নেই, শুধু মা নেই, আট আনার জীবন, চার আনা ঘুমে, চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙা ভাঙা হাতে’ ইত্যাদি জনপ্রিয় গান।

সিনেমার গানে শ্রেষ্ঠ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জনপ্রিয় এই শিল্পী তিন বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

শাকিব খানের রেকর্ড ভেংগে নতুন রেকর্ড গড়ল ‘অন্তর জ্বালা’












দেশের ১৭৫টি হলে ছবি মুক্তি দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মালেক আফসারি। ১৫ ডিসেম্বর শুক্রবার দেশব্যাপী মুক্তি পেয়েছে প্রয়াত নায়ক মান্নার এক পাগল ভক্তের গল্পের ওপর নির্মিত ‘অন্তর জ্বালা’। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস বলছে, এর আগে এত সংখ্যক সিনেমা হলে কোনো ছবি মুক্তি পায়নি।

‘অন্তর জ্বালা’ মালেক আফসারি পরিচালিত ২৪তম চলচ্চিত্র। ছবিটি পরিবেশনা করছে নায়ক মান্নার প্রযোজনা সংস্থা কৃতাঞ্জলি কথাচিত্র। প্রযোজক মোঃ নাসির উদ্দিন। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জায়েদ খান ও পরীমনি। এছাড়া আছেন জয় চৌধুরী, মৌমিতা, চিকন আলী, বদ্দা মিঠু, প্রয়াত মিজু আহমেদ ও অমিত হাসান।

১৭৫টি হলে মুক্তি দেবেন ‘অন্তর জ্বালা’- এমন ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন পরিচালক মালেক আফসারি। শুক্রবার তিনি সেকথা রাখলেন। ১৭৫ হলেই মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। এর আগে শাকিব খান অভিনীত ‘রাজাবাবু’ দেশের ১৬৫টি হলে মুক্তি পেয়ে রেকর্ড গড়েছিল। আজ থেকে সেটি চলে গেল ‘অন্তর জ্বালা’র দখলে।

ছবি তো মুক্তি পেল। দেশের সর্বাধিক হলও দখল করল। কিন্তু চলবে কেমন সেটাই এখন প্রশ্ন। কেননা, ছবি মুক্তির আগেই নকলের অভিযোগ উঠেছিল পরিচালক আফসারির বিরুদ্ধে। বলা হয়েছিল, ‘অন্তর জ্বালা’র ‘ছোট ছোট আশা’ শিরোনামের গানটি একটি তামিল ছবির গান থেকে হুবহু নকল করা হয়েছে। পরে সে অভিযোগ স্বীকারও করেন নির্মাতা।

তবে ক্যারিয়ারের ২৪তম ছবি ‘অন্তর জ্বালা’ নিয়ে একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ আছে চলচ্চিত্রের সিনিয়র পরিচালক মালেক আফসারির। ছবির শুটিং শেষ হলে তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, ‘অন্তর জ্বালা’ ফ্লপ হলে পরিচালনা ছেড়ে দেব।’ দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, ছবির কাহিনি ও পাত্র-পাত্রীদের ওপরে আস্থা রেখেই যে তিনি চ্যালেঞ্জটা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন সেটা পরিষ্কার। তবে সেই চ্যালেঞ্জের জবাব তিনি কতটা দিতে পারবেন সেটার জন্যই অপেক্ষা।




কে জিতবেন, জায়েদ খান বনাম শাকিব খান?












ফেসবুক ভরে গেছে ‘অন্তর জ্বালা’ বন্দনায়। মিথ্যা বললাম, কথাটা হবে- জায়েদ খান বন্দনায়। এক প্রতাপশালী চলচ্চিত্র সংগঠক জায়েদ খান, সেটা বোঝা গেলো মিডিয়া হট্রগোলে। যথেষ্ট আলোচনা তৈরি করেছেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

মুশকিল হলো- দর্শকরা টিকেট কেটে চিত্রনায়ক জায়েদ খানকে দেখতে যাবেন, চলচ্চিত্র শিল্প সংস্কার ও ভারতীয় ছবি প্রতিরোধের লড়াকু সৈনিককে দেখতে নয়। যে শাকিব খান এফডিসির মাটিতে জায়েদ খানের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী, সেই একই নায়ক ৩০/৩০ ফুট পর্দায়ও তার মূল প্রতিপক্ষ।

আজকের ঢাকাই সিনেমার দর্শক গত দশ বছরের বেশি সময় ধরে শাকিব খানে নেশাগ্রস্ত। দর্শকের এই ঘোর কাটাতে নতুন ধরণের অভিনয়ে তাদেরকে মুগ্ধ করতে হবে জায়েদ খানকে।সমিতির ২০০ সদস্যর মনজয় নয়, ২ লক্ষ দর্শকের অন্তরজয় করতে হবে তাকে। তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ- দেশের শীর্ষ নায়কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তার যে মারদাঙ্গা ইমেজ তা ভাঙতে হবে।

২০০৪ থেকে ২০১৭- এক দীর্ঘ সফর। প্রাপ্তির থালা বলতে গেলে শূন্য। সিনেমা ব্যবসার যে করুণ হাল, দর্শকরুচির যে আমূল পরিবর্তিত চেহারা, তাতে আমি জায়েদ খানের বিজয়ের ব্যাপারে শংকিত।
মিরাকল ছাড়া ‘অন্তর জ্বালা’কে প্রত্যাশার পুলসেরাত পার করাতে পারবে না কেউ। এমনকি আমাদের সম্মিলিত শুভকামনাও নয়।




শাকিব খানের ‘টার্ন’ নিয়ে স্বপ্নে বিভোর পপি












ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা সাদিকা পারভিন পপি। বর্তমানে চলচ্চিত্রে অনেকটা অনিয়মিত। ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে শাকিল খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে বেশ কয়েকটি সাড়া জাগানো ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছিলেন পপি। একপর্যায়ে শাকিল খান অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়লে পপিও অনেকটা পিছিয়ে যেতে থাকেন। পরে শাকিব খান, রিয়াজ ও ফেরদৌসের সঙ্গে জুটি বেঁধে আবার ছবিতে কামব্যাক করেন পপি।

পপি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত শেষ ছবি ‘সোনাবন্ধু’। এ ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন ছোটপর্দার অভিনেতা ডি এ তায়েবের বিপরীতে। আরো ছিলেন নায়িকা পরীমনি। গত কোরবানির ঈদে মুক্তি পায় ছবিটি। কিন্তু ছবিটি তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। তবে এবার তিনি পর্দায় হাজির হচ্ছেন ভিন্ন রকম এক চরিত্রে। প্রথমবারের মতো কোনো ছবিতে দ্বৈত ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। ছবির নাম ‘টার্ন’। যে ছবিতে একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ও বুদ্ধিমতী তরুণীর চরিত্রে পর্দায় হাজির হবেন পপি। ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য ইতোমধ্যে চুক্তিবদ্ধও হয়েছেন তিনি। ছবিটি পরিচালনা করবেন শহীদুল ইসলাম খান। ছবির কাহিনি ও চিত্রনাট্যও তিনি লিখেছেন। ভিন্ন ধরনের গল্পের এ ছবিটির নির্মাণ প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

‘টার্ন’ তার স্বপ্নের ছবি উল্লেখ করে নায়িকা পপি বলেন, ‘জীবনে প্রথম কোনো ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করছি। যেখানে একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ও বুদ্ধিমতী তরুণীর চরিত্রে দেখা যাবে আমাকে। এর আগে এমন কোনো গল্পে অভিনয় করিনি। ‘টার্ন’ হবে আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি ছবি। নিজেকে ভাঙার জন্য নানা ধরনের ছবিতে কাজ করেছি, কিন্তু সেসব থেকে ‘টার্ন’ অনেকটা ব্যতিক্রম হবে বলেই মনে করি।’

১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়েছিল পপির। সে ছবিতে তার নায়ক ছিলেন ওমর সানী। ২০ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু হিট ও ব্যবসাসফল ছবি। অভিনয় দক্ষতা দেখিয়ে তিনবার ঘরে তুলেছেন ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। দুবার জিতেছেন বাচসাস পুরস্কারও।




আজ মহান বিজয় দিবস












আজ মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি হচ্ছে বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃতে নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে একরাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় তারা। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবার বিজয়ের ৪৬তম বার্ষিকী।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে এবং হচ্ছে এই স্বস্তি নিয়ে আগামীকাল কৃতজ্ঞ জাতি সশ্রদ্ধ বেদনায় স্মরণ করবে দেশের পরাধীনতার গ্লানি মোচনে প্রাণ উৎসর্গ করা বীর সন্তানদের। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল নামবে। শ্রদ্ধার সঙ্গে তারা শহীদের উদ্দেশে নিবেদন করবে পুষ্পাঞ্জলি। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সব প্রান্তের মানুষ অংশ নেবে বিজয় দিবসে। বঙ্গবন্ধুর বজ্র নিনাদ ভাষণ আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের জাগরণী গানে আকাশ-বাতাস হবে মুখরিত।

এবারের বিজয় দিবস পালিত হবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। শোক আর রক্তের ঋণ শোধ করার গর্ব নিয়ে উজ্জীবিত জাতি দিবসটি পালন করবে অন্যরকম অনুভূতি নিয়ে। অফুরন্ত আত্মত্যাগ এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান বিজয়ের ৪৬ বছর পূর্ণ হবে কাল।

মহান বিজয় দিবসে উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বিজয় দিবস সরকারি ছুটির দিন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হবে। রাতে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় করা হবে আলোকসজ্জা। হাসপাতাল, কারাগার ও এতিমখানাগুলোতে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সংবাদপত্র বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে, বেতার ও টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘যার যা কিছু আছে’ তা নিয়েই স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। পরে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা অস্ত্র হাতে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই মুক্তিযুদ্ধে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, ভুটান, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাহায্য-সহযোগিতা করে। অবশেষে বাঙালি দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বুকের উষ্ণ রক্তে রাঙিয়ে রাত্রির বৃন্ত থেকে ছিনিয়ে আনে ফুটন্ত সকাল।

বিজয়ের এই ৪৬ বছর অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে জাতি। কখনো সামনে এগিয়েছে, আবার পিছিয়ে গেছে নানা রাজনৈতিক টানাপড়েনে। তবুও হতোদ্যম হয়নি জাতি। বিলম্বে হলেও শুরু হয়েছে ইতিহাসের দায়-মোচনের প্রচেষ্টা। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। চলছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। এর মধ্যে অনেকের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া হার না মানা বাঙালি অর্থনৈতিক-সামাজিক এবং ক্রীড়াতেও ওড়াচ্ছে বিজয় নিশান।

বিজয়ে দিবসের কর্মসূচি

প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে একাত্তরের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সেনাবাহিনীর আমন্ত্রিত সদস্যগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। সকাল ১০টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমভিত্তিক যান্ত্রিক বহর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে।

এ ছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে এবং এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের সকল শিশুপার্ক ও জাদুঘরগুলো বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একই ধরনের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদ, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ রাজধানীর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করবে।

এর মধ্যে আছে সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আওয়ামী লীগের তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারা দেশের সংগঠনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ জিয়ারত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। বিকেল ৩টায় বিজয় শোভাযাত্রা সহকারে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হয়ে শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর অভিমুখে বিজয় র‌্যালি শুরু হবে।

পরের দিন ১৭ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন। এ ছাড়া ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আজ এক বিবৃতিতে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দেশের সকল শাখা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।




নয়া সুপারহিরো হয়ে ফিরছেন হৃতিক












হলিউডে রয়েছে অসংখ্য সুপারহিরো। যাঁদের দিয়ে ছবি তৈরি করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করে নিচ্ছে তারা। অন্যদিকে, বলিউডে সুপারহিরোর সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন। তাঁর ওপর বক্স-অফিসে সবার সাফল্য আশানুরূপ নয়। স্রোতের বিপরীতে যা একটু সাফল্য পেয়েছে হৃতিক রোশন অভিনীত ‘কৃষ’ সিরিজের ছবিগুলো। আর সেই সাফল্যকে পুঁজি করে আবারও সুপারহিরোভিত্তিক ছবি নিয়ে ফিরছেন হৃতিক রোশন।

ডিএনএ ইন্ডিয়ার বরাত দিয়ে জুমটিভির খবরে প্রকাশ, বলিউড অভিনেতা বরুণ ধাওয়ানের ভাই রোহিত ধাওয়ানের পরিচালনায় এবং সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার প্রযোজনায় নির্মিত হতে যাচ্ছে ছবিটি। যার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন হৃতিক। বর্তমানে ছবিটির পাণ্ডুলিপি তৈরির কাজ চলছে। এরই মধ্যে ছবিটি সম্পর্কে হৃতিককে জানিয়েছেন রোহিত। হৃতিকও ছবিটির ব্যাপারে সবুজসংকেত দিয়েছেন রোহিতকে।

ছবিটির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, রোহিত ও হৃতিকের নিজেদের মধ্যে ভালো জানাশোনা রয়েছে এবং তাঁরা ছবিটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন। ছবিটির গল্প হৃতিকের খুব পছন্দ হয়েছে এবং রোহিতকে পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে বলেছেন তিনি। যখন ছবিটির পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত হবে, তখনই তিনি ছবিটির চুক্তিতে দস্তখত করবেন। তবে মৌখিকভাবে হৃতিকের সম্মতি রয়েছে।

ছবিটি নির্মিত হতে যাচ্ছে কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজারি (সিজিআই) ও ভিজুয়াল এফেক্টস (ভিএফএক্স) প্রযুক্তিতে। সূত্রটি আরো জানায়, রোহিত চান ছবিটি এ সময়ের সেরা সুপারহিরোভিত্তিক চলচ্চিত্র হোক। এখন পর্যন্ত যত ধরনের উন্নত সিজিআই ও ভিএফএক্স প্রযুক্তি রয়েছে, তার সবই নিজের ছবিতে ব্যবহার করতে চান তিনি। সেটার সেরা ব্যবহার করতে চান। হলিউডের মান ধরে রেখে ছবিটি নির্মাণ করতে চান তিনি।

বর্তমানে ভারতীয় গণিতবিদ আনন্দ কুমারের জীবনীনির্ভর ছবি সুপার ৩০ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন হৃতিক। এরপর ২০১৮ সালের এপ্রিলের দিকে টাইগার শ্রফের সঙ্গে সিদ্ধার্থ আনন্দের ছবিতে অভিনয় করবেন তিনি, যা শেষ হবে ২০১৮ সালের অক্টোবরে। যেহেতু ২০১৯ সালের শুরুর দিকে ছবিটি পর্দায় আনতে চান রোহিত, তাই সিদ্ধার্থ আনন্দের ছবির পাশাপাশি সুপারহিরোভিত্তিক ছবিটিতে অভিনয় করতে হবে হৃতিককে।