মেলায় ঘুরে ঘুরে বই বিক্রি করছেন জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী তুহিনের মা

সন্ধ্যার পরপর সময়, তখনও জমেনি মেলা। দর্শনার্থীরা বিছিন্নভাবে ঘুরাঘুরি করছেন, কেউ কেউ বই উল্টাচ্ছেন, কেউবা পছন্দের তালিকা অনুযায়ী কিনেও ফেলছেন দুই-একটা বই। এরইমধ্যে অন্যপ্রকাশের স্টলের সামনে সাত-আটটি বই হাতে নিয়ে ঘুরছেন একজন প্রবীণ নারী। পরনে কমলা রঙের মধ্যে সাদা প্রিন্টের শাড়ি, কাঁধে একটা ঝোলা। ঝোলার ভেতরেই বইগুলোর ভার বহন করছেন তিনি। দর্শনার্থীদের কাউকে কাউকে ডেকে নিচ্ছেন আর বলছেন- তুমি তো অনেক বই কিনো, আমার বই বের হয়েছে, একটা বই কিনো না বাবা… কথায় স্পষ্ট আকুতি। কিন্তু এই আকুতি কী অর্থের বিনিময়ে শুধু বই বিক্রির জন্য? না! একটু খোঁজ নিয়ে জানা গেল তার প্রকৃত পরিচয়। নাম- ড. আকন্দ সামসুন নাহার, অন্যভাবে পরিচয় করালে তিনি জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী তানযীর তুহিনের মা।

পাঠক হয়তো বিভ্রান্ত হবেন ভেবে তুহিনের মা কেন বই ফেরি করে বেড়াচ্ছেন? এ খবর জানতে সরাসরি যোগাযোগ করা হয় তুহিনের সঙ্গে, হেসে বললেন- ‘মায়ের সঙ্গেই কথা বলে দেখুন না।’ তুহিনের দেওয়া নম্বর নিয়ে ফোন করা হলো ড. সামসুন নাহারকে। কোনো পত্রিকা থেকে ফোন করা হয়েছে জেনে প্রথমে খুব অবাক হলেন। তারপর জানালেন ‘লঞ্চ টার্মিনাল’ বইটি তার প্রথম বই নয়, এর আগে তার একে একে কুড়িটি বই প্রকাশিত হয়েছে। একটু অবাক হয়েই জানতে চাওয়া, একুশটি বই এর লেখিকাকে কেন আমরা এত দিন চিনিনি? উত্তরে সরল জবাব দিলেন এই মা, ‘আমি তো আসলে এতকিছু বুঝতাম না, এখনও বুঝি না। বই নিজেই বের করেছি। কোথায় এগুলো দিলে পাঠকদের কাছে পৌঁছাতে পারবো, জানা নেই। আমার বইগুলো মানুষ পড়লেই তৃপ্তি পাবো’। সেটা তো মেলার স্টলগুলোতে দিলেও পাঠকের কাছে পৌঁছাবে। আবারও সরল উত্তর- ‘বই কীভাবে বিক্রি করে আমি তো আসলে জানি না। অনেকদিন ধরেই বই প্রকাশ করছি, বইগুলো বাসায় জমে আছে। আমাকে তো কেউ চিনে না, মেলায় গিয়ে মানুষকে তাই বলে বলেই বই দেখাচ্ছি, কারোর ইচ্ছা হলে কিনছেন, কেউ কেউ দেখে যাচ্ছেন। তবে যারা পড়ছেন, তারা কিন্তু দ্বিতীয়বার মেলায় এসে আমাকে খুঁজছেন, আমার অন্য বইও নিয়ে যাচ্ছেন’।

ছোট থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত সামসুন নাহার। পড়ালেখার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ থাকার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্স করার পরেও থেমে থাকেননি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং শিক্ষাব্যবস্থাপনায় নিয়েছেন আরও দুটি মাস্টার্স ডিগ্রী। ভারতের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেছেন পি.এইচ.ডিও। লেখালেখি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি তো সেই বরিশালের ভোলার গ্রাম থেকে এসেছি। অনেক রকম বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে তো জীবনের এ পর্যায়ে আসতে হয়েছে। বিয়ের পরেও আমার জীবন স্মুথ করতে পারিনি। হ্যাজবেন্ড দেশের বাইরে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকতেন। ছেলে দুটোর দেখাশোনার দায়িত্ব আমাকে নিতে হয়েছে। এগুলো করে প্রথম জীবনে আমি লেখালেখি করলেও প্রকাশ করতে পারিনি’। নিজের জীবনের গল্প নিয়ে আত্মজীবনী লেখারও ইচ্ছা জানালেন ৭৫ বছর বয়সী সামসুন নাহার। এবারের মেলায় প্রকাশিত তার ‘লঞ্চ টার্মিনাল’ মূলত উপন্যাসের বই। বইটিতে লঞ্চ টার্মিনাল ঘিরে একটি পরিবারের গল্প ওঠে এসেছে নানা আঙ্গিকে।

উল্লেখ্য ড. আকন্দ সামসুন নাহারের জন্ম ১৯৪৩ সালে। ভোলার তজুমদ্দীন থানার এক শিক্ষানুরাগী পরিবারে। ইডেন কলেজ থেকে অনার্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্স শেষ করে, পরবর্তীতে আবার রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং শিক্ষাব্যবস্থাপনায় দুটি মাস্টার্স করেন। ভারতের কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করেন পি.এইচ.ডি ডিগ্রী। দীর্ঘদিন তিনি সরকারী কলেজে অধ্যাপনা করেন। কাজ করেছেন ন্যাশনাল ক্যারিকুলাম অ্যান্ড টেক্সট বুক বোর্ডেও। সূত্র- প্রিয়. কম

বাংলাদেশি চার বিকিনি গার্ল! ছবিতে দেখুন

এইতো গত বছরই সত্তর বছর পূর্ণ করল এই স্নান পোশাক। সুন্দরী মডেল, হলিউডি, বলিউডি অভিনেত্রীরা যেমন এই পোশাকে ঝড় তোলেন বহু হৃদয়ে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশি অনেকেই চেষ্টাকরে যাচ্ছেন নিজেকে বিকিনিতে দেখাতে। তবে আমাদের সামাজিক অবস্থা বা সংস্কৃতির কারণে ঠিক এই পোশাকটির সঙ্গে খোলামেলা সমালোচনা থেকেই যায়। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে বাংলাদেশি বেশ কয়েকজন মডেল এই বিকিনিতে নিজেদের দেখিয়েছেন। কিন্তু দেশ-বিদেশের হাজার হাজার বিচে এই পোশাকে ছুটি উপভোগ করেন সাধারণ মহিলারাও। আর কোনও পোশাক আছে যা একই সঙ্গে ক্যাজুয়াল, কমফর্টেবল, সেক্সি আবার দুর্দান্ত ফ্যাশনেবল? বাংলাদেশি বিকিনি এই গার্লদের নিয়েই এই বিশেষ আয়োজন।

জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া: তিনি ২০০৭ সালে মিস বাংলাদেশ খেতাব অর্জন করেন। অভিনয় জগতে পদার্পণের পূর্বে তিনি মডেল হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তার পেশা জীবন প্রায় সময়ই সমালোচিত হয়েছে এবং গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার লাভ করেছে। এরপর কর্মজীবন শুরু করেন র‌্যাম্প মডেলিং-এর মাধ্যমে ২০০৮ সালে। ফ্যাশন মডেল হিসেবে পাশাপাশি একাধিক ব্র্যান্ডের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানসমূহে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে। ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি’ শিরোপা অর্জন করেন। এছাড়া মিশরে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড টপ মডেল’ প্রতিযোগিতায় শীর্ষ মডেল হওয়ার সাফল্য অর্জন করেন পিয়া। সেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতেই তিনি বিকিনি পরেছিলেন। আর এ নিয়ে কিন্তু বেশ সমালোচনায় পরতে হয় তাকে।

সেই সমালোচনার কোন তোয়াক্কা না করেই তিনি নিজেকে প্রতিনিয়ত মেলে ধরছেন। ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’ চলচ্চিত্রে সুজানা চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৩ সালে বাহরাইনে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্সেস’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। একইবছর বাংলাদেশি সংগীতদল শিরোনামহীনের ‘শিরোনামহীন’ শিরোনামহীন অ্যালবামের ‘আবার হাসিমুখ’ গানের মিউজিক ভিডিওতে তাকে দেখতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি একই সাথে বেশ কটি চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে, ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’, ‘দ্য স্টোরি অব সামারা’ এবং ‘প্রবাসীর প্রেম’।

মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি: মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি। তিন শব্দের এই নামটির সঙ্গে অনেক কিছুই জুড়ে নিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে বসবাস করছেন এসব তথ্য পাঠকের কাছে নতুন না হলেও একটি বিষয় এখনও অনেকের কাছে অজানা থাকতে পারে। তা হলো, তার সাহস। যদিও তিনি বসবাস করছেন বাংলাদেশ ছেড়ে সুদূর আয়ারল্যান্ডে, কিন্তু তাতেই যে তিনি সাহসী হয়ে উঠেছেন এমনটা নয়। অনেক আগে থেকেই তার মনে ছিল কীভাবে বাঙালি হয়েও সাহসী হয়ে ওঠা যায়, সব বাঙালির আইডল হওয়া যায়। হয়তো এই ভাবনা থেকেই আজ তিনি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কোটি মানুষের আইডল।

বর্তমানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুর্বার গতিতে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন নানা দেশের ফটোশুটে। আর দেশের বাইরের বিভিন্ন ফটোশুটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিকিনি ফটোশুট। এর আগেও বিকিনিতে প্রিয়তি বিভিন্ন ফটোশুট করেছেন। করেছেন নগ্ন হয়ে ফটোশুটও। সম্প্রতি নগ্ন শরীরে পেইন্ট করে ও লাল বিকিনি পরা ছবি দিয়ে বেশ সমালোচিত হয়েছেন। কিন্তু এই ছবির মাধ্যমে প্রিয়তি আবারও প্রমাণ করলেন তিনি একজন সাহসী মডেল। নিজেকে ভেঙেচূড়ে প্রতিনিয়ত গড়ছেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই প্রিয়তির কাছে ফ্যাশন বা মডেলিং বিষয়ক নানা প্রশ্ন করে থাকেন। প্রিয়তিও খোলামনে সবাইকে নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

নায়লা নাঈম: নায়লা নাঈম। সময়ের আলোচিত ও সমালোচিত একটি নাম। নিজের মডেলিং ক্যারিয়ারে এতটা জোয়ার না আসলেও তার খোলামেলা বা বিকিনি পোশাকে এসেছে জোয়ার। আর সেই জোয়ারেই ভেসে চলছে তার মিডিয়ার ক্যারিয়ার। তার খোলামেলা পোশাক নাটক কিংবা চলচ্চিত্রে খুব বেশি একটা দেখা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক তার খোলামেলা পোশাকের ছবিতে সরব থাকে। আর সেই খোলামেলা ছবি দিয়ে বেশ আলোচিত ও সমালোচিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু শুনতে নারাজ তার এই সাহসীকতা দিনে দিনে বেড়েই যাচ্ছে।

ফাতেমা-তুজ-জোহরা ইতিশা: ইতিশা ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১২’ প্রতিযোগিতায় চতুর্থ হন। মডেলিং এর পাশাপাশি অভিনয় করছেন বেশ কিছু নাটক ও চলচ্চিত্রে। অনেকগুলো বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেলও হয়েছেন। এই যখন অবস্থা তখন তিনি বিকিনি পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। শুধু যে তিনি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন তান কিন্তু নয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ভাবে অনেকগুলো সুন্দরী প্রতিযোগতিায় অংশ নিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত মিস এশিয়া প্যাসিফিক ওয়ার্ল্ড ট্যালেন্ট, আজারবাইজানের বাকুতে হয়ে যাওয়া তুরস্কের মিস গ্লোব ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায়, তাইওয়ানের ফেইস অব বিউটি, মিস হেরিটিজসহ আরও বেশ কিছু প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন তিনি।

এতো গেল বাংলাদেশের বিকিনি গার্লদের কথা। বহিবিশ্বের অভিনেত্রী থেকে শুরু করে সাদারণ মানুষও বিকিনি পড়ছেন কিন্তু এই বিকিনি’ প্রচলন আসল কোথা থেকে। চলুন পাঠক জেনে আসি বিকিনি’র ইতিহাস।

বিকিনির ইতিহাস: বিকিনি (ইংরেজি: Bikini) মূলত মেয়েদের ব্যবহৃত একপ্রকার সাঁতারের পোষাক। দুই প্রস্থ কাপড় দ্বারা এটি তৈরি, যা শরীরকে স্বল্পভাবে ঢেকে রাখে। এর একটি অংশ স্তন ও অপর অংশটি উরুসন্ধি এবং নিতম্বকে ঢেকে রাখে। যদিও নিতম্ব ঢেকে রাখার শর্তটি ঐচ্ছিক। এর দুইটি অংশের মধ্যবর্তী অংশ সাধারণত অনাবৃত থাকলেও ট্যানকিনি ধরনের বিকিনির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। সাধারণত গরম আবহাওয়ায় এবং সাঁতার কাটার সময় বিকিনি পরিধান করা হয়। বিকিনির দুইটি অংশ মেয়েদের পৃথক দুটি অন্তর্বাস হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। নিচের অংশটি সীমা থং বা জি-স্ট্রিং থেকে শুরু করে তুলনামূলক আবৃত চৌকোণা শর্টস পর্যন্ত হতে পারে। মারিয়াম-ওয়েবস্টার অভিধানে (১১তম সংস্করণ) বিকিনিকে ‘মেয়েদের দুই প্রস্থ বিশিষ্ট গোসলের পোষাক’, ‘ছেলেদের ব্রিফ সাঁতারের পোষাক’, এবং ‘ছেলে বা মেয়েদের লো-কাট ব্রিফ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আধুনিক বিকিনির আবিস্কার হয় ১৯৪৬ সালে, এবং আবিস্কারক ছিলেন ফরাসী অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার লুই রিয়ার্ড। একই বছরের জুলাইয়ে, প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ বিকিনি অ্যাটলে অনুষ্ঠিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক পরীক্ষা অপারেশ ক্রসরোডসের নামানুসারে তিনি তাঁর সদ্য আবিস্কৃত পোশাকের নাম রাখেন বিকিনি। এই নামটি রাখার কারণ সম্ভবত পোশাকটির কারণে জনমানুষের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার বিস্ফোরণ, যা অনেকটা পারমাণবিক বিস্ফোরণের মতোই ব্যাপক ছিল।

মৃত্যুর পরও রুপালি পর্দায় ফিরে এসেছিল যে অভিনেতা!

জুমবাংলা ডেস্ক: হঠাৎ করে কোন সিনেমার নায়কের মৃত্যু হলে সবার আগে বিপদে পড়ে যায় সিনেমার পরিচালক। কারণ কোন সিনেমার শুটিং চলাকালে নায়কের মৃত্যু হলে সে সিনেমা শেষ করা বড়ই কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী অনেক চলচ্চিত্রে দেখা গেছে নায়কের মৃতূর পরও অন্য অভিনেতার মাধ্যমে সিনেমাটি করিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির ছবি এড করে দিয়ে সিনেমার কাজ সমাপ্ত করতে।

আজকে আপনাদের সামনে এমন একজন অভিনেতার কথা তুলে ধরবো  যাকে মৃত্যুর পরও  রুপালী পর্দায় দেখা গেছে। বলছিলাম ব্রুসলির ছেলে অভিনেতা ব্র্যান্ডন লি এর কথা। ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র দ্য ক্রোর প্রধান অভিনেতা ছিলেন তিনি । কিন্তু ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্রটির শুটিং শেষ হওয়ার আগেই এক দুর্ঘটনায় ব্র্যান্ডন লি মারা যান।

শুটিং চলাকালীন যে পিস্তল দিয়ে ব্র্যান্ডন লিকে গুলি করা হয়, ফাঁকা গুলির পরিবর্তে তাতে ছিল সত্যিকার বুলেট! সেই বুলেটের আঘাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন ব্র্যান্ডন লি।  এদিকে হঠাৎ তাঁর মৃত্যুর পর পরিচালক পড়ে যায় বিপদে। কারণ সিনেমা তো শেষ হয়নি। এখন কি করবে পরিচালক?

অবশেষে পরিচালক অন্য একজন অভিনেতাকে ব্যবহার করে লির বাকি দৃশ্যগুলো ধারণ করেন এবং এরপর কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তাতে লির চেহারা ব্যবহার করেন। নব্বইয়ের দশকে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে সিজিআইয়ের কাজ এতোই নিখুঁত হয়েছিল যে, কোনটি আসল ব্র্যান্ডন লি এবং কোনটি গ্রাফিক্সের কাজ, সেটি বোঝা খুবই কঠিন ছিল। আসলে তখন হঠাৎ ব্র্যান্ড লি এর মৃত্যুর পর এভাবে গ্রাফিক্সের মাধ্যমে ছবিটি শেষ না করার বিকল্প কোন পদ্ধতি ছিলনা তাই এই ব্যবস্থা।

এক সিনেমা দেখেই ২২ বছর পার!

আসলে তিনি বাস্তবের সিনেমাওয়ালা। তবে তার নাতি-নাতনিরা দাদুকে বলে থাকে ‘বড়ে টিভিওয়ালা’। কেননা ১৯৯৫ এর অক্টোবরে ‘দিলওয়ালে দুলহেনিয়া লে জায়েঙ্গে’ মুক্তির পর থেকে মুম্বাইয়ের মরাঠা মন্দিরে বড় পর্দায় এই ছবিটিই দেখিয়ে আসছেন জগজীবন মারু।

৪৫ বছর ধরে এই মরাঠা মন্দির পেক্ষাগৃহে সিনেমা প্রোজেকশনের কাজ করে আসছেন জগজীবন মারু। আর তার মধ্যে ২২ বছর কেটে গেল মানুষকে ‘দিলওয়ালে দুলহেনিয়া লে জায়েঙ্গে’ দেখাতে দেখাতেই। ছবিটি তার চরম পছন্দের তো বটেই। তার সঙ্গে এতগুলো বছর মানুষকে ‘ডিডিএলজে’ দেখাতে দেখাতে একটা মায়াও তৈরি হয়ে গেছে ছবিটির ওপর।

জগজীবনবাবু আনন্দবাজারকে বলেন, ‘আপনার বাচ্চাদের সঙ্গে হোক বা মা-বাবার সঙ্গে, বা প্রেমিক-প্রেমিকার সঙ্গে—সকলের সঙ্গে বসেই এই ছবিটা দেখা যায়। আর এই ছবির প্রতিটা গানও আমার খুব পছন্দের।’

ভারতের গুজরাটের জুনাগড় থেকে এক বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে মুম্বাই পাড়ি দেন জগজীবন মারু। তার মতে, ডিজিটাল ফরম্যাটে মানুষকে ‘দিলওয়ালে দুলহেনিয়া লে জায়েঙ্গে’ দেখাতে অনেক সুবিধা হচ্ছে। কেন না, আগে প্রত্যেকবার ছবিটি দেখানোর জন্য রিল পরিবর্তন করাটা সমস্যার হয়ে দাঁড়াত।

এই বিষয়ে মারু বলেছেন, ‘ডিজিটাল ফরম্যাট আসার ফলে আমাদের সুবিধাই হয়েছে। আগে রিলে ছোট্ট একটি দাগ হয়ে গেলেই আবার নতুন রিল দোকান থেকে নিয়ে আসতে হতো। এক দিন পেক্ষাগৃহে আমি ছিলাম না। আর সেই দিন অন্য একজন রিল পরিবর্তন করছিলেন। দর্শক সেদিন অনেক দৃশ্যই দেখতে পাননি।’

মারু আরও বলেন, যে মরাঠা মন্দির সিনেমা হলে শাহরুখ খানের সমস্ত ছবিই রমরমিয়ে ব্যবসা করে। এক সময় এক ব্যক্তি এই সিনেমা হলের ১১০০টি সিট বুক করে রেখেছিলেন। ব্যালকনিতে প্রেমিকার সঙ্গে বসে ছবিটি উপভোগও করছিলেন তিনি। ছবি শেষে নিজের প্রেমিকাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসেন ওই ব্যক্তি।

জগজীবন মারুকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে। ছবিটির নাম ‘বড়ে টিভিওয়ালা।’ আর ছবিটির এহেন নামের জন্য সুপারিশ করেছিলেন মারু নিজেই। তার নাতি-নাতনিরা তার কাছে বায়না জুড়ে দেয়, তার বড় টিভিটি বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য।

৬৭ বছরের জগজীবন মারু মনে করেন, ৪৫ বছর ধরে এই একই ধরনের কাজ করতে করতে মাঝে মধ্যেই বিরক্তি চলে আসে। পরবর্তী প্রজন্ম এই ধরনের কাজ কিছুতেই করবে না। মারু বলছেন, ‘আমি এই কাজটি ছেড়ে দুবাই পাড়ি দিচ্ছিলাম। কিন্তু মানুষকে সিনেমা দেখানোই আমার ভাগ্যে লেখা আছে।’

তবে শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে দুলহেনিয়া লে জায়েঙ্গে’-কে এখন জগজীবন মারু নিজের মেয়ে মনে করেন। ‘প্রত্যেক বাবাই চায় তার মেয়ে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে ঘর করুক। ডিডিএলজেও আমার কাছে মেয়েরই মতো। ছবিটা এসে আমার সঙ্গে থেকে গেছে। আর আমি এই ছবিটাকে সারাজীবন এখানেই রাখতে চাই।’

লন্ডনের ফ্যাশন শোতে হাঁটলেন বাংলাদেশের এসিডদগ্ধ নারীরা

গত একশ বছরের মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের নারীরা সবচেয়ে কম এসিড আক্রান্ত হন। বাংলাদেশে এ ক্ষেত্রে এমন অগ্রগতি হলেও পশ্চিমা দেশ যুক্তরাজ্যের অবস্থা অবনতির দিকে। কারণ, বর্তমান বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে প্রায় ৪০০ এসিড হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের এসিডদগ্ধ নারীদের একটি দল সম্প্রতি লন্ডনে পৌঁছেছেন। তাঁরা সেখানে একটি ফ্যাশন শোতে অংশ নিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিবিসির খবরে বলা হয়, লন্ডনে তাঁরা এসিড হামলা নিরুৎসাহিত করতে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রচার চালাবেন। সেইসঙ্গে সেখানকার এসিডদগ্ধ নারীসহ সবাইকে নিজেদের টিকে থাকার গল্প শোনাবেন তাঁরা। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের এসিডদগ্ধ নারীরা সেখানে একটি ফ্যাশন শোতে যোগ দেবেন।

লন্ডনের ফ্যাশন শোতে যোগ দিতে যাওয়া এসিডদগ্ধ নারী দলের একজন নুরুন নাহার। তিনি মাত্র ১৫ বছর বয়সে এসিড হামলার শিকার হন।

নুরুন নাহার বলেন, ‘এসিডদগ্ধ হওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল, জীবন বুঝি এখানেই থেমে গেল। আমি বোধ হয় আর পড়াশোনায় ফিরে যেতে পারব না।’

কিন্তু নুরুন নাহার এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। নিজের সক্ষমতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আমার মনে হয়, যা চাই, তার সবই আমি করতে পারব। আমি হয়তো আমার এসিডদগ্ধ মুখমণ্ডল পরিবর্তন করতে পারব না, তবে জীবন পরিবর্তন করতে পারব।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এতিম ঘর হারা শিশুদের সাথে নায়ক ফেরদৌস

মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ালেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। শুধু তাই নয়, বাবা-মা হারানো রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে সময়ও কাটিয়েছেন তিনি।

কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে ইউনিসেফের সহায়তায় রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য একটি শিশুবান্ধব কেন্দ্রে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা তাদের সঙ্গে সময় কাটান এই অভিনেতা। এসব শিশুদের সঙ্গে গল্প করেন পাশাপাশি কেরাম খেলায় অংশ নেন। তাদের সঙ্গে গান এবং আড্ডাতেও মেতে উঠেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ফেরদৌস বলেন, বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের জন্য কক্সবাজার ছিলাম। পাশেই ছিল রোহিঙ্গা ক্যাম্প। তাদের এই কঠিন সময়ে মানবিকতার কথা ভেবে ইউনিসেফের সহযোগিতায় সেখানে যাই। যাদের সঙ্গে সময় কেটেছে আমার সেইসব শিশুদের বেশিরভাগেরই বাবা-মা মারা গেছেন। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে খুবই ভালো লেগেছে।

ইউনিসেফের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ফেরদৌস বলেন, মানবিকতার কথা ভেবে আমাদের সকলকে রোহিঙ্গাদের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো উচিৎ।

রোহিঙ্গা শিশু দত্তক নিতে চাই: নায়িকা মিষ্টি জান্নাত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের হৃদয়বিদারক কাহিনি প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে জানতে পারছেন চিত্রনায়িকা মিষ্টি জান্নাত। এসব খবর অনেকের মতো পীড়া দিচ্ছে তাকেও। তাই দুটি রোহিঙ্গা শিশুকে দত্তক নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি এ কথা জানান।

অন্যরকম ইচ্ছা প্রসঙ্গে মিষ্টি বলেন, আমার পরিকল্পনা হলো দুটি বাচ্চা দত্তক নেওয়া। এরপর তাদের পড়াশোনা ও ভালোভাবে থাকার ব্যবস্থা করা। আমাদের বাসায় আব্বু ও আম্মু ছাড়া তো কেউ নেই। বাচ্চারা থাকলে নিজেদেরও ভালো লাগবে।

মিষ্টি আরো বলেন, সবকিছুর আগে তো আমরা মানুষ। মূলত নিজের দায়িত্ববোধ থেকে এ ইচ্ছা আমার। আমার দেখাদেখি হয়তো অনেকেই এগিয়ে আসবেন।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন মিষ্টি। শিগগিরই এটি ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করছেন এ নায়িকা।

‘লাভ স্টেশন’ ছবির মাধ্যমে চিত্রনায়িকা হিসেবে পরিচিতি পান মিষ্টি জান্নাত। কাজ করেছেন ভারতের ভোজপুরি ভাষার ছবিতেও। এসেছেন ছবি প্রযোজনায়ও। কিছুদিন আগে পোশাক ব্যবসায়ী হিসেবে নাম লিখিয়েছেন তিনি।