তরুণীদের ফাঁদে ফেলে পর্নোছবি, পরিচালক ফাহিম গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মুঠোফোনের অপব্যবহার করে অশ্লীল পর্নোগ্রাফি উপাত্ত প্রচার এবং অভিনেত্রী, মডেল, উপস্থাপিকাসহ সাধারণ তরুণীদের উত্ত্যক্ত, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থেকে শিহাব মাহমুদ ফাহিম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

দুজন মডেল ও টিভি উপস্থাপিকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‍্যাবের একটি দল তথ্য প্রযুক্তির বিশেষ ব্যবহার করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে।

যোগাযোগ করা হলে র‍্যাব ৪ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাইফ জানান, শিহাব মাহমুদ ফাহিম নামে ওই ব্যক্তির নামে বিভিন্ন অভিনেত্রীদের ফটোশপকৃত অশ্লীল ছবি ব্যবহার করে নিজের পরিচালিত ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপে প্রচার করত যা পর্নোগ্রাফি আইনে একটি গুরুতর অপরাধ। এ সমস্ত কুরুচিপূর্ণ পোস্টের কারণে অনেকে সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছে।

মামলার বাদী তরুণী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সাথে হয়ে যাওয়া অধিকাংশ অন্যায়ের ব্যাপারে নারীরা এখনো নীরব। কিন্তু সাইবার আইনের দারুণ উৎকর্ষের এই যুগে যদি কেউ এগিয়ে না আসে আমাদের বিরুদ্ধে হেনস্তা হবার ব্যাপারে- তাহলে তা অন্যায়কে সমর্থন দেয়া হয়ে যায়। তাই একরকম সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি আমার ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের ব্যাপারে এগিয়ে এসেছি।

আরেক ভুক্তভোগী জানান, শিহাম মাহমুদ ফাহিম নামের এই ব্যক্তি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নানা সময়ে বিজ্ঞাপন চিত্রের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের নানাভাবে ফাদে ফেলতে চাইত, তার প্রস্তাবে রাজি না হলে সে তার পরিচালিত ফেইসবুক পেইজগুলো থেকে ঐ সমস্ত তরুণীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করত। সবশেষ আমাকেও কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু আমি শুরুতেই তার প্রতারণা বুঝতে পেরে র‍্যাবে অভিযোগ করি।

আটক অভিযুক্ত শিহাব মাহমুদ ফাহিম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ তে অধ্যয়ন করছেন। অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অশ্লীল ফেসবুক পেইজ পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মুগদা থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২/৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-২০, তারিখ ৮/১২/২০১৭।

নায়িকা পরিচয়ে ২০টির বেশি বিয়ে ও প্রতারণা এই তরুণীর

একাধিক বিয়ে করে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছোলেমা খাতুন ওরফে সাদিয়া আক্তার তমা নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে। এই তরুণী নিজেকে বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে পরিচয় দেন।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঢাকাই ছবিতে এই নামে কোনো নায়িকা নেই। কিংবা এমন নামে মূল চরিত্রে কেউ অভিনয়ও করেন না। এই তরুণীর প্রধান শখ বিয়ে করা। তবে নাটকের অংশ বিশেষে তাঁকে দেখা গেছে।

তমার মূল উদ্দেশ্যই বিনোদন ও প্রতারণা। এরপর মামলা, অতঃপর দেনমোহর নিয়ে সটকে পড়া। এখন পর্যন্ত তার ২০টি বিয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিস্তারিত ভিডিওতে

ভিডিও ক্লিপটি দেখতে ক্লিক করুন

শুটিং স্পটে শিশুশিল্পীকে মানসিক চাপ, পরিচালককে মায়ের লিগ্যাল নোটিশ

বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করার সময় এক শিশুকে মানসিক চাপ দেওয়ার অভিযোগ এনে আইনি চিঠি পাঠিয়েছেন তার মা।
২৮ অক্টোবর একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মা নায়লা পারভীন পিয়া। তিনি নির্মাতা আদনান আল রাজীব ও তার টিমকে (পরিচালক রান আউট ফিল্মস লিমিটেড) শিশু অধিকারের পরিপন্থী ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের অভিযোগে চিঠিটি পাঠিয়েছেন।


মা নায়লা পারভীন পিয়া বলেন, ‘শুটিং-স্পটে মানসিক চাপ প্রয়োগ করে শুটিং থেকে বাদ দেওয়া হয় তার চার বছরের ছেলেকে।’
গত ৫ নভেম্বর  রাজ্য ও তার মায়ের পক্ষে আইনি চিঠিটি পাঠিয়েছেন আইনজীবী এরিনা খান।
এতে বলা হয়, শিশু রাজ্যকে শুটিংয়ে নিয়ে তার সঙ্গে জোরে কথা বলা হয়। তার সামনে অন্য শিশুকে কাজ করিয়ে রাজ্যকে মানসিক নির্যাতন, কষ্ট দেওয়া ও ক্ষতি করা হয়েছে।
বিষয়টি শিশু অধিকারের পরিপন্থী ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। পরিচালক হিসেবে ওই বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে মতামত জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে নির্মাতা আদনান আল রাজীবকে। না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন আবেদনকারী।
রাজ্যের মা পিয়া বলেন, ‘রাজ্যের সামনেই অন্য একটি শিশুকে দিয়ে কাজটি করানো হয়। এমনকি একটা সময় সে শিশুটিও ভয়ে কেঁদে ফেলে। এখানে দুটি কাজ তারা করেছে, ছোট বাচ্চার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, অন্য একটি শিশুকে তার সামনেই কাজ করিয়ে নিয়ে তাকে মানসিক সঙ্কট বা অপমান করা হয়েছে। আর এ কাজটি করেছেন আদনান আল রাজীবের সহকারী শামী। রাজীব সেসময় সেটে উপস্থিত ছিলেন।’
বিষয়টি নিয়ে আদনান আল রাজীরেব সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি অভিযোগটি শুনেছি। তবে কোনও চিঠি আমার হাতে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে আজ আমরা মিটিং করবো। খুঁজে বের করবো আসলে সেদিন কী ঘটেছিল। যদি আমাদের ভুল হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আমরা ক্ষমা চাইব। তবে তিনি (পিয়া) যে অভিযোগ করেছেন, তা মিথ্যা হলে তাকে অনুতপ্ত হতে হবে। আর আমরা অনেক দিন ধরে কাজ করে আসছি, কখনও তো কেউ আমাদের এমন অভিযোগ করেননি। এর ভেতরে ভিন্ন কারণও থাকতে পারে। আসলে আমি নোটিশ ও মিটিংয়ের পরই পুরো বিষয়টি বলতে পারব।’
এদিকে রাজ্যর মা পিয়া জানান, ফেসবুকে তার ছেলের ছবি দেখে বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানটি নিজেরাই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রথমে ‘না’ বললেও পরে রাজি হন। এরপর ২৮ অক্টোবর সকালে শুটিংয়ের জন্য ডাকা হয়। শুটিং শুরু হবে, শুটিং সেটে সহকারী পরিচালক শামী রাজ্যকে ডাকেন। শামী জোরে কথা বললে রাজ্য কেঁদে ফেলে। এসময় শামী বলেন, ওকে দিয়ে হবে না, ওকে সেট থেকে বের করে দাও!
পিয়া বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম- ওরা রাজ্যকে বোঝাবে। একটা ছোট বাচ্চা কয়েক দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে এখানে এসেছে। অপরিচিত একজন মানুষের এমন আচরণে সে অভ্যস্ত নয়। ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। এক মিনিট সময় না দিয়ে ওকে বের করে দেওয়া হয়। এটা খুবই অমানবিক এবং অসম্মানের।’
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরের পর পিয়া জানান, আজ সরাসরি রান আউট ফিল্মস লিমিটেড এর অফিসে গিয়ে তিনি নোটিশটি আবারও দিয়ে এসেছেন। ৭ দিনের মধ্যে চিঠির জবাব না পেলে তারা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আমি তো নিজের দোষে হিজড়া হইনি

নিশিকন্যা। নিশি জাগছে রাজধানীর রাস্তায়। অলিগলিতে। রাতের আলো-আঁধারিতে শকুনদৃষ্টি তাদের। সাজগোজ আর সুগন্ধির মাদকতায় খুঁজছে সঙ্গী। স্বল্প সময়ের সঙ্গী খুঁজতে কখনো কখনো ফেলছে ফাঁদ। সে ফাঁদে আটকা পড়ে অনেকেই হচ্ছে সর্বস্বান্ত।

‘হাই, হ্যালো, এই যে, চলো, যাবে, তোমার সঙ্গে ঘুরবো, চল রাত কাটাই, হোটেলে যাবে এমন সংক্ষিপ্ত কথায় দেয় পথচারীদের প্রস্তাব। সাড়া পেলেই মন ভোলানো কথার বাহার। দর-দাম। তারপর সিন্ডিকেটের সিএনজিতে উঠে নির্দিষ্ট গন্তব্যে রওয়ানা। অথবা রাস্তার পাশে ঝুপড়ি খাটিয়ে বিছানো শয্যায়।

এভাবে কিছু সময়ের শয্যাসঙ্গী হয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। কিন্তু অসৎ যৌনকর্মী ও ছদ্মবেশী ছিনতাইকারীরা সুযোগ বুঝে জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে সর্বস্ব।

এক্ষেত্রে যৌনকর্মীবেশী হিজড়াদের আচরণ বেপরোয়া। প্রতিরাতে নিশিকন্যারা হাত বদলের সঙ্গে অনেককে প্রতারিতও করে বসছে। গত সোমবার রাতেসহ সম্প্রতি একাধিক রাতে রাজধানীর বহু এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে।

ফার্মগেট মোড়। সোমবার রাত ১১টা ৫ মিনিট। আনন্দ সিনেমা হলের সামনেই চোখে পড়লো ৪ নিশি কন্যার পায়চারী। গাড়ির জন্য অপেক্ষমাণ কয়েক ডজন পথচারীর মাঝে তাদের বিচরণ। তিনজন বোরকা পরা। অপর জন খালি মাথায় চুল খোলা। মধ্যবয়সী। চোখে চশমা। বিভিন্ন দিক থেকে ফার্মগেট মোড়ের বাস বে-তে পা রাখা পথচারীদের দিকেই তাদের নজর। কারো দৃষ্টি তাদের দিকে স্থির হতেই নজরকাড়া আবেদনময় চাহনি। চোখ টিপ্পনি। অথবা ‘চল’, ‘যাবে’ এমন দু’এক কথায় প্রস্তাব।

এক ব্যক্তি সে আহ্বানে সাড়া দিতেই তার গা ঘেঁষে দাঁড়ালো চুল খোলা যৌনকর্মী। কাছাকাছি থাকা পথচারীদের সামনেই তাদের কথাবার্তা। ‘চল’। কোথায়? ‘শ্যামলীতে, হোটেলে’। কোন হোটেলে? ‘গিয়ে যেটা খোলা পাই, সেটাতে উঠবা’। কীভাবে যাব। ‘সিএনজিতে’। কত লাগবে? ‘কতক্ষণ-দু’ঘণ্টা না সারারাত?’ হোটেল ভাড়াসহ …। ‘সিএনজি ডাকবো?’ কোন সমস্যা হবে না তো? ‘সমস্যা হবে কেন? কোন সমস্যাই হবে না। চল’।

কিছুক্ষণের কথায় রাজি না হওয়াতে এবার ওই ব্যক্তিকে অন্য প্রস্তাব দেয় সেই নিশিকন্যা। বলে, ‘তাহলে সিএনজিতে ঘুরবা? খরচও কম।’ এরপর ওই ব্যবসায়ী পাশে দাঁড়ানো সিএনজি চালকের সঙ্গে কথা বললেন।

সিএনজি চালক সুমন তাকে আশ্বস্ত করে বললেন, ১ ঘণ্টার সিএনজি ভাড়া ৩০০ টাকা। যেদিকে যেতে চান নিয়ে যাবো। এরপরও রাজি না হওয়াতে ক্ষিপ্ত হয়ে তেড়ে আসে বোরকা পরা তার আরো দু’সহযোগী।

একজন উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘ভদ্রলোক হলে পছন্দ কইরা নিয়া চইলা যাবি। এত কথা বইলা সময় লস করস কেন।’ সেই কথার সঙ্গে অশ্রাব্য গালি তো ছিলই। তবু প্রথম মেয়েটি ওই লোককে ভনিতা করে, ‘১০০ টাকা দাও। চা খাবো’ বলেই পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেয়।

পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়। তার নাম রায়হান। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, এই সিএনজি চালক ও হোটেলের কর্মচারীরাও তাদের সিন্ডিকেটভুক্ত। আমি তাদের পছন্দের সিনজিতে চড়ে তাদের হোটেলে যাবো কেন? তারা তো ভুলিয়ে-ভালিয়ে সব কেড়ে নেবে। উল্টো জিম্মি করে টাকা আদায় করবে। আবার পুলিশ ধরলে তো আমাদের যা আছে নিয়ে যাবে। তাদের তো কিছু করবে না। এরা সুযোগে বাগিয়ে নিতে পারলেই কেল্লাফতে।

কিছুটা এগিয়ে ফার্মগেট মোড়ের মাঝামাঝিতে চোখে পড়লো আরো ৮ নিশিকন্যার পায়চারী। দর কষাকষি করা আগের নিশিকন্যাকেও পাওয়া গেল। নাম জানতে চাইলে বললো ‘চুমকি’। সঠিক নাম কিনা জানতে চাইতেই হেসে দিলো। দরকষাকষি করা ওই লোকটি যায়নি কেন জানতে চাইলে বলেন, ‘হে তো ডরায়। খালি ভাবে। এখানে কেন ভাববি। ভাইবাই তো এখানে আসবি।’

তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে এগিয়ে এলো আরো কয়েকজন। তাদের কথায় প্রমাণ মিললো খদ্দেরকে প্রতারিত করার কথা। সেলিনা নামে এক ভাসমান যৌনকর্মী বলেন, ‘গতরাতে কামের কথা বলে এক রিকশাওয়ালাকে ওই ফুটওভার ব্রিজের উপর তুলি। আমি প্রথমে ১০০ টাকা নিই। এরপর এক দালাল গিয়ে তার কাছে থাকা বাকি ২০০ টাকা নিয়ে গলা ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দিয়েছে।’ নিচে তালা দিয়ে রাখা রিকশাটিও নিয়ে গেছে অন্য কেউ।

অপর এক হিজড়া বলেন, গত সপ্তাহে আমি এক বোকা…কে নিয়ে টেক্সিতে ঘুরার কথা বলে বাগে নিয়েছিলাম। কিছুটা গিয়ে প্লাস্টিকের পিস্তল দেখাতেই তার প্রাণ যায় যায়। সব দিয়ে চলে গেছে। মানিব্যাগে ৬ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ও একটি ঘড়ি পাইছি।’

এক নিশিকন্যা সাজনার কথা- ‘আমাদের তো এ পথে এনেছে পুরুষরাই। আমার বাড়ি চাঁদপুরে। বাবা-মায়ের ৮ মেয়ে সন্তান। ২ জন মারা গেছে। এখন আছি ৬ জন। আমি সবার বড়। কয়েক বছর আগে বাবাও মারা গেছে। মা প্যারালাইজড। বসতভিটা ও ছোট্ট এক টুকরো ক্ষেত ছিল।

২০১৪ সালে মা সেই ক্ষেত বিক্রি করে আমাকে বিয়ে দেয়। ৫০ হাজার টাকা বরপক্ষের খাওয়া খরচ ও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু বর বার বার যৌতুক চেয়ে না পেয়ে সমানে নির্যাতন করছিলো। একদিন বলে সে একটি ব্যবসার জন্য ব্যাংকের ঋণ নেবে। স্ত্রীর স্বাক্ষর লাগবে। এই বলে স্বাক্ষর নিয়ে কিছু দিন পর সেই কাগজ দেখিয়ে বলে আমিই নাকি তাকে তালাক দিয়েছি। তারপর বাধ্য হয়ে মা ও বোনদের মুখের খাবার তুলে দেয়ার জন্য এই পথে নেমেছি।

তার কথা শেষ হতে বোরকা পরা মধ্য বয়সী শানু বলেন, শুধু আমরা পেটের দায়ে রাস্তায় নেমেছি। কেউ কেউ কিছু প্রতারণাও করে। কিন্তু কাস্টমাররাও তো আমাদের ক্ষতি করে। তিনদিন আগে এই ফার্মগেট থেকে দু’লোক এক নারীকে বাসায় নেয়ার নাম করে গাড়িতে উঠায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে চলে গেছে। সে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ততক্ষণে ফার্মগেট মোড়ে নিশিকন্যার আনাগোনা ডজন ছাড়িয়ে যায়। প্রায় একই সংখ্যক সিএনজিচালিত অটোরিকশাও বাস বে-তে অপেক্ষার প্রহর গুনছিল। ফার্মগেট মোড়ের পান বিক্রেতা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, শুধু রাতে নয়। দুপুর বা বিকালেও ফার্মগেট মোড়ে যৌনকর্মীদের আনাগোনা থাকে।

কিছুটা এগুতেই রাত ১১টার পর ফার্মগেট মোড়ের উত্তর পাশের খালি পার্কে আলো-আঁধারিতে বেশ কয়েকজন লোকের আনাগোনা চোখে পড়লো। ভেতরে ঢুকে দেখা গেল তিন নিশিকন্যা ও কয়েক জন লোকের এদিক ওদিক পায়চারী। নিশিকন্যারা ঝোপের মধ্যে প্লাস্টিকের বস্তার চটের শয্যা পেতেছে। তাদের খদ্দের পটিয়ে সেদিকে নিতে দেখা গেছে।

কিছুক্ষণ পর সেখানে গিয়ে এক নিশিকন্যার সঙ্গে কথা হয়। মধ্যবয়সী ছোটখাট গড়নের ওই নারীর দেহ ভেঙে পড়েছে। এক কথায় তার জীবনের গল্প জানতে চাইলে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

দুঃখ গাঁথার এক পর্যায়ে বলেন, ‘পেটের দায়ে দেহ বিলিয়ে দেয়ার জন্য রাস্তায় নামতে হয়েছে। এখানে অনেক সময় পুলিশের পিটুনি খেতে হয়। হাড়গোড় পর্যন্ত ভেঙে দেয়।’ এর বেশি কিছু বলতে চাইলে তিনি হাত জোড় করে বলেন, ‘মাপ চাই, চলে যান। আমাকে দু’টা কাজ করতে দেন।

রাত সোয়া ১২টার দিকে যৌনকর্মীদের পদচারণা দেখা গেল ফার্মগেট মোড়ের উত্তর পাশের ফুটওভারব্রিজেও। কয়েকজন ছিন্নমূল নারী-পুরুষকে ঘুমাতেও দেখা গেছে।

রাত সাড়ে ১২টা। বিজয় সরণি মোড়ের পশ্চিম পাশ। একটু এগিয়েই পুলিশের একটি টহল ভ্যান দেখা গেছে। কেউ বাইরে ও কেউ গাড়িতে বসে গল্প-গুজবে মত্ত। তাদের অতিক্রম করে প্রায় একশ’ গজ পর রাস্তার উত্তর পাশে প্রথমে দেখা গেল এক নিশিকন্যাকে।

নাম জানতে চাইতেই বললো বিলকিস। সে পেছনেই একটি দেয়ালের কাছে গাছের সঙ্গে বেঁধে চট টানিয়ে আড়াল করেছে। আরো কিছুটা পশ্চিমে এক সঙ্গে দু’নারী। তাদের ঘিরে কয়েক রিকশাচালক ও পথচারী। দরকষাকষি হয়। একজন এক খদ্দেরকে নিয়ে ঝুপড়িতে ঢুকে। অপর যৌনকর্মী কিছুটা দূরে গিয়ে বসে। তাদের দু’টো ঝুপড়িই পাশাপাশি।

আরো কিছুটা পশ্চিমে এগুতেই রাত ১টার দিকে রাস্তায় বসে আছে দুই হিজড়া। নাম জিজ্ঞেস করতেই বেপরোয়াভাবে জবাব এলো স্বরলেখা ও তন্বী। স্বরলেখা বললো, এপাশটায় আমরা ৭ জন হিজড়া কাজ করি। ওপাশে আছে ১৫ মেয়ে। নেত্রীকে জানতে চাইতেই বললো, নেত্রী গ্রামে বাড়িঘর করে চলে গেছে। এখন আমরাই নিজেরা এখানে কাজ করি।

কথা হয় তানিয়া, স্বপ্না ও গতি নামে আরো তিন হিজড়ার সঙ্গে। এক কথা দু’কথায় চোখের জল ছেড়ে অভিশপ্ত জীবনে পা বাড়ানোর নেপথ্য গল্প বলেন তানিয়া।

বলেন, আমি তো নিজের দোষে হিজড়া হইনি। কিন্তু বাবা-মা, ভাইবোন সামাজিক সম্মানের ভয়ে আমাকে কথা শুনাতে শুনাতে এক সময় বাসা থেকে বের করে দেয়। তারপর একে একে ৫টি গার্মেন্টে গেছি চাকরির খোঁজে। কেউ চাকরি দেয়নি। শেষে শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে বের হয়ে খোঁজ নিয়ে হিজড়ার দলে এসেছি। এখন এই পথই আমার জীবিকার অবলম্বন।

রাত ২টায় চন্দ্রিমা উদ্যানেও দেখা মেলে নিশিকন্যাদের। ঝোপঝাড়ে দেখা যায় তাদের ঝুপড়ি। রাত আড়াইটার দিকে কাওরান বাজার রেললাইনের পূর্বপাশে এফডিসির বিপরীতেও তিন নিশিকন্যার দেখা মেলে।

একাধিক স্থানে সাক্ষাৎ হওয়া পুলিশ ও যৌনকর্মীরা জানায়, রাত নামলেই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, পল্টন, মহাখালী, বনানী রেললাইন, কমলাপুর রেললাইন, কাকলী, রমনা পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, এয়ারপোর্ট রোডসহ শতাধিক পয়েন্টে নিশিকন্যাদের আনাগোনা রয়েছে।

বেশ কিছু দিন ধরে হোটেলে ধরপাকড় চলায় এখন অনেকে নতুন করে রাস্তায় নেমে পড়েছে। খদ্দের নিয়ে উঠছে শ্যামলী, বনানী, মহাখালী, কাওরান বাজার, তেজগাঁও, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকার হোটেলে। বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাসায় তো রমরমা যৌন ব্যবসা চলছেই।

নিশিকন্যাদের যৌন বাণিজ্যের আড়ালে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাও কম নয় বলে জানিয়েছেন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা। তবে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা কিছু পুলিশ সদস্যও তাদের আয়ে ভাগ বসায় বলে জানান একাধিক নিশিকন্যা। –মানবজমিন।

সেই মাদ্রাসা ছাত্রী পতিতালয়ে

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ৮ম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাড়ে ৪ মাস পর উদ্ধার হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে জামালপুর যৌনপল্লী থেকে তাকে উদ্ধার করেছে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ।

পুলিশ ও উদ্ধার হওয়া ছাত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নে সেঙ্গুয়া দারুল হুদা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন (১৪) গত ২৫ এপ্রিল বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় সুমাইয়ার পালক পিতা আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

আড়াই মাসে মেয়েকে উদ্ধার বা সন্ধান করতে না পেরে অবশেষে আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত সংখ্যক আসামি করে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-০৮, তারিখ ০৬-৭-১৭ ইং।

মঙ্গবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরিষাবাড়ী ও জামালপুর সদরের পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে জামালপুর যৌনপল্লী থেকে তাকে উদ্ধার করে।

বুধবার পুলিশ সুমাইয়া খাতুনের জবানবন্দি নেয়ার জন্য জামালপুর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

রাতে কলেজ কক্ষে যুবতির সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় হাতেনাতে ধরা খেলেন অধ্যক্ষ

রাতে কলেজের বন্ধ ঘরে অজ্ঞাতপরিচয় যুবতির সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় অধ্যক্ষকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল গ্রামবাসীরা। তবে থানার নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ধৃত অধ্যক্ষকে ছেড়ে দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগ জমা না পড়ায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানানো হয় পুলিশের তরফে। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বালুরঘাটের কুরমাইল এলাকায়।

জেলায় একমাত্র সরকারি D.Ed কলেজ রয়েছে বালুরঘাট ব্লকের কামারপাড়ার কুরমাইল এলাকায়। যেখানে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মিলনকুমার সাহা। বালুরঘাট স্টেট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া থাকেন তিনি। ওই কলেজে গতরাতে একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল।

অনুষ্ঠান শেষে সকলে চলে গেলেও অধ্যক্ষ কলেজে থেকে যান। সেটি লক্ষ্য করেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা দেখেন, সন্ধে সাতটা নাগাদ টোটো চেপে এসে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলা কলেজে ঢোকেন। এরপর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় ভিতর থেকে। একটি বন্ধ ঘরের মধ্যে এক যুবতি এবং অধ্যক্ষকে এইভাবে ঢুকতে দেখে গ্রামবাসীরা ঘিরে ফেলে কলেজ। খবর পেয়ে রাত ১০টা নাগাদ বালুরঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থানে পৌঁছয়। পুলিশের ডাকাডাকিতেও প্রথমে ঘর খোলেননি অধ্যক্ষ।

পুলিশ পৌঁছনোর অন্তত ২০ মিনিট পর ঘর খুলে দেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের ঘরের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ। অবশেষে কলেজ থেকে অধ্যক্ষ এবং যুবতিকে মুখ ঢেকে বের করে থানায় নিয়ে যায় বালুরঘাট থানার পুলিশ। কিন্তু তার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ধৃতদের পুলিশ ছেড়ে দেয়। এক্ষেত্রে পুলিশ কেন ধৃতদের গ্রেপ্তার করল না তা নিয়েই প্রশ্ন গ্রামবাসী থেকে সকলের।

কে এই সিমা? বিয়ে করাই যার নেশা!

সিমা, পুরো নাম শাম্মি আক্তার সিমা। বয়স ৪০ পেরুলেও অন্য দশ নারীর চেয়ে সুন্দরী। স্কুলের গন্ডি না পেরুলেও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহার করেন সিমা। পরিপটি পোশাক আর গহনায় সবসময়ই নিজেকে আকর্ষনীয় করে রাখেন। দেখলেই যে কারো মনে হতে পারে অভিজাত ঘরের মেয়ে তিনি। আসলেই এখন অভিজাতভাবেই চলাফেরা করেন তিনি। কি নেই তার আছে গাড়ি, বাড়িসহ বিপুল অর্থবিত্ত।

কিন্তু এক সময়ের দরিদ্র সিমার কীভাবে এত অর্থবৈভব আসেলো যে কারো প্রশ্ন আসতেই পারে। সেই প্রশ্নের উত্তরে রয়েছে সিমার ভয়ংকর উথ্যানের গল্প। মাদক, দেহ ব্যবসা থেকে শুরু করে এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তিনি করেননি। সুন্দরী চেহারা দিয়ে পুরুষ শিকারও করেছেন। তার সুন্দরের মোহে যে পড়েছে তার সর্বনাশ হয়েছে। একে একে ৬টি স্বামী বদলিয়ে তিনি এখন আছেন ৭ নম্বরের ঘরে। আর রাজধানীর যে কয়েকজন মাদকসম্রাজ্ঞী রয়েছে সিমা তার সবার উপরে।

রামপুরার ওলনে তার বাড়ি হলেও রামপুরা, খিলগাাঁও, মুগদা, যাত্রাবাড়ী এলাকা পর্যন্ত তার মাদকের বিস্তার। এ ছাড়াও বাসা ফ্ল্যাট ভাড়া করে চালান দেহ ব্যবসা। আর এসব করেই বিপুল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন সিমা।

গত কয়েকদিন আগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়া ১২ ভুয়া ডিবি পুলিশের সিন্ডিকেটটিও তার। তার স্বামী বারেক এ সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। বারেক গোয়েন্দাদাদের হাতে ধরা পড়ার পর ছিনতাইয়ের টাকা উদ্ধার হয় এ সিমার কাছ থেকেই। বর্তমানে সিমাও ওই মামলায় আটক হয়ে জেল হাজতে রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর তার নিকট থেকে পুরো সিন্ডিকেটের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক টিম। যে কোনো মুহূর্তে সিন্ডিকেটের গ্রেফতারের সংবাদ আসবে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান সিমা মাদক সিন্ডিকেটের নেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে তিনি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

সিমার বিষয়ে অনুসন্ধানে মিলেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। রামপুরার ওলনের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিমা মূলত তার নানা-নানীর বাসায় পালিত। স্কুলে পড়া অবস্থায় সুন্দরী সিমা ছিল ধূর্ত প্রকৃতির। ক্লাশ সেভেন কিংবা এইটে পড়া অবস্থায় খসরু হায়দার বাবু নামের এক ধনি লোককে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেন সিমা। ওই সময় বাবুর স্ত্রী ও সন্তান ছিলো। এরপর কিছুদিন সেখানে থাকার পর মোটা অংকের টাকা নিয়ে পলাশ নামের অন্য আর এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন। কিছুদিন পলাশের সঙ্গে থাকার পর তার কাছ থেকেও টাকা হাতিয়ে আবারও চলে আসেন বাবুর নিকট। এরপর আবার বাবুর সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে কারওয়অন বাজারের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী নজরুলকে বিয়ে করেন। এরপর সেখানেও কিছুদিন কাটনোর পর আবারও চলে আসেন রামপুরায়।

এভাবে সীমা একে একে ছয়টি স্বামী বদল করে রামপুরার আলোচিত নারীতে পরিণত হন। প্রথমে বিয়ের মধ্যেই সিমাবব্ধ থাকলেও মাদকে জড়িয়ে যান সিমা। এক সময় তার নাম হয়ে যায় ফেন্সি সিমা। বেপরোয়া সিমা ক্রমেই তার পরিধি ও সহযোগীর সংখ্যা বাড়াতে থাকে। রামপুরা থেকে খিলগাঁও, খিলগাঁও থেকে সবুজবাগ, সবুজ বাগ থেকে যাত্রাবাড়ী পুরো এলাকায় সিমার দাপট। ইয়াবা, ফেন্সিডিল, প্যাথেডিন, গাঁজাসহ এমন কোনো নেশাদ্রব্য নেই যার ব্যবসা তিনি করেননি।

সিমা ফের একটি বিয়ে করেন। সর্বশেষ যাকে বিয়ে করেন সে আন্তঃজেলা ডাকাত ও ভুয়া ডিবি চক্রের অন্যতম দলনেতা বারেক। বারেককে সে এ কাজেই ব্যবহারের জন্য মূলত বিয়ে করে। বারেক সিমার পুরো মাদক জগৎ দেখাশুনার দ্বায়িত্ব পান।

সিমা নিজেকে বিকশিত করতে রামপুরা কতিপয় নেতাদের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করেন। মাদকসম্রাজ্ঞী হওয়া সত্বেও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনও করেন তিনি। সবাই জানে সিমা মাদকসম্রাজ্ঞী, তারপরও যেন কেউ জানে না।

মাদকের পাশাপাশি দেহ ব্যবসাও করান সিমা। অভিযোগ রয়েছে, রামপুরা, খিলগাঁও ও মালিবাগের বেশ কিছু ফ্ল্যাট রযেছে তার। আর এ সকল ফ্ল্যাটে দেহ ব্যবসা করান।

সর্বশেষ গত ১৮ জুলাই মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ১২ ভূয়া ডিবি পুলিশকে আটক করে। আটক হয় সিমার স্বামী বারেকও। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার হয় তার স্ত্রী মাদকসম্রাজ্ঞী সিমার কাছ থেকে। তাকে গ্রেপ্তারও করে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে ননা গুঞ্জন।

রামপুরার সর্বত্রই তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা। স্থানীয় কয়েকজন নেতাও বিব্রত। বিভিন্ন দলীয় কর্মকাণ্ডে সিমার সঙ্গে ছবি থাকায় তারাও রয়েছেন সমালোচনার মুখে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিমার অপ্রতিরোধ্য উথ্যানে কামিয়েছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। সামান্য দরিদ্র পরিবার হলেও সিমার এখন আভিজাত্যের শেষ নেই। আছে বাড়ি, গাড়ি ও কাড়ি কাড়ি টাকা। চলাফেরাও করেন সমাজের উচ্চ বিত্তবানদের সঙ্গে।

অভিযোগ রয়েছে, তার এ মাদক সম্রাজ্য ধরে রাখতে রয়েছে বিশেষ গুন্ডা বাহিনী। যারা প্রতিনিয়ত তাকে রক্ষা করে। তিনি যেখানে যান সেখানে অন্তত ১০/২০ জন গুন্ডা থাকে তার সঙ্গে। এগুলোকে মাসিক অথবা সাপ্তাহিক টাকা দেন সিমা।

এসব বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রলয় কুমার বলেন, আমি এ থানায় এসেছি এক বছর হল। আমি তাকে ওইভাবে চিনি না। বিভিন্ন প্রোগ্রামে তাকে দেখেছি। সে ভোটেও দাড়িয়েছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না বলতে পারবো না। তবে এক বছরের মধ্যে হয়নি। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

মাদক ব্যবসার সঙ্গে তিনি যুক্ত এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি সরাসরি কোনে উত্তর দেননি।

খিলগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খিলগাঁও থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা আছে বলে মনে হয় না। রামপুরায় কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি শুনেছেন ওই নারী মাদক ব্যবসায় যুক্ত। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার খন্দকার নূরুন্নবি বলেন, যেহেতু তার নিকট থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমা যে মাদকসম্রাজ্ঞী আমরা তা জানি। তাকে গ্রেপ্তারের পর তার নিকট থেকে কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। সে যে গ্রুপগুলোর মাধ্যমে ব্যবসা করছিলো তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের টিম কাজ করছে।