‘ওরা ১১ জনের কেউ কেউ ভুল বুঝেছিল, দিয়েছে কষ্ট’

জাফরের ঘিলু সিঁড়িতে কালচে হয়ে ছিল শুকিয়ে যাওয়া রক্তে। অথচ ওখানে আমার ঘিলু থাকার কথা ছিল। ২৫ মার্চ রাতে টেকনাফ থেকে ইকবাল হলে ফিরে এসেছিল জাফর, যুদ্ধ করবে পাকিস্তানীদের সঙ্গে এই ভেবে। আর আমি ভাই-ভাবীর অনুরোধে সে রাতে ফিরেছিলাম গোপীবাগের বাসায়। সম্ভবত ৮টা-সাড়ে ৮টার দিকে। মাঝরাতে হামলা করল পাকিস্তানী বাহিনী। ইকবাল হল, রাজারবাগে। গোপীবাগে বসে শুনছি গুলির শব্দ চারপাশে। যা বোঝার বুঝে নিয়েছিলাম। যুদ্ধ শেষে ফিরে ইকবাল হলে যাই। যেটা আজকের সার্জেন্ট জহুরুল হক হল। হলের দারোয়ান মামা দেখালেন জাফর আলমের সে দৃশ্য। জানালেন, আজাদ পত্রিকায় কাজ করা চিশতীকে গুলি করে সবার শেষে মেরেছিল পাকিস্তানী বাহিনী সে কথা। বললেন, মামা আপনারা অনেকে আসলেন ফিরা, অনেকে তো আসলো না। সে কথাটা মাথায় ঘুরছিল।

মুক্তিযুদ্ধের পর দৈনিক ইত্তেফাকের ‘রুপবাণী’তে থেকে সিনেমা বিষয়ক লিখতাম। নিজে ‘নূপুর’ নামে মাসিক পত্রিকা বের করতাম। অনেকে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে থাকেন।  সেখানে মূল উদ্দেশ্য মুহূর্তগুলোকে নিজের ক্যামেরায় ধারণ করা। ঠিক তেমনি আমিও মূলত যুদ্ধের মুহূর্তগুলোকে ধারণ করে রাখতে সিনেমাটি নির্মাণ করেছিলাম।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের প্রত্যেকের জীবনে কিছু ঘটনা ঘটেছিলো। সে ঘটনাগুলোকে মালার মত করে গাঁথতে চেয়েছিলাম। সে সময় সম্ভবত ‘চিত্রালী’তে মাসুম ইয়াহুদী নামে একজন লিখত। এমন ভাবে লিখতেন চলচ্চিত্রের বিভিন্ন মানুষকে ধরে, যে মনে হত তিনি ঘটনাস্থলে আছেন। অথচ যাকে নিয়ে লিখছেন সে বুঝত কিন্তু তার নাম দেওয়া থাকতনা। পরে জানলাম যে লিখছেন সে বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার আল মাসুদ। চাষীর মাধ্যমে তার কাছে গেলাম। চাষী নজরুল ইসলাম-এর মাধ্যমে আমি তার সঙ্গে পরিচিত হই। তখন আমি আল মাসুদকে ‘ওরা ১১ জন’ সিনেমার গল্পগুলো শুনাই। তিনিই পরে আমার ছোট ছোট ঘটনার ফুলগুলোকে একসঙ্গে মালায় গেঁথে দিয়েছেন।

এবং ‘ওরা ১১ জন’ : ১১ জন যে যোদ্ধা ছিল চলচ্চিত্রে তাদের মধ্যে একজন শুধু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেননা। তার নাম আলতাফ। তিনি খ্যাতিমান অভিনেতা ছিলেন। যদিও যুদ্ধে যাননি তবে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক ছিলেন। ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘এতটুকু আশা’র মত চলচ্চিত্র করেছেন। একটি মুক্তিযোদ্ধা চরিত্র ছিল যে যুদ্ধে পা হারাবে। এমন অভিনয় সমৃদ্ধ চরিত্র প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে করা যেতনা বলে মনে করে তাকে নেওয়া হয়। বাকী সবাই ছিল মাঠের যোদ্ধা।  খসরু, ফিরোজ,  নান্টু, মুরাদ, অলিন, বেবী, আতা, আবু, হেলাল ও মঞ্জু। একেকজন একেক গ্রুপে যুদ্ধ করেছে। মূলত চলচ্চিত্রে এদের এক সুতায় গেঁথেছিল খসরু।

এই ১০ জন যোদ্ধার মধ্যে ২ জন চলচ্চিত্রে নিয়মিত হয়েছিল। একজন খসরু আর আরেকজন নান্টু। ফিরোজের সিনেমা হল আছে। চলচ্চিত্র ব্যবসায় জড়িয়েছিল ঠিক তবে রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী হয়েছিল। খসরুর সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয়েছে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে। ওপেন হার্ট অপারেশন শেষে এখন বিশ্রামের জীবন। কাজী ফিরোজ রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে ভীষণভাবে। একই দলে রাজনীতি করি। এখন সে এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ। জগন্নাথ হলের ভিপি ছিল। প্রায়ই ইকবাল হলে আসত। সে সূত্রে বন্ধুত্ব হয়েছিল। তাকে মনে হয়েছিল নেওয়া যায়। নান্টু, সিদ্দিক জামাল নান্টুকে নিয়ে এসেছিল খসরু। আমার বন্ধু। এসে বলেছিল এই ছেলেটা যুদ্ধ করেছে। মাতিয়ে রাখতে পারে পুরো পরিবেশ। ওকে ‘ওরা ১১ জন’ এ নেওয়া যায়না? না করার মত কিছু দেখিনি। হেলাল ছিল মগবাজারের বড় গুণ্ডা। রাজ নামে পরিচিত ছিল। সাহসী যোদ্ধাও ছিল।  আতার সঙ্গে যোগাযোগ আছে। গোপীবাগেই থাকে। ভাই ভাই বলে এখনও।

নান্টু, মুরাদ, বেবী, হেলাল পৃথিবীতে নেই। আবু মানে জনি আর অলিন সম্পর্কে এখন কিছু জানা নেই। তাই কিছু বলতেও পারবনা।

যেভাবে ‘ওরা ১১ জন’ এবং… :  যারা ছবি ডিস্ট্রিবিউশন করত তারা ছবি প্রযোজনা করতনা। ছবির প্রোডিউসার যে সে বড় আর্টিস্ট সাইন করে কয়েকদিন কাজ করত। দুতিনদিন বা চার পাঁচ দিন যার সামর্থ্যে যতটুকু কুলায়। তারপর সে শুট নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে যেত। স্টার, ফেমাস এরকম ১০-১৫টি বড় ডিস্ট্রিবিউটর ছিল। ‘ডিল’ হত যে ছবি মুক্তির পর তারা তাদের বিনিয়োগ নিয়ে নেবে। এরপর যা লাভ হবে তার ২০ ভাগ তারা নেবে এবং বাকী ৮০ ভাগ প্রযোজক। ফলে ছবি হিট বা ফ্লপ হোক তাতে ডিস্ট্রিবিউটরের কোন ঝুঁকি ছিলনা।

তো আমি স্টার ডিস্ট্রিবিউটর এর মালিক ইফতেখার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, খসরু অভিনয় করতেছে। যুদ্ধের পরে খসরু-মন্টু নাম ছিল অনেকটা স্টার ভ্যাল্যুর মতো। বললাম খসরু আছে ছবিতে। স্টার জড়াল আমাদের সঙ্গে। পাশাপাশি বলল, কিছু তারকাকে ছবিতে নিলে তারা বেশি টাকা দিতে পারে। আমরা যুদ্ধ শেষে ফিরে আসার পর যা বলব তাই হবে। রাজ্জাক-শাবানাদের কাছে তারপরও ভয়ে ভয়ে যাওয়ার পর তারা বিনা পয়সায় কাজ করে দিতে চেয়েছে। কে কাজ করতে চায়নি ‘ওরা ১১ জন’ এ। মুস্তাফিজ সাহেব এই চলচ্চিত্র বিনা পয়সায় পরিচালনা করতে চেয়েছেন। কিন্তু আমি ঠিক করেছিলাম চাষী নজরুলকে দিয়ে কাজ করাব। কারণ তাকে আমি কথা দিয়েছিলাম। নিজের কথার বরখেলাপ করতে চাইনি। এসএম শফির প্রধান সহকারী ছিলেন চাষী। তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসীব করুন। কিন্তু তিনি কোনদিন ছবিটির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আমার নাম নেননি। চাষী নজরুল ইসলামকে মাসে ৫০০ টাকা দিতাম। তখন ১০০ টাকায় ১ ভরি সোনা মিলত। বলেছিলাম, আপনার অন্য দিকে মনোযোগ দেওয়ার দরকার নেই। ছবিটায় মনোযোগ দেন। টাকা আপনার স্ত্রীর হাতে দিয়ে আসব। সে আমার ক্লোজ বন্ধু ছিল। তার ওপর কিছুটা মনক্ষুন্ন হয়েছিলাম।

অনেকে এমন ভাবে বলতেন যেন চাষী পরিচালক হয়েই এসেছিল। অথচ সহজ বিষয় এই যে, প্রযোজনা না করলে ছবিটি কি করে হতো? এমনও বলতে শুনেছি, এত টাকা মাসুদ পারভেজ কোথা থেকে পেল। চাষী, খসরু এরাও হয়ত টাকা দিয়েছে। একদম না। মায়ের কাছ থেকে, ছোট বোন, তার হাজবেন্ড, আমার বই লেখা আর পেপার বের করার টাকা নিয়ে ‘ওরা ১১ জন’ এর কাজ শুরু করেছিলাম। সে টাকা ফুরিয়ে আসার কিছুদিন আগে স্টার এর সঙ্গে ৫ বছরের চুক্তি হয়। ফলে পুরো কাজ করতে কোন অসুবিধা হয়নি। আমার ৫৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল সব মিলে।

ছবিটি রিলিজের আগে চারপাশে ছড়িয়ে গেল যে ছবিটি ব্যবসা করবে। তবে মুক্তির আগে যে ১১ জনের মধ্যে ৫-৬ জন মুক্তিযোদ্ধা, যারা ছবিতে ছিল, তারা কিছুটা ভুল বুঝেছিল। এ ভুল বোঝাটা মূলত প্রয়াত চাষী নজরুল ইসলামের স্ত্রীর মাধ্যমে হয়েছিল। যদিও সেটা পরে কেটে গিয়েছিল। ওদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলি। ওরা বলে, ‘বন্ধু তোমার যে খরচ হয়েছে সে টাকাটা নিয়ে যাও। তারপর লাভ আরও ১ লাখ টাকা নাও। তারপর যদি কিছু থাকে তবে আমাদের কিছু দিও। যদি আমরা এখানে কাজ না করে অন্য কিছু করতাম তাও তো কিছু আয় হতো।’ আমি তাতে দোষের কিছু দেখিনি। অন্যায় মনে হয়নি ওদের চিন্তা। কারণ তারা তো অভিনয় করেছিল। দেড় দুই মাস যে  তাদের তো প্রাপ্য রয়েছে।

চাষীকে বলেছিলাম, আপনার কি চাওয়া? তখন তিনি বলেছিলেন, খসরুর কাছে দিয়ে দিলেই হবে। ইফতেখারুল আলম এখনও বেঁচে আছেন। তাকে জিজ্ঞাসা করলে সত্যাসত্য মিলবে। তাকে বলেছিলাম, আমার ভাগে যে টাকা থাকবে তার ৪০ পার্সেন্ট খসরুদের দেবেন। তিনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, আপনি জানেন আপনি কত টাকা লস করছেন। আমি বলেছিলাম, লস কোথায়? দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র হিসেবে আমার নাম থাকবে। যে টাকা খরচ করেছি তা তো ফিরে এসেছেই। এর দ্বিগুণ লাভও নিয়েছি। তারপর যা আসছে সেখান থেকে ৪০ পার্সেন্ট দিচ্ছি সেটাতো খুব বেশি না। যাহোক, খসরুর লোকজন ১০ জনের টাকা নিয়ে যেত। তবে কয়েকজনকে হয়ত টাকা খসরু ঠিক মত দেয়নি। একদিন ফিরোজ বলল, দোস্ত তুই বলে সবাইরে টাকা দিতেছস। কই আমি তো কিছু পাইনাই। তখন সাথে থাকা ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। আতা নামে একজন ছিল তাকে ১৫ হাজার দিয়েছিলাম। পরে চাষী বলতেন যে, আমাকে কোন পেমেন্ট দেওয়া হয়নাই। সরাসরি তাকে একবারে কোন টাকা দেইনি এটা সত্য। মাসে ৫০০ টাকা করে দিতাম। পরে যে টাকাটা তাকে দেওয়ার কথা ছিল সে নিজে বলেছিল খসরুকে দিলে হবে। এখন খসরু যদি না দিয়ে থাকে সেটা কি আমার দোষ?

‘ওরা ১১ জন’ আমাকে সব দিয়েছিল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা। কিছু অভিমানও দিয়েছে। দিয়েছে কষ্ট। অভিমান এবং কষ্টগুলো নিজের থাক। রাষ্ট্র এতদিন বোঝেনি। বোঝাতেও চাইনা।- চ্যানেল আই অনলাইন

মন্ত্রীপুত্র থেকে শুরু করে ‘ইয়াবা ডন’ কার্লোসের সহযোগী বান্ধবী যে চার মডেল!

অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ডে তিনি কার্লোস নামে পরিচিত। এসব দেশের মাদক মাফিয়াদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। বিদেশে সবাই তাকে চেনে ‘ঢাকার ইয়াবা ডন’ হিসেবে। মাদক ব্যবসার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর সরকার যার বিরুদ্ধে হুলিয়া জরি করে ২০১৪ সালে। বর্তমানে তার ইয়াবা নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক ঘিরে। এত নেতিবাচক বিশেষণে যিনি পরিচিত তার পুরো নাম আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ ওরফে সালেহ চৌধুরী ওরফে কার্লোস। অবশ্য প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ঢাকার পরিচিত মহলে তিনি নিজেকে সামুদ্রিক পণ্য ও কোমল পানীয়র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন।

কিন্তু এক গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় তার সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। খুবই মর্মান্তিক ও স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর কোনো তদবিরই তাকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেনি। গেল শুক্রবার তাকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে হয়। এরপর তার অন্ধকার জগতের নানা কাহিনী বেরিয়ে আসতে থাকে। ইয়াবা ব্যবসাসহ অস্ত্র ও মানব পাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার ভয়ঙ্কর তথ্য পাচ্ছে তদন্তকারী দল।

জানা যায়, উচ্চাভিলাষী নেশা তাকে পেয়ে বসে। তাই অল্প বয়সেই পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু রাতারাতি বড় হওয়ার নেশায় শুরুতে তিনি ঢুকে পড়েন অপরাধ জগতে। আর অপরাধ বলতে ছোটখাটো কোনো অপরাধ নয়, একেবারে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্যের খাতায় নাম লেখান। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। মাত্র ১০ বছরেই হয়ে যান শত কোটি টাকার মালিক। সেই টাকার জোরে রাজধানীর অভিজাত সমাজে ওঠাবসার টিকিট পেয়ে যান।

শক্তিশালী ইয়াবা নেটওয়ার্ক: সূত্র জানায়, আবু জাফর মোহাম্মদ কার্লোস সরাসরি ইয়াবা ব্যবসায় নাম লেখানোর আগে ওষুধ কোম্পানিতে ব্যবহৃত কয়েকটি রাসায়নিক উপাদান আমদানির ব্যবসা শুরু করেন। এর একপর্যায়ে তিনি ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত মিথাইল এমফিটামিন নামের রাসায়নিক আমদানির চেষ্টা করেন। কিন্তু সে চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ঢাকার একটি নামকরা ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে বিশেষ সখ্য গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে ওই কোম্পানির মাধ্যমে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত সিইডো এফিড্রিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক আমদানি শুরু করেন। এই সিউডো এফিড্রিনকে মিথাইল এমফিটামিনে রূপান্তর করে তিনি ইয়াবা বড়ি তৈরির ব্যবসা শুরু করেন।

সূত্র বলছে, সিউডো এফিড্রিনকে বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করে মিথাইল এমফিটামিনে রূপান্তর করা হয়। ইয়াবা তৈরির মূল উপাদান হচ্ছে এই মিথাইল এমফিটামিন। তবে কার্লোসের সহযোগিতায় সিউডো এফিড্রিন আমদানির পর সেটি কোথায় মিথাইল এমফিটামিনে রূপান্তর করা হচ্ছে তা এ পর্যায়ে জানা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ এ তথ্যটি জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

সূত্র জানায়, একটি চক্র ওষুধ কোম্পানির নামে সিউডো এফিড্রিন আমদানি করে অতি গোপনে তা কালোবাজারে বিক্রি করে আসছিল। স্পর্শকাতর এই রাসায়নিক উপাদানের এমন অপব্যবহারের খবর প্রথম সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নজরে আসে ২০১৩ সালে। সে সময় একটি গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গোপনীয় প্রতিবেদন পাঠায়। ঘটনা জানার পর নড়েচড়ে বসে ওষুধ প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও করা হয়। কমিটির সদস্যরা দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সিউডো এফিড্রিনের অপব্যবহারের প্রমাণ পায়। তারা এই রাসায়নিক আমদানি নিষিদ্ধের সুপারিশ করে।

সিউডো এফিড্রিনের অপব্যবহার সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা গোয়েন্দা অঞ্চলের সাবেক উপপরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারী। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে রাজশাহী অঞ্চলে কর্মরত। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মঙ্গলবার টেলিফোনে তিনি বলেন, সিউডো এফিড্রিনের অপব্যবহার বন্ধ করতে আমরা কঠোর ব্যবস্থার সুপারিশ করেছিলাম। সে অনুযায়ী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে এই রাসায়নিক উপাদানটির আমদানি এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। তবে কালোবাজারে এখনও এটি পাওয়া যাচ্ছে কিনা তা গভীরভাবে ক্ষতিয়ে দেখা দরকার।

প্রধান সহযোগী এক মন্ত্রীর ছেলে: সালেহ আহমেদের ইয়াবা নেটওয়ার্কের প্রধান সহযোগী ও ব্যবসায়িক পার্টনার জনৈক প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর ছেলে। তার ডাকনামের আদ্যাক্ষর ‘র’। বিভিন্ন জায়গায় কার্লোস নিজেকেও ওই প্রভাবশালী মন্ত্রীর ছোট ছেলে বলে পরিচয় দেন। এক সময় তিনি মন্ত্রীর নামের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের নাম বলা শুরু করেন- সালেহ চৌধুরী। মন্ত্রীর ছেলে ছাড়াও কার্লোসের সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এসব কর্মকর্তাদের অনেককে তিনি বিদেশে বেড়াতে নিয়ে যান। সেখানে কার্লোসের টাকায় ওইসব কর্মকর্তারা নাইট ক্লাব ও পাবে (বারের আধুনিক সংস্করণ) গিয়ে ফুর্তিতে সময় কাটান। বিনিময়ে তারাই কার্লোসের ইয়াবা নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত রাখার সব বন্দোবস্ত করে দেন।

সূত্র জানায়, অজ্ঞাত কারণে ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ থানা পুলিশের সঙ্গে তিনি সব সময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। এজন্য থানার ওসিকে খুশি রাখতেন কার্লোস। প্রতি মাসেই ওসির সঙ্গে দেখা করে মোটা অংকের বকশিশ দিতেন। ওসির স্ত্রীদের জন্য বিদেশ থেকে আনতেন নামিদামি উপহার। এছাড়া মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গেও তার বিশেষ ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল। কয়েক মাস আগেই দু’জন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা তার সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ করেন। কার্লোসের সাবেক এক বান্ধবী বলেন, বিদেশে থেকে এলেই কার্লোস সংশ্লিষ্ট থানায় চা খেতে যেতেন। ওসির সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তিনি সব সময় বলতেন থানা তার হাতের মুঠোয়। পুলিশ তাকে কখনই গ্রেফতার করবে না। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার কাছ থেকেও এ রকম তথ্য পাওয়া যায়। কার্লোস গ্রেফতারের পর তারাও বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করেছেন।

অস্ট্রেলিয়া-সিঙ্গাপুর থেকে বহিষ্কার: নারী নির্যাতন ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে কার্লোসকে বহিষ্কার করা হয়। ২০১৪ সালের পর তিনি এ দুটি দেশে আর প্রবেশ করতে পারেননি। সূত্র জানায়, অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সময় তিনি এক অস্ট্রেলীয় নারীকে বিয়ে করেন। সেখানে তার এক ছেলেও আছে। কিন্তু মাদকাসক্ত কার্লোস স্ত্রী সন্তানের ওপর নির্যাতন চালাতেন। পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ গেলে অস্ট্রেলীয় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এক পর্যায়ে তাকে সেদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

জানা যায়, অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কারের পর তিনি সিঙ্গাপুরে আস্তানা গাড়েন। কিন্তু সেখানেও একই ঘটনা ঘটে। সিঙ্গাপুরে সেলিনা লিন নামের এক তরুণীর সঙ্গে তিনি সম্পর্কে জড়ান। পরে সেলিনা লিন জানতে পারেন, কার্লোস একজন বড় মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর সিঙ্গাপুর সরকার তাকে সে দেশে আজীবন নিষিদ্ধ করে।

সূত্র জানায়, কার্লোস সব সময় একাধিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেন। তার ফ্ল্যাটেও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আছে। একটি রিভলবার ও একটি পিস্তল তিনি সব সময় সঙ্গে রাখেন। কারও সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলেই এ দুটো অস্ত্র বের করে তিনি ভয় দেখান।

শুধু তাই নয়, কার্লোসের তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। কিন্তু এসব গাড়ি চোরাই মার্কেট থেকে কেনা। তাই এসবের বৈধ কাগজপত্র কিছুই নেই। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে প্রতিটি গাড়িতেই সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো। গাড়িগুলোর মধ্যে একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ, একটি ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো ও একটি নিশান পাজেরো জিপ। তিনটি গাড়িই সাদা। এসব গাড়ির মধ্যে শনিবার মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িটি জব্দ করেছে র‌্যাব-৩। বাকি দুটি গাড়ির সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব।

এখানেও সাফাত-রনি গ্রুপ: বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও জনৈক মন্ত্রীর ছেলের সঙ্গে কার্লোসের ঘনিষ্ঠতা একেবারেই ওপেন সিক্রেট। তাদের সঙ্গে আছেন দেশের একজন নামকরা ক্রিকেটার। কার্লোস এদের সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত তার ফ্ল্যাটে ‘রুমপার্টি’ করতেন। সেখানে যোগ দিতেন শোবিজ জগতের নামিদামি মডেল ও অভিনেত্রীরা। কার্লোসের এক বন্ধু বলেন, অঢেল টাকার সুবাদে কার্লোসের কালো হাতের ছায়া পড়ে বাংলা সিনেমার জগতেও। কিছুদিন আগে ‘অস্তিত্ব’ নামের সিনেমায় টাকা লগ্নি করেন তিনি। তার প্রোডাকশন হাউস ড্রিম বক্স-এর ব্যানারে এ ছবি নির্মিত হয়। তবে বাংলা সিনেমায় টাকা লগ্নি করার পেছনে তার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। সিনেমা বানানোর আড়ালে দেশের প্রতিষ্ঠিত ও নামকরা অভিনেত্রী থেকে শুরু করে উঠতি মডেলদের নিয়ে তিনি দেশ-বিদেশে ঘুরতেন। এদের মধ্যে আছেন জনৈক মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া বিপাশা, তানভিয়া জামান মিথিলা এবং আরেকজন বিতর্কিত পিয়াসা। এদের মধ্যে ফ্যাশন হাউস এক্সটেসির মডেল তানভিয়া জামান মিথিলার সঙ্গে তার লিভটুগেদার চলছিল বলে জানা গেছে। এসব মডেল অভিনেত্রীর একান্ত সান্নিধ্য উপভোগ ছাড়াও ব্যাংককের বড় বড় ডিস্কোতে তিনি মধ্যমণির আসন দখল করে রাখতেন। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের পর্যটননগরী পাতায়ার রাশিয়ান ক্যাবারে ড্যান্সারদের নাচ দেখে তিনি দু’হাতে ডলারের বান্ডেল ছুড়ে দিতেন। এ ছাড়া ঢাকার গুলশান-১ এলাকায় অবস্থিত মিরেজ নামের একটি শিশা বারে নিয়মিত আড্ডা জমাতেন কার্লোস। সেখানে গার্লফ্রেন্ডদের নিয়ে হ্যাংআউট (মদ ও ইয়াবা সেবন) পার্টি করতেন।

সূত্র জানায়, অস্তিত্ব সিনেমা বানানোর পর কার্লোস ঢাকার সিনেমা পাড়ার নামিদামি নায়িকাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। এসব নায়িকার অনেককে নিয়ে তিনি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় যাতায়াত শুরু করেন। এদের কয়েকজনের সঙ্গে তিনি লিভটুগেদারও করছিলেন। রাজধানীর পরীবাগের ফ্ল্যাটে চিত্রনায়িকা সাবিনা রিমাকে নিয়ে তিনি লিভটুগেদারে মেতেছিলেন বছর খানেক ধরে। সাবিনা রিমাকে পাওয়ার জন্য তিনি ওই ফ্ল্যাট কেনেন ১০ কোটি টাকায়। ফ্ল্যাটের সাজসজ্জায় ব্যয় করেন আরও অন্তত ৩ কোটি টাকা। এমন প্রাচুর্য আর আভিজাত্য দেখে সাবিনা রিমা নিজেকে কার্লোসের হাতে সঁপে দেন। কিন্তু কিছুদিন পরই তার ভুল ভাঙে। ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কার্লোসের হাত থেকে এত সহজে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ ছিল না। শুক্রবার যৌন উত্তেজক ইনজেকশন নিয়ে তিনি একই সঙ্গে বাসার গৃহকর্মী ও সাবিনা রিমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। নির্যাতন শেষে গৃহকর্মীকে সাত তলার ছাদে নিয়ে নিচে ফেলে দেন কার্লোস। পরে পুলিশ গুরুতর আহত গৃহকর্মীর সঙ্গে সাবিনা রিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে অবশ্য সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়ে সাবিনা হাসপাতালের বিছানা থেকে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যান।

সূত্র বলছে, সিনেমা পাড়ায় কার্লোসে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন অনন্য মামুন নামের এক চিত্র পরিচালক। অনন্য মামুনকে গ্রেফতার করতে পারলে কার্লোসের ইয়াবা নেটওয়ার্কের অনেক তথ্য মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: যুগান্তর

ঘুষসহ হাতেনাতে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ঘুষের টাকাসহ ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দীনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গ্রেপ্তারকালে তার দেহ তল্লাশি করে আরো ২৬ হাজার ৯০০ টাকা পায় দুদক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে অজয় চন্দ্র রায় নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণকালে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য‌ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক সূত্র আরো জানায়, অভিযোগকারী অজয় চন্দ্র রায় তার নামে নতুন জরিপের ওপর নামজারি করতে পূর্বের মাঠ জরিপের নামজারি ও ভূমি কর পরিশোধ সংক্রান্তে রেকর্ডপত্র দাখিল করার জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। এ সময় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন অফিস খরচ বাবদ তার কাছ থেকে ১৩০০ টাকা আদায় করেন।

পরবর্তীকালে অভিযোগকারীর কাছে আরো ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। শুধু তাই নয়, ওই টাকা না দিলে নামজারি সংক্রান্ত প্রস্তাব সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে প্রেরণ করবেন না বলেও জানান তিনি।

সূত্র জানায়, এ বিষয়ে তিনি অভিযোগ করলে দুদক ওই ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তরের জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করে। এরপরই দুদকের পরামর্শে হেলাল উদ্দীনকে ওই কর্মকর্তার নিজ দপ্তরে চার হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে দুদক।

গ্রেপ্তারের পরপরই দুদকের ময়মনসিংহের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেন।

অনার্স ২য় ও ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের অনার্স ২য় বর্ষ (বিশেষ) পরীক্ষার ফরম পূরণ আগামী ৭ আগস্ট থেকে এবং ২০১৬ সালের অনার্স ৩য় বর্ষ (বিশেষ) পরীক্ষার ফরম পূরণ আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতর এ তথ্য জানিয়েছে।

শুধুমাত্র অনিয়মিত ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ২০০৯-১০ হতে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। ফরম পূরণসহ অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.nu.edu.bd) ও (www.nubd.info) থেকে জানা যাবে।

সতর্ক করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের ৬ বিতর্কিত এমপিকে

উৎপল দাস: নিজ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় কোন্দল, দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এমন এমপিদের ঢাকায় ডাকা হচ্ছে। সতর্ক করা হচ্ছে তাদের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে। পাশাপাশি এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সব ধরনের বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশও দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে বেশ কয়েক নেতাকে দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ডেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পক্ষে তাদের সতর্ক করেছেন। প্রথম দিকে ঢাকার এমপিদের দলীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট নেতারা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলার নেতাদেরও ডাকা হবে।

দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ডাক পেয়েছেন এমন দুজন এমপি বলেন, দলীয় সভাপতির পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক তাদেরকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও নৌকার পক্ষে এখন থেকেই ভোট চাওয়ার কথা বলেছেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় দ্বন্দ্ব নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংসদ সদস্য যারা বেপরোয়া হয়ে গেছেন, যাদের কাজকর্মে জনমনে ক্ষোভ ও বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে তাদের ডেকে সতর্ক করে দিচ্ছেন। তাদের ভালো হওয়ার কথা বলেছেন, সংশোধন হওয়ার কথা বলেছেন। জনগণ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে, যারা জনগণের দুর্ভোগের কারণ, দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করছেন, বিভেদ তৈরি করছেন, উপদল তৈরি করছেন, আত্মীয়করণ করছেন তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না। এটা যেমন আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, সাধারণ সম্পাদকও বলছেন। তিনি বলেন, ঢাকা-২০ আসনের এমপি এম এ মালেককেও দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এম এ মালেক বলেন, ওবায়দুল কাদের আমাকে ডেকেছিলেন। তিনি বলেছেন, তোমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করো। নির্বাচন কঠিন হবে। তাই এখন থেকেই তোমরা নির্বাচনের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ো। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন, তার নির্দেশে তোমাদের ডাকছি। তিনি বলেন, শুধু আমাকে নয় ওইদিন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, ঢাকা-১৯ আসনের এনামুর রহমানকেও ডাকা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের আমাদের বলেছেন, নির্বাচনী এলাকায় যারা বিরোধিতা করে তাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করো। বিতর্কিত এমপি ও নেতাদের দলীয় কার্যালয়ে ডেকে সতর্ক করা প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, যারা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন দলের পক্ষ থেকে তাদেরই মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে প্রার্থীদের ডেকে সতর্ক করলে যতটুকু না ফলদায়ক হবে বরং দলীয়ভাবে দ্বন্দ নিরসনের উদ্যোগটা বেশি ফলদায়ক হবে। কারণ কোনো কারণে বা প্রয়োজনে প্রার্থীদের কোনো গ্রুপ হয়তো তাকে সাপোর্ট করে আবার কোনো গ্রুপ করে না। তো তারা (এমপি বা নেতা) কীভাবে রিলেশন করবে? সুতরাং এটা দলীয়ভাবেই উদ্যোগ নেয়া উচিত। আমি মনে করি যাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তাদের ডেকে দলীয়ভাবে উদ্যোগ নিলে আরও বেশি ফলদায়ক হবে।

এদিকে নির্বাচনকে টার্গেট করে এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকামুখী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপিরা। যোগ দিচ্ছেন নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। বাড়িয়েছেন অনুদানের পরিমাণও। সব মিলিয়ে তাদের টার্গেট আগামী নির্বাচনে আবারও দলের টিকিট পাওয়া। কয়দিন আগেও নির্বাচনী এলাকার মানুষরা যেসব এমপিদের কাছে পাননি এখন সব সময়ই তাদের কাছে পাচ্ছেন। এমপিরা অনেকের বাড়িতে গিয়েও খোঁজ নেয়া শুরু করেছেন। আগে সহকারীদের মাধ্যমে অনুদান দেয়া বা সামাজিক কর্মসূচি পালন করলেও এখন নিজেরাই এসব করছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তারা। কীভাবে জনসংযোগ বাড়িয়ে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া যায় তা নিয়ে সতর্ক হচ্ছেন আওয়ামী লীগের এমপিরা। ভোটারদের মন জয় করতে নতুন নতুন প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন কেউ কেউ। এলাকায় যোগাযোগ বাড়াতে কিছুদিন আগে এমপিদের পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও। এ কারণে আগে যারা মাসে একবারও এলাকায় আসতেন না তারা সপ্তাহে অন্তত তিন-চার দিন থাকছেন এলাকায়।

গত ৭ই মে সংসদ সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে এমপিদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন শেখ হাসিনা। ওইদিন তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন কাউকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে না। আগামী নির্বাচন সহজ হবে না। অনেক কঠিন হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে। সরকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে বলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগলে কিংবা নির্বাচনকে সহজভাবে নিলে চলবে না। জনগণের কাছে যেতে হবে। কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মানুষের কাছে তুলে ধরে জনগণের মন জয় করতে হবে। দলীয় প্রধানের ওই নির্দেশনার পর মূলত জনবিচ্ছিন্ন এমপিরা এলাকায় নতুন করে যাতায়াত বাড়িয়ে দেন। সম্প্রতি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিতর্কিত ও জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবে না।

এমপিদের কোটি টাকার গাড়িতে সংসদে জলকেলি

সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে মাঝারি থেকে টানা ভারি বর্ষণে সারাদেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক সর্বত্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধ সড়কে চলাচলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল প্রায়ই বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্কুল-কলেজসহ অফিসগামীদের। জনদুর্ভোগের এ অভিন্ন চিত্র রাজধানীর অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে নগরীর সর্বত্রই বিরাজমান।

টানা বর্ষণের পাশাপাশি রাস্তাঘাট সংস্কার ও খানাখন্দের কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে দ্বিগুণ। বুধবার সকালে সরেজমিনে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা সচিবালয়ের আশপাশের সড়ক, পল্টন এলাকা, শান্তিনগর, মগবাজার, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুরের শেওড়াপাড়া-কাজীপাড়া সড়কে হাঁটু পানি জমে থাকতে দেখা যায়। একই চিত্র উত্তরা, রাজলক্ষ্মী, এয়ারপোর্ট, খিলক্ষেত, বিশ্বরোড, বসুন্ধরা, নতুনবাজার, রামপুরা, বাড্ডা ও মালিবাগ সড়কেও। এ সব সড়কে যাতায়াতকারী পরিবহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।

রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকার মতো বিশ্বের অনন্য স্থাপত্যকলা জাতীয় সংসদ ভবনও জলমগ্ন হয়েছে।

বুধবারের বৃষ্টিতে সংসদের চারদিকের রাস্তার তিনটিই পানির নিচে চলে যায়। এমনকি সংসদের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ দিয়ে সংসদে প্রবেশ রাস্তাটিতেও হাঁটু পানি জমে যায়। আর সেই পানিতে জলকেলিতে মাতে এমপিদের শুল্কমুক্ত কোটায় আনা কোটি টাকার দামের গাড়ি।

বুধবার জাতীয় সংসদে দুটি সংসদীয় কমিটির বৈঠক ছিল। এছাড়া অনেক এমপির অফিস সংসদ ভবন ও এমপি হোস্টেলে। এজন্য বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাদের সংসদে প্রবেশ করতে হয়েছে। কিন্তু ন্যাম ফ্ল্যাট থেকেই শুরু হয়েছে জলজট। সংসদ এলাকায় প্রবেশের মুখে তা আরও বেড়ে যায়।

এমপিদের চার থেকে সাড়ে চার হাজার সিসির ডিজেলচালিত দামি বিলাসবহুল ল্যান্ডক্রুজার, প্যারাডো ও পাজেরো জিপ চলতে দেখা যায় সংসদের সামনের জলমগ্ন সড়কে।

ধবধবে সাদা, টকটকে লাল বা গাঢ় নীল রঙের এসব গাড়ি ছুটে চলার সময় দুই পাশের পানি ছিটকে পড়ে। দেখে মনে হয় যেন নানা রঙের জলপরী ছুটছে। অনেকে ওই একই পথে বারবার গাড়ি চালাচ্ছিলেন। জলের এমন নৃত্য দেখে ভেতরে থাকা আরোহীরাও উল্লাস প্রকাশ করছিলেন। কোনো কোনো গাড়ির চালক আবার গাড়ি ধুয়ে-মুছে নিচ্ছিলেন।

এমপির নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাদা ল্যান্ডক্রুজার গাড়ির চালক মুসলেম উদ্দিন জানান, সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদী স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের গাড়ি এটি। গাড়ি ধুয়ে নিতে বার বার একই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন তিনি।

সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাজী কেরামত আলী বৈঠক শেষ করে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ঢাকায় এমন বৃষ্টি খুব কমই হয়। এ বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের অনেক অসুবিধা হয়। প্রাণহানি ঘটে, ফসলের ক্ষতি হয়। তবুও আমরা অনেকে বৃষ্টি ও এর পানি ভালোবাসি। কারণ এটি আল্লার অশেষ নেয়ামত।

জানা গেছে, নবম সংসদে ৩৫০ জন এমপির মধ্যে ৩১৫ জনই শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা নিয়েছেন। আগেরবার সুযোগ পাননি এমন সব এমপিই চলতি জাতীয় সংসদে শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি এনেছেন। এমপিদের জন্য শুল্কসহ যাবতীয় করমুক্ত গাড়ি আমদানির প্রথম সুযোগ দেন সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ। তার শাসনামলে ১৯৮৮ সালের ২৪ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এ নিয়ে সার্কুলার জারি করেছিল।

এদিকে, জাতীয় সংসদের সামনের রাস্তা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, দুই পাশে মনিপুরীপাড়া ও মিরপুর রোড- পুরোটাই বুধবার সকালে জলমগ্ন ছিল। ফলে সংসদে কর্মরতদের ঢুকতে অনেক সমস্যা হয়। তবে যারা সংসদের বাস ব্যবহার করে অফিসে যান, তাদের তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।

সংসদ এলাকায় এমন পানি জমা নিয়ে কথা হয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজের সঙ্গে। তিনি জানান, বুধবার সকালে এমন বৃষ্টি হয়েছে যে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও তা সামলাতে পারেনি। তবে আগামীতে যাতে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

লন্ডনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের গোপন বৈঠকের খবর কতটা সত্য?

লন্ডনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বৈঠক খবর কতটা সত্য? মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরালের এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লেও কোনো গণমাধ্যমে তা আসেনি। এদিকে পূর্বপশ্চিমের কাছে গোপন বৈঠকের বিষয় বেশ কিছু তথ্য এসেছে। তথ্যের প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের অনুসন্ধান চালাতে পারিনি। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আমাদের কাছে যেসব তথ্য এসেছে সেগুলোর মধ্যে চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়। সেখানে তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে গোপন বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে। খুব গোপনীয়ভাবে সেন্ট্রাল লন্ডনে একটি হোটেলে তারা বসেছিলেন। গোপন ওই বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন তারেক রহমান, লন্ডনে পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন আর এক যুদ্ধাপরাধী আশরাফুজ্জামান এবং লন্ডনের জামায়াতের কয়েকজন নেতা ।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন যাবার পর থেকেই তার উপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। তাদের তথ্য অনু্যায়ী লন্ডনস্থ পাকিস্তান এম্বাসিতে কর্মরত জুনায়েদ নামের এক ব্যাক্তি যিনি সম্ভবত পাকিস্তান এর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আই এর আন্ডার কাভার একজন অফিসার, তিনি খালেদা জিয়ার সাথে তার লন্ডন এ পৌঁছানোর পরই দেখা করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায় ছদ্মবেশী এই জুনায়েদ লন্ডনে থাকাকালীন খালেদা পুত্র এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তথা বাংলাদেশের সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়ার সাথে খুবই নিবিড় ও গোপন সম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। জানা যায়, জুনায়েদের সাক্ষাতের পর পাকিস্তান এর আই এস আই এর পূর্বাঞ্চল গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা রিয়াজ আশফাক লন্ডনে পাড়ি জমান এবং বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাত করেন। জুনায়েদ এবং রিয়াজ এর সাথে উভয় সাক্ষাতই ঘটে লন্ডনের সেইন্ট জেমস কোর্ট এরিয়াতে অবস্থিত তাজ হোটেলে ১৮ এবং ১৯ জুলাই , ২০১৭ সালে, গভীর রাতে।

উল্লেখ্য এই তাজ হোটেলেই তারেক রহমান বাংলাদেশে ২০১৪ সালের নির্বাচনের এর পূর্বে ও পরে তার গোপন বৈঠকগুলো পরিচালনা করতেন। এমনকি এই তাজ হোটেলেই ২০১৪ এর নির্বাচন প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নিশা দিশাই বিলওয়ালের পূর্বে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন এসিটেন্ট সেক্রেটারি রবার্ট ব্লেকের সাথেও দুবার তারেক সাক্ষাত করেছিলেন ।

এই হোটেলটি আই এস আই এর আগেও বহুবার তাদের গোপন বৈঠকের জন্য ব্যবহার করেছে। ১৯৯৫-৯৬ সালে আই এস আই এই হোটেলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনী আব্দুর রশীদ এর সাথে বাংলাদেশ এর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠক করেছিলো বলে জানা যায় ।

এছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাটির রিপোর্টে জানা যায়, আই এস এর সদস্যরা নেদারল্যান্ডের রাজধানীর উপকূলের একটি শহর ব্রেডায় বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সাথে দেখা করে। এছাড়াও বাংলাদেশ বংশোদ্ভুত খালেদ মহিউদ্দিনের সাথেও তারা বৈঠক করে ।

এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি ফারুক-রশিদদের সাথে বৈঠক করে শ্রীলংকার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এল টি টি ই’ র সাথে যোগাযোগ এবং প্রক্রিয়া খোঁজার চেষ্টা করে যে যেভাবে শ্রীলংকান এল টি টি ই যেভাবে আত্মঘাতী বোমা হামলায় রাজীব গান্ধীকে হত্যা করে, তেমন কোন প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যা করা যায় কিনা। কিন্তু সেসময় ইজরায়েলি একটি সংস্থার মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশীয় দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সে তথ্য পেয়ে যায় এবং এই হত্যা চক্রান্ত ভেস্তে যায়।

কিন্তু বর্তমানে এই খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরে আই এস আই এর রিয়াজ এর সাথে বৈঠকের ব্যাপারটি থেকে এই উপমহাদেশের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা করছে হয়তো খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া সহ আওয়ামী বিরোধী চক্র বাংলাদেশ এ নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় বা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে সফররত অবস্থায় বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটানোর প্রচেষ্টা করতে পারে এবং এই আত্মঘাতী বোমা হামলার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে পাকিস্তানের আত্মঘাতী বোমা হামলায় পারদর্শী জিহাদি গোষ্ঠীর সদস্যদের এবং সেই সাথে বাংলাদেশ এ আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের দ্বারা গঠিত আত্মঘাতী শিশু এবং নারী বোমা হামলাকারীদের দ্বারা।

এছাড়া জানা যায় বাংলাদেশের কিছুটা অস্থির পার্বত্য অঞ্চলের সরকার বিরোধী গোষ্ঠীদেরও এই হামলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ।

উল্লেখ্য যে, দুজন আই এস আই অফিসার যাদের নাম জানা যায় যথাক্রমে কর্ণেল বশির এবং মেজর ইমতিয়াজ তারা বর্তমানে হংকং এ সক্রিয় রয়েছে চীন নির্মিত অবৈধ অস্ত্র কিভাবে মায়ানমার-চীন বর্ডার দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী উলফা এবং বাংলাদেশের জন সংহতি সমিতিকে সরবরাহ করা যায় ।

উল্লেখ্য কর্ণেল বশির এবং মেজর ইমতিয়াজ মায়ানমারের অন্যতম বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী UNITED WA STATE ARMY এর নিকট থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করছে বলে জানা যায় । উল্লেখ্য USWA বর্তমানে মায়ানমার এর অন্যতম বিদ্রোহী বিছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যাদের প্রায় ২৫০০০ সদস্য আছে বলে জানা যায় ।

এমনকি অনেক সূত্র থেকে গোপনে জানা যায়, সংগঠনটি চীনা ভারি অস্ত্র এবং অত্যাধুনিক অ্যান্টি এয়ারক্রাফট মিসাইলও নিজেদের করায়ত্ত করেছে ।

আর UWSA এর তরফ থেকে নেপালি বংশোদ্ভুত শিভ পাণ্ডে নামক একজন এই অস্ত্র কেনা-বেচার মধ্যস্থতা করছেন বলেও জানা যায় ।

তবে, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকের কথা দলটির পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। এমনকি লন্ডনে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী একজনকে ভাইভারে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

সৌজন্যেঃ পূর্বপশ্চিম