রোহিঙ্গাদের জন্য গাইলেন কবীর সুমন, বর্মিদের বর্বরতা নিয়ে যা বললেন…

জুমবাংলা ডেস্ক: আরো একবার গর্জে উঠলো কবীর সুমনের প্রতিবাদী সত্ত্বা, মিয়ানমারে চলতে থাকা রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের নিন্দা করে রচনা করলেন নতুন গান।

পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত এই সংগীতশিল্পী বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ফেইসবুক ফ্যানপেইজ আর সাউন্ডক্লাউডে প্রকাশ করেন ‘রোহিঙ্গা’ শিরোনামের গানটি।

এক সাক্ষাৎকারে কবীর সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কলকাতার অনেক বন্ধুরা আমাকে অনুরোধ করেছিলো এরকম একটা গান লিখতে, সেকথা সত্যি। এরকম বিষয়ের উপর তো আসলে গান করতে খুব কষ্ট হয়। তারপরও করলাম, একটা সামাজিক সচেতনতার যায়গা থেকে। এই গান থেকে মানুষকে যদি কিছুটা ভাবানো যায়…’

এর পরপরই একটু দম নিয়ে নিজের বক্তব্যের প্রতি নিজেই সন্দেহ প্রকাশ করলেন সুমন।

বললেন, ‘আসলে সেটা এখন আর হয় কিনা জানিও না। এখন আর মানুষ, গান-কবিতা-নাটক থেকে কিছু গ্রহণ করে কিনা… সেটা আর আমার খুব একটা মনে হয় না।’

গান কি তবে এখন আর মানুষকে ভাবায় না?

এমন প্রশ্নে কবীর সুমনের উত্তর, ‘দীর্ধদিন ধরেই তো বেঁচে আছি, গান করছি, গান লিখছি, কিন্তু মানুষ তো বদলায়নি। মানুষ যেরকম বর্বর ছিলো সেরকমই তো আছে। নাহলে রোহিঙ্গাদের সাথে যা করছে ওরা, এটা কি মানুষ করতে পারে? তাই গান লিখে মানুষকে শোধরানো যায় না- এটাই মনে হয় এখন অনেক বেশি।’

কবীর সুমনের ‘রোহিঙ্গা’ শীর্ষক গানটির কথা হুবহু তুলে দেওয়া হলো :

বর্মিবাহিনী নেমেছে মাঠে
রোহিঙ্গা জানে কে গলা কাটে
শান্তিপদ্মে কী ভীষণ হুম
রোহিঙ্গা জানে রাত্রি নিঝুম।

মিডিয়া-ছবিতে অস্ত্র হাতে
গেরুয়াধারীরা অনেক রাতে
রোহিঙ্গাদের নিধনে শান্তি
বর্মিবাহিনী নধরকান্তি।

হাজার বছর আরাকানে বাস
রোহিঙ্গাদের থেঁতলানো লাশ
রোহিঙ্গা মেয়ের গর্ভে লাথি
ভ্রূণ হত্যার মসলাপাতি।

এ হলো মানুষ তীর্থফেরা
সবার ওপরে সত্য এরা
কারা রোহিঙ্গা কী যায় আসে
বসছে শকুন শিশুর লাশে।

স্বাগত শকুন তোমারই যোগ্য
আমরা মানুষ পোকার ভোগ্য
উপড়ানো চোখ তোমাকেই দেব
শুনলে এ গান রোহিঙ্গা ভেব।

আমাদের বাড়ির দুগ্গা পূজোতে আমি আর মা

চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ দশমী। গতকাল ছিল নবমী। নবমীর দিনে জয়া আহসান তার নিজ ফেসবুকে কিছু ছবি আপ করেছেন। ছবিতে দেখা গিয়েছে জয়ার সঙ্গে রয়েছেন তার মা- রেহানা মাসউদ। ছবির উপরে ক্যাপশনে জয়া লিখেছেন- ‘আমাদের বাড়ির দুগ্গা পূজোতে আমি আর মা। শুভ নবমী’।

জয়া আহসানের আপ করা ছবি। ছবি দুটি জয়া আহসানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত।

গুলশান বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনে জয়া আহসান। ছবি: জয়া আহসানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত।
এছাড়াও জয়াকে দেখা গিয়েছে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের ১০ বছর পূর্তি উৎসবেও উপস্থিত থাকতে।
জয়া আহসান বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত অভিনেত্রী। দেশের চৌহদ্দি পেরিয়ে ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদার। ২০১৫ সালে অনিমেষ আইচ পরিচালিত ‘জিরো ডিগ্রি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তুলে নিয়েছেন নিজের ঝাঁপিতে। বাংলাদেশী কিংবা ভারতীয় বাঙালিরা তাকে জয়া আহসান নামে চিনলেও, বাবা মা কর্তৃক প্রদেয় তার নাম হচ্ছে জয়া মাসউদ।

১৫০০ বছর বেঁচে আছে রাসুল (সঃ) এর সাক্ষাৎপ্রাপ্ত বেচে থাকা একমাত্র সাহাবী গাছ

আজো বেঁচে আছে বিস্ময়কর ১৫০০ বছর আগের রাসুল (সঃ) এর সাক্ষাৎপ্রাপ্ত বেচে থাকা একমাত্র সাহাবী গাছ। ইংরেজিতে এ গাছকে বলা হয় The Blessed Tree. শুনতে অবাক লাগলেও কিন্তু বেঁচে আছে গাছটি।

পৃথিবীতে এত পুরনো কোনো গাছ এখনো বেঁচে আছে তা বিশ্বাসযোগ্য না হলেও কিন্তু সত্যি। সাহাবি গাছ এমনই একটি গাছ যে গাছটি অবিশ্বাস্যভাবে শত বর্গ কিলোমিটারজুড়ে মরুভূমিতে গত ১৫০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। দেখতে খুবই সুন্দর গাছটি।

মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশের কারণে জন্ম থেকেই গাছটি ছিল পাতাহীন শুকনো কিন্তু একসময় আল্লাহর হুকুমে গাছটি সবুজ পাতায় ভরে উঠে এবং আজ পর্যন্ত গাছটি সবুজ শ্যামল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

অবিশ্বাস্য এই গাছটি জর্ডানের মরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় দণ্ডায়মান। জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষণা দেন।

৫৮২ খ্রিস্টাব্দে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বয়স তখন ১২ বছর, তিনি তার চাচা আবু তালিবের সঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে মক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

যাত্রাপথে তারা সিরিয়ার অদূরে জর্ডানে এসে উপস্থিত হন। জর্ডানের সেই এলাকাটি ছিল শত শত মাইলব্যাপী বিস্তৃত উত্তপ্ত বালুকাময় এক মরুভূমি। মোহাম্মদ (সা.) এবং তার চাচা আবু তালিব মরুভূমি পাড়ি দেয়ার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন।

তখন তারা একটু বিশ্রামের জায়গা খুঁজছিলেন। কিন্তু আশপাশে তারা কোনো বসার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। চারদিকে যত দূর চোখ যায় কোনো বৃক্ষরাজির সন্ধান পাচ্ছিলেন না।

কিন্তু দূরে একটি মৃতপ্রায় গাছ দেখতে পেলেন তারা। উত্তপ্ত মরুভূমির মাঝে গাছটি ছিল লতাপাতাহীন শীর্ণ ও মৃতপ্রায়। উপায় না পেয়ে তারা মরুভূমির উত্তাপে শীর্ণ পাতাহীন সেই গাছটির তলায় বিশ্রাম নিতে বসেন।

উল্লেখ্য, রাসূল মোহাম্মদ (সা.) যখন পথ চলতেন তখন আল্লাহর নির্দেশে মেঘমালা তাকে ছায়া দিত এবং বৃক্ষরাজি তার দিকে হেলে পড়ে ছায়া দিত।

মোহাম্মদ (সা.) তার চাচাকে নিয়ে যখন গাছের তলায় বসেছিলেন তখন তাদের ছায়া দিতে আল্লাহর নির্দেশে মৃতপ্রায় গাছটি সজীব হয়ে উঠে এবং গাছটির সমস্ত ডালপালা সবুজ পাতায় ভরে যায়।

সেই গাছটিই বর্তমানে সাহাবি গাছ নামে পরিচিত। এ ঘটনা দূরে দাঁড়িয়ে জারজিস ওরফে বুহাইরা নামে একজন খ্রিস্টান পাদ্রি সবকিছু দেখছিলেন।

আবু তালিব মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে পাদ্রীর কাছে গেলে তিনি বলেন, আমি কোনোদিন এই গাছের নিচে কাউকে বসতে দেখিনি।

পাদ্রী বলেন, গাছটিও ছিল পাতাহীন কিন্তু আজ গাছটি পাতায় পরিপূর্ণ। এই ছেলেটির নাম কি? চাচা আবু তালিব উত্তর দিলেন মোহাম্মদ! পাদ্রী আবার জিজ্ঞাসা করলেন, বাবার নাম কি? আব্দুল্লাহ!, মাতার নাম? আমিনা!

বালক মোহাম্মাদকে (সা.) দেখে এবং তার পরিচয় শুনে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পাদ্রীর চিনতে আর বাকি রইল না যে, এই সেই বহু প্রতীক্ষিত শেষ নবী মোহাম্মদ। চাচা আবু তালিবকে ডেকে পাদ্রী বললেন, তোমার সঙ্গে বসা বালকটি সারা জগতের সর্দার, সারা বিশ্বের নেতা এবং এই জগতের শেষ নবী।

তিনি বলেন, আমি তার সম্পর্কে বাইবেলে পড়েছি এবং আমি ঘোষণা দিচ্ছি, এই বালকটিই শেষ নবী।

চাচা আবু তালিব ও মহানবী (সা.) যেই গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি ১৫০০ বছর আগ যে অবস্থায় ছিল আজো সেই অবস্থায় জর্ডানের মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে।

গাছটি সবুজ লতা-পাতায় ভরা এবং সতেজ ও সবুজ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, গাছটি যেখানে অবস্থিত তেমন মরুদ্যানে কোনো গাছ বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। গাছটির আশপাশের কয়েকশ’ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোনো গাছ নেই।

গাছটির চারিদিকে দিগন্ত জোড়া শুধুই মরুভূমি আর মরুভূমি। উত্তপ্ত বালুকাময় মরুভূমির মাঝে গাছটি দাঁড়িয়ে থেকে আল্লাহর অসীম ক্ষমতার সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে মহানবী রাসূল মোহাম্মদের (সা.) স্মৃতি আঁকড়ে ধরে রেখেছে, যা আল্লাহ তা’য়ালার কুদরতি ক্ষমতার উৎকৃষ্ট নিদর্শন। সূত্র : ইন্টারনেট। এখানে ক্লিক করে ভিডিওটি দেখুন।

যা-ই করতে চান কিছুই হচ্ছে না, তাহলে এই আমলটি করুন

মহান আল্লাহ মানুষ সৃষ্টির আগেই তার তাকদিরের ভালো মন্দ লিখে রেখেছেন। সুতরাং অনেক সময় দেখা যায় মানুষ যা আশা করছে তা হয় আবার অনেক সময় তার ব্যতিক্রমও ঘটে থাকে। আর এর জন্য অনেকেই নিজের কপালের দোষ দিয়ে থাকে। কিন্তু মহান আল্লাহ অনেক সময় তাঁর বান্দাদের নানা রকমের বিপদ বা মসিবত দিয়ে পরীক্ষা করে থাকেন। দেখেন বিপদের সময় বান্দারা এক আল্লাহর আনুগত্য থেকে দুরে সরে যায় কিনা?

প্রিয় নবী হরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, শক্তিশালী ঈমানদার আল্লাহর নিকট উত্তম ও প্রিয় দুর্বল

ঈমানদারের চেয়ে। আর তাদের (ঈমানদারদের) প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তোমার যা কাজে লাগবে সেটা করার ব্যাপারে সচেষ্ট হও আর আল্লাহর সাহায্য চাও, অপারগ হয়ে যেও না।

আরবি দোআ

«قَدَرُ اللَّه وَمَا شَاءَ فَعَلَ».

বাংলা উচ্চারণ

কাদারুল্লা-হ, ওয়ামা শা-আ ফা‘আলা

বাংলা অর্থ

এটি আল্লাহ্‌র ফয়সালা, আর তিনি যা ইচ্ছা করেছেন।

[হাদীসে এসেছে, শক্তিশালী ঈমানদার আল্লাহর নিকট উত্তম ও প্রিয় দুর্বল ঈমানদারের চেয়ে। আর তাদের (ঈমানদারদের) প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তোমার যা কাজে লাগবে সেটা করার ব্যাপারে সচেষ্ট হও আর আল্লাহর সাহায্য চাও, অপারগ হয়ে যেও না। আর যদি তোমার কোনো অনাকাঙ্খিত বিষয় উদয় হয়, তখন বলো না যে, ‘যদি আমি এরকম করতাম তাহলে তা এই এই হতো’, বরং বলো, “এটা আল্লাহর ফয়সালা, আর তিনি যা ইচ্ছে করেছেন। কেননা, ‘যদি’ শয়তানের কাজের সূচনা করে দেয়। মুসলিম, ৪/২০৫২, নং ২৬৬৪।]

মূল- ড. সাঈদ ইব্‌ন আলী ইব্‌ন ওয়াহফ আল-ক্বাহত্বানী
অনুবাদ ও সম্পাদনা- ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

বিশ্বনবি যে কারণে অভিশাপ দিতে নিষেধ করেছেন

মানুষ যখন কোনো সমস্যা পড়ে, তখন তা থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করে থাকে। আবার অনেক সময় দুঃখে পড়লে বা রাগ এবং ক্ষোভের সময় নিজের সন্তান-সন্তুতিসহ সম্পদ ও মান-মর্যাদার ব্যাপারেও বদ-দোয়া করে থাকে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিম উম্মাহকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন, যেন পরিবার-পরিজন এবং সম্পদের ব্যাপারে আল্লাহর কাছে বদ-দোয়া না করে। কারণ এমন একটি সময় রয়েছে যখন দোয়া, বদ-দোয়া বা অভিশাপ; যা-ই করুন না কেন, তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়। যা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন।
হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা নিজেদের অভিশাপ দিও না।

তোমরা তোমাদের সন্তান-সন্ততিদের অভিশাপ দিও না; তোমরা তোমাদের চাকর-চাকরানিদের বদ-দোয়া কর না এবং তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদের প্রতি বদ-দোয়া কর না।

কেননা এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে যখন দোয়া (বা বদ-দোয়া) করলে তা কবুল হয়ে যায়।
কাজেই তোমার ঐ বদ-দোয়া যেন (দোয়া কবুলের) ঐ মুহূর্তের সঙ্গে মিলে না যায়। (মুসলিম, আবু দাউদ)
সুতরাং আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় নিজের জন্য, পরিবার পরিজনের জন্য, সম্পদ ও মান-মর্যাদাসহ অন্য যে কাউকে অভিশাপ বা বদ-দোয়া দেয়া বা করা থেকে বিরত রাখুন।

দুনিয়া ও পরকালের জন্য ভালো ও কল্যাণমূলক কাজের জন্য শুকরিয়া আদায় এবং দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

শিক্ষকের ছাত্রী ধর্ষণ ও ছাত্র বলাৎকার প্রসঙ্গে ইসলাম যা বলে

শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষন এটা যেন নৈমত্তিক ঘটনা। শিক্ষাঙ্গনে কোনও কন্যা সন্তানের পিতা-মাতা এখন আর কলিজার টুকরা কন্যার নিরাপত্তা ও নিরাপদের কথা চিন্তা করতে পারেন না। না যেন কোন শিক্ষক নামের ধর্ষকের বিষাক্ত ছোবল আমাদের সন্তানের দিকে ধেয়ে আসে।

একটি মেয়ে যখন ছাত্রী থাকে তখন সেটা তার জীবনের প্রথম ধাপ। এরপর একদিন সে বড় হবে, বিবাহের মাধ্যমে স্ত্রীর মর্যাদায় আসীন হবে। তারপর মায়ের মর্যাদা লাভ করবে। এখন যদি কোনও মেয়ে তার প্রথম ধাপেই নিগ্রহের শিকার হয় তাহলে তার বাকি জীবনটা অন্ধকার। সে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না। মাতৃত্বের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়। এত লাঞ্চনা সহ্য করতে না পেরে একসময় সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এই পরিণতির মূলে কে দায়ী ?

শিক্ষক সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত শ্রেণী। মর্যাদার দিক থেকে মাতা-পিতার পর তাদের অবস্থান। কারণ তারা আগামী দিনের ভবিষ্যত সন্তানের আদর্শ। ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকদের আদর্শ দেখেই বড় হয়। তারা যে শিক্ষা দিবেন ছাত্ররা বড় হয়ে তারা সেটাই করবে। শিক্ষক মূল্যবোধ বিনির্মাণের আদর্শ কারিগর।

পিতা-মাতা সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতে কথা চিন্তা করে শিক্ষক নামক আদর্শ ব্যাক্তির কাছে দিয়ে যান। তারা আশায় থাকেন শিক্ষক তাদের সন্তানকে আদর্শ শিক্ষা দেবেন। কিন্তু কোথায় আমাদের সেই আর্দশবান, আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন শিক্ষক। শিক্ষক আজ রক্ষকের পরিবর্তে ধর্ষকের ভূমিকায় অবর্তীণ হয়েছে। নিজের স্বকীয়তা, মর্যাদা ও আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজ ছাত্রছাত্রীর সাথে হীন কাম-বাসনা চরিতার্থ করতে উদ্দত হয়। কচি, নবীন নিষ্পাপ ছাত্রদেরকে বলাৎকার করে তাদের জীবনটা ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের পিতা-মাতা কী তাদের আদরের সন্তানের এই পরিণতি মেনে নিতে পারবেন?
ইসলামে এসব অন্যায় সর্ম্পকে কঠিন শাস্তির হুমকি এসেছে। শিশু নির্যাতন, বলাৎকার, ধর্ষন, সমকামিতা ইত্যাদি সর্ম্পকে কঠোর শাস্তির কথা এসেছে।

আল কুরআনে পুরুষের সাথে কুকর্মের প্রসঙ্গে লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়কে (যারা জোরপূর্বক অথবা সম্মতিতে পুরুষের উপগত হতো এবং তাদের সমাজে এ জঘন্য কাজ অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল) তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর? এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্য সঙ্গিনী হিসেবে যাদের সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী স¤প্রদায়।’ (সূরা শুআরা ২৬:১৬৫-১৬৬)

‘স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ! তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক বর্বর স¤প্রদায়।’ (২৭:৫৪-৫৭)

বলাৎকার সম্পর্কেও হাদীস শরীফে কঠিন শাস্তির কথা এসেছে। যেমন ‘ইবনে আব্বাস বলেন, রাসুল (স) বলেছেন, তোমরা যদি কাউকে পাও যে লুতের স¤প্রদায় যা করত তা করছে, তবে হত্যা কর যে করছে তাঁকে আর যাকে করা হচ্ছে তাকেও।’ (আবু দাউদ ৩৮:৪৪৪৭)

হাদীসে এখানেও যদিও সম্মতিতে পুরুষের সাথে কুর্কমের কথা বলা হয়েছে, জোরপূর্বক বলাৎকারের ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য হবে।

“জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স) বলেছেন, আমি আমার কওমের জন্য সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা আশঙ্কা করি সেটা হল লুতের কওম যা করত সেটা যদি কেউ করে…”(তিরমিজি, ১৪৫৭)

“যে কাউকে লুতের কওমের মতো করতে দেখলে যে দিচ্ছে আর যে পাচ্ছে দু’জনকেই হত্যা কর।” (তিরমিজি ১:১৫২) মুয়াত্তা শরীফের ৪১ ৪১.১১১ নাম্বার হাদিসে এর শাস্তি বলা আছে পাথর মেরে হত্যা।

“ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, অভিশপ্ত সে, যে কিনা কোনও পশুর সাথে সঙ্গম করে, আর অভিশপ্ত সে যে কিনা সেটা করে যা লুতের স¤প্রদায় করত।” (আহমাদ:১৮৭৮)

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “আলী (রা.) তাঁর সময়ে ২ জন সমকামীকে পুড়িয়ে দেন। আর আবু বকর (রা.) তাদের উপর দেয়াল ধ্বসিয়ে দেন।” (মিশকাত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭৬৫)

এজন্য নারী-পুরুষ নির্যাতনের ক্ষেত্রে দেশের আইন আরোও কঠিন করা জরুরি। যেহেতু এ ধরণের অপরাধের প্রবণতা বেশী। আমাদের দেশে যদি এ ধরণের অপরাধ যেমন, বলাৎকার, ধর্ষন সমকামিতা ইত্যাদি বন্ধ করতে হয় তাহলে দেশে অবিলম্বে কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করতে হবে।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন সর্বকালের, সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি মানুষের জন্য শিক্ষক হিসেবেই পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি সবাইকে আদর্শ শিক্ষা দিতেন, নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা দিতেন। এজন্য আমাদের সবাইকে আমাদের নবী সা. এর আদর্শে আদর্শবান হতে হবে। তাহলেই দেশে শান্তি-সুখ ফিরে আসবে।

যে কারনে পৃথিবীর কেন্দ্রতে অবস্থিত কাবা শরীফ

মুসলমানদের কিবলা পবিত্র কাবাঘর। হজের মৌসুমে প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমান কাবাঘর তাওয়াফ করতে মক্কায় গমন করেন। পবিত্র কোরাআন ও হাদিসের ব্যখ্যায় পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে মক্কা নগরের অবস্থান হওয়ায় ‘বায়তুল্লাহ’ বা ‘কাবাঘর’ মক্কাতেই স্থাপন করা হয়। আল্লাহতায়ালার নির্দেশে ফেরেশতারা প্রথম দুনিয়ায় কাবাগৃহ নির্মাণ করে এখানে ইবাদত করেন। কাবাঘরটি আল্লাহর আরশে মুয়াল্লার ছায়াতলে সোজাসুজি সপ্তম আসমানে অবস্থিত মসজিদ বাইতুল মামুরের আকৃতি অনুসারে ভিত্তিস্থাপন করা হয়। আল্লাহতায়ালা কাবাগৃহকে মানবজাতির ইবাদতের কেন্দ্রস্থলরূপে নির্দিষ্ট করেন।

মুসলিম মানবজাতির ইবাদতের কেন্দ্রস্থল কাবা শরীফ পৃথিবীর ঠিক কেন্দ্রতেই অবস্থিত। কিন্তু বর্তমান সময়ে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারের ফলে অনেকেই এই বিষয়টিকে উড়িয়ে দিতে চান।

পবিত্র কাবা শরীফের অবস্থান ও সৃষ্টিকাল নিয়ে ইসলামের ব্যখ্যা

বেহেশত থেকে দুনিয়ায় পাঠানোর পর আদি মানব-মানবী হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.) ইবাদতের জন্য একটি মসজিদ প্রার্থনা করেন। আল্লাহতায়ালা তাদের দোয়া কবুল করে কাবাগৃহকে ইবাদতের কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করে দেন। এরপর হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনে কাবা শরিফ ধসে যায়। পরে আল্লাহর হুকুমে হজরত ইবরাহিম (আ.) তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে সঙ্গে নিয়ে কাবাগৃহের পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। আল্লাহতায়ালার নির্দেশে আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবা শরিফের নির্মাণ হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবনের অমর কীর্তি ও অন্যতম অবদান।

বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি পবিত্র কাবাঘর পুনঃনির্মাণের সৌভাগ্য অর্জন করলেও একমাত্র হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর নির্মাণের কথা আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে কারিমের অংশ বানিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য সংরক্ষিত করেছেন।
পবিত্র কোরআনে কারিমে ওই ঘটনাটি খুবই চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম ও ইসমাঈল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। তারা দোয়া করেছিল, হে পরওয়ারদেগার! আমাদের এ আমলটুকু কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। ওহে পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ করো এবং আমাদের বংশধর থেকে একটি অনুগত জাতি সৃষ্টি কর। আমাদের হজের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা করো। নিশ্চয়ই তুমি তওবা কবুলকারী, দয়ালু। হে আমাদের প্রভু! এ ঘরের পড়শিদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠাও, যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতগুলো পাঠ করবেন। তাদের কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ -সূরা বাকারা : ১২৭-১২৯

কাবাগৃহের নির্মাণ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এর চেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিষয় আর কিছুই হতে পারে না। কাবা নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) যে দোয়া করেছিলেন সেগুলো যত্নের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। দুনিয়ার মানুষের স্বভাব হলো, সমাজে বা ধর্মীয় কাজে সামান্য অবদান রেখে মানুষের সামনে তা বারবার উল্লেখ করে এবং আত্মপ্রশংসায় ডুবে যায়। অথচ সরাসরি আল্লাহতায়ালার ঘর নির্মাণ করছেন, তবুও তার মনে এক বিন্দু অহঙ্কার নেই। ছিল বিনয়পূর্ণ মিনতি। বিনয়াবনত কণ্ঠে বারবার তিনি বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! মেহেরবানি করে আমাদের এ খেদমতটুকু কবুল করে নাও।’ দোয়ার দ্বিতীয় বাক্যে বলেছেন, ‘হে প্রভু! তুমি আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ করো।’

বস্তুত দোয়াতে মানব জাতির জন্য শিক্ষা রয়েছে, মসজিদ নির্মাণ তো একটি নিদর্শন। তা মূল লক্ষ্য নয়। মূল লক্ষ্য হচ্ছে, জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর সামনে নিজেকে সঁপে দেয়া। তার বিধি-নিষেধ বিনাবাক্যে মেনে নেয়া। এজন্য মসজিদ নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.) জীবনের মূল লক্ষ্য সাধনের দোয়া করেছেন। সে অমূল্য দোয়া শুধু নিজের জন্যই নয় বরং অনাগত বংশধরের জন্যও করেছেন। অতঃপর এ ঘরের মর্যাদা রক্ষা ও তার জিয়ারতের রীতিনীতি বাতলে দেয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন।

হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর প্রত্যেকটি দোয়া কবুল হয়েছে। ইতিহাসে আছে, তার বংশধরের মধ্যে সর্বদা একটি দল আল্লাহর আজ্ঞাবহ ছিল। এমনকি জাহেলিয়াতের আমলে আরবের সর্বত্র যখন মূর্তি-পূজার জয়জয়কার ছিল তখনও ইবরাহিমি বংশের কিছু লোক একত্ববাদ ও পরকালে বিশ্বাসী এবং আল্লাহতায়ালার আনুগত্যশীল ছিলেন।

হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক বায়তুল্লাহ নির্মিত হওয়ার পর থেকে সব যুগেই তার জিয়ারতও অব্যাহত ছিল। শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সে দোয়ারই ফসল, যা তিনি বায়তুল্লাহ নির্মাণকালে করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি আমার বাবা ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া এবং আমার ভাই ঈসা (আ.)-এর সুসংবাদ।’ -মুস্তাদরাকে হাকেম

ইসলামের ইতিহাসে ৬৩১ খ্রিস্টাব্দে নবম হিজরিতে হজের বিধান ফরজ হয়। পরের বছরে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) হজ আদায় করেন। তিনি যেখানে, যে সময়ে, যে তারিখে, যে নিয়মে যেসব আহকাম-আরকান পালন করেন, প্রতিবছর ৮ থেকে ১৩ জিলহজ মক্কা মুকাররমা এবং এর আশপাশের এলাকাজুড়ে নির্দিষ্ট নিয়মে সেভাবেই পবিত্র হজ পালিত হয়ে আসছে।