২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অধঃপতন শুরু: তথ্যমন্ত্রী

সাত বিঘা জমিতে ১৬ তলার পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র কমপ্লেক্স করবে সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। যেখানে ১০টি সিনেপ্লেক্স থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের শেকড়ের ওপর দাঁড়ালে চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, মূলত ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অধঃপতনের ধারা শুরু হয়। যে ধাক্কায় সিনেমা হল ১৩৯৯ থেকে ৩২০ এ নেমে এসেছে।

শুক্রবার ছুটির দিনের রাজধানীতে চলচ্চিত্র কর্মশালার সনদপত্র বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেন্দার জাহিদ মিলনায়তনে ত্রিকোন চলচ্চিত্র শিক্ষালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক ফারুক, চলচ্চিত্র লেখক সমিতির সভাপতি জামান আখতার, চিত্রকর নাজিব তারেক ও চিত্রনির্মাতা আশরাফ শিশির। এতে ৩ বছরে ৮টি ব্যাচের কোর্স করা ৫৬ নির্মাতাকে সনদ বিতরণ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য সরকার চেষ্টা করছে। প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করে বিএফডিসি সংলগ্ন ৭ বিঘাতে ১৬ তলার পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র কমপ্লেক্স নির্মিত হবে। যেখানে ১০টি সিনেপ্লেক্স থাকবে। ৬ মাসের মধ্যে প্রকল্প পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে। তিনি এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০০০ সাল পর্যন্ত সারা দেশে সিনেমা হল ছিল ১৩৯৯টি। ২০০১ সাল থেকে হল কমতে শুরু করে। যা আজ দাঁড়িয়েছে ৩২০ এ। চলচ্চিত্র সমাজের খলচরিত্র জঙ্গীবাদের বিনাশে রাজনৈতিক শক্তির সহশক্তি বলে তিনি মন্তব্য করেন। অসাম্প্রদায়িক এবং মানবিক সমাজ নির্মাণের আত্মা বলে চলচ্চিত্রকে অভিহিত করে তিনি বলেন, চলচ্চিত্রকে নিজের শেকড়ের ওপর দাঁড়াতে হবে। তাহলে এর ভষ্যিৎ সুদৃঢ় হবে।

সনদ প্রাপ্তদের বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন ত্রিকোন চলচ্চিত্র শিক্ষালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইহতিশাম আহমেদ। উপস্থাপনা করেন মনিরা পারভীন।

জানেন কি ইন্টারনেটে এমন কিছু নাম আছে, যা খুঁজলেও বিপদ

ইন্টারনেটে এমন কিছু নাম আছে, যা খুঁজলে বিপদের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পপ তারকা অ্যাভ্রিল লেভিন তেমনই এক তারকা। অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাকাফি বলছে, অ্যাভ্রিল লেভিন (Avril Lavigne) নামটি অনলাইনে সবচেয়ে বিপজ্জনক তারকার নাম হিসেবে উঠে এসেছে।

গত মঙ্গলবার সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ম্যাকাফি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাভ্রিলে নাম খুঁজলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার ভরা সাইটে গিয়ে হাজির হন। অ্যাভ্রিলের সর্বশেষ অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৩ সালে। ম্যাকাফি বলছে, লেভিন নাম সার্চ দিলে সাড়ে ১৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তার নামের সঙ্গে ফ্রি এমপিথ্রি সার্চ দিলে ঝুঁকির মাত্রা ২২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

বিপজ্জনক তারকাদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বুনো মার্স। এরপরের অবস্থানে কার্ল রে জেসপেন, জায়ান মালিক, সেলিন ডিওন, ক্যালভিন হ্যারিস, জাস্টিন বিবার, শন ডিডি কম্বস, কেটি পেরি ও বিয়ন্সে। ২০১৩ সালের শীর্ষ দশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন লেভিন। বার্ষিক ১১তম এ তালিকায় লেভিন শীর্ষে আসার কারণ তার নতুন অ্যালবামের গুঞ্জন।

২০১৬ সালে ইন্টারনেটে সবচেয়ে বিপজ্জনক তারকার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন অ্যামি শুমাখার। প্রথম নারী শিল্পী হিসেবে এ তালিকার শীর্ষে এলেন লেভিন। এ তালিকা করার মাধ্যমে সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করার বিপদ সম্পর্কে সচেতন করে ম্যাকাফি। অনলাইন সার্চ ও ডাউনলোডের সময় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সচেতন থাকার কথা বলেছে প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র: এনডিটিভি।

যে কারণে বাবা হলেই ওজন বাড়ে পুরুষের

তথাকথিত ভাবধারাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে ইংল্যান্ডের বাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশ করেছে এক যুগান্তকারী তথ্য। বিয়ে করলেই নাকি ওজন বাড়ে পুরুষের।

পিতৃত্বের সময় দেহের ওজন আরও বাড়ে বলে গবেষণায় দাবি। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়ছেন। বিয়ে হলে মেয়েদের ওজন বাড়ে এই কথার প্রচলন আদিম যুগ থেকে হয়ে এলেও গবেষণা দিক নির্দেশ করল অন্য দিশারীর।

৮ হাজার মানুষের ওপর হওয়া ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বিয়ের পর পুরুষের দেহে বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) বৃদ্ধি পায়। আর তার জন্যই বাড়ে শারীরিক ওজন।

ইংল্যান্ডের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. জোয়ানা সিরদা জানিয়েছেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক বিষয় তারমধ্যে বিয়েও এমন একটা ইস্যু যা পুরুষের বডি মাস ইনডেক্স বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরুষ বাবা হলে বিএমআই বৃদ্ধির হার আরও বাড়ে। ‘

ইকনমিক্সের অধ্যাপক ড. জোয়ানা এও জানিয়েছেন, ‘নানা পারিবারিক এবং সামাজিক বিষয়ে চিন্তাভবানায় মগ্ন থাকার কারণে পুরুষ তার শরীর এবং স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবার অবকাশ পায় না। এর ফলে পরিবর্তন হয় পুরুষের খাদ্যাভ্যাসেও। এমনকী পুরুষের আচরণেও দেখা যায় নানাবিধ পরিবর্তন।

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান করা হল এই মডেলকে

খোলামেলা পোশাকে ছবি পোস্ট করে মার্কিন মডেল এলে জনসন বেশ পরিচিতি পান ইনস্টাগ্রামে। পরিচিতি বাড়াতে তিনি প্রায়ই সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজক ছবি পোস্ট করে থাকেন।



সম্প্রতি তিনি সুস্থ্যতার জন্য ‘ফ্রি দ্যা ক্লিভেজ’ নামে এক প্রচারণা শুরু করেন। প্রচারণায় তিনি অব্যাহতভাবে উত্তেজক ছবি পোস্ট করেন। তাই বেশি উত্তেজক হওয়ায় এবার এলে জনসনকে নিষিদ্ধ করলো ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষ।

যদিও এমন আচরণকে এলা বৈষম্যমূলক আচরণ বলেই দাবি করেছেন। তিনি বলেন, স্তনের সুস্থ্যতা সম্বন্ধে সচেতনতা বাড়াতেই তাঁর এই ‘ফ্রি দ্যা ক্লিভেজ’ ক্যাম্পেইন। তবে এর আগেও একবার এলাকে ব্যান করা হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সূত্র জিনিউজ।

চাঁদ থেকে মাটি আনা ব্যাগটি নিলামে বিক্রি

মার্কিন নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে অবতরণের পর যে ব্যাগে করে প্রথম সেখানকার পাথর এবং ধুলাবালি সংগ্রহ করে পৃথিবীতে এনেছিলেন, সেটি নিউইয়র্কে নিলামে তোলার পর ১৮ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে।

১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ইলেভেন মিশনে অংশ নেওয়ার সময় নীল আর্মস্ট্রং এই ব্যাগটি ব্যবহার করেন। এটিতে এখনো চাঁদের ধুলা এবং কিছু ছোট পাথর রয়েছে।

অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিলামে এটি কিনে নেন।

অনেকদিন ধরেই বাগটির মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। অ্যাপোলো ইলেভেনের স্মারক এই ব্যাগটি একজনের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল।

অ্যাপোলে ইলেভেন যখন পৃথিবীতে ফিরে আসে তখন এটির সব কিছু সংরক্ষণের জন্য স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামে পাঠানো হয়। কিন্তু ভুলক্রমে ব্যাগটি জনসন স্পেস সেন্টারের একটি বাক্সে থেকে যায়। এরপর ২০১৫ সালে একটি সরকারি নিলামের সময় ভুলভাবে চিহ্নিত হওয়ার কারণে এটি ৯৯৫ ডলারে কিনে নেন এক আইনজীবী।

নাসা অবশ্য পরে এই ব্যাগটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এবছরের শুরুতে ফেডারেল বিচারক রায় দেন যে, ব্যাগটি যার কাছে রয়েছে, তিনিই এটির আইনি মালিক। এরপর এই ব্যক্তি বিক্রির জন্য এটি নিলামে তোলেন।

গান নিয়ে আজব কিছু তথ্য!

মানুষের মনকে ছুঁয়ে দিতে, নাড়িয়ে দিতে বিক্ষুব্ধ করে তুলতে সঙ্গীতের কোন তুলনা নেই। আধুনিক চিকিত্সাবিজ্ঞান বহুক্ষেত্রে রোগীদের সঙ্গীত শোনার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যে মানুষ সঙ্গীত শোনে না সে হিংস্র হয়ে উঠে। এ কারণেই সুরের সঙ্গে যুগ যুগ ধরে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে বাঁধা পড়েছে সাধারণ মানুষ। এবার জেনে নিন সঙ্গীত সম্পর্কে আশ্চর্য কিছু তথ্য :

০১. হার্টবিট: গান শোনার সময় গানের ছন্দের সঙ্গে প্রায় মিলে যায় আমাদের হৃদপিণ্ডের ছন্দও। গান শোনা এমনই একটি কাজ যাতে আমাদের সম্পূর্ণ মস্তিষ্ক একসঙ্গে কর্মক্ষম হয়ে ওঠে।

০২. অবসাদ কমায়: যদি কোনও কারণে মন খারাপ থাকে বা অবসাদে ভোগেন তাহলে গলা ছেড়ে গান গেয়ে উঠুন। আপনার মন ভাল হতে বাধ্য।

০৩. লাউড মিউজিক: জানেন কি বার বা ডিস্কোতে কেন লাউড মিউজিক বাজানো হয়? যাতে আপনি বেশি পানীয় খেতে পারেন। দেখা গিয়েছে, স্লো মিউজিকের তুলনায় লাউড মিউজিকে মানুষ বেশি পান করেন।

০৪. গাছের বৃদ্ধি: শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে গাছেদেরও অনুভূতি রয়েছে। দেখা গেছে, মিউজিক্যাল পরিবেশের মধ্যে যদি গাছ রাখা হয় তাহলে তার বৃদ্ধি হয় অনেক তাড়াতাড়ি।

০৫. স্ট্রেস কাটায়: স্ট্রেস কাটানোর ম্যাজিক জানে মিউজিক। তাই হাজার কাজের চাপে মনে বাড়তি স্ট্রেস ভিড় জমালেই পছন্দের গান শুনুন। দেখবেন অনেক রিল্যাক্স লাগবে।

০৬. উদার: শুনতে আশ্চর্যজনক হলেও ফ্রন্টিয়র সাইকোলজির একটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, যারা তাদের পছন্দের গান বেশি শোনেন তারা তুলনামূলক বেশি উদার হন।

০৭. ব্যায়াম: দেখা গেছে যদি আপনি গান শুনতে শুনতে ব্যয়াম করেন তাহলে সহজে ক্লান্তি আসে না।

০৮.স্বাস্থ্য: মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল রাখতেও সাহায্য করে ভাল গান। দেখা গিয়েছে, প্রধানত বয়স্ক মানুষদের ব্রেন হেলদি রাখার জন্য কার্যকরী প্রভাব রয়েছে গানের।

০৯. হিংস্রতা রোধ করে : সঙ্গীত মানুষকে ভালবাসতে শেখায়। সঙ্গীত মানুষকে হিংসা থেকে দূরে রাখে। বর্তমানে যে মানুষ খুনের উত্সব চলছে সেটা রোধ করতে পারে সঙ্গীত।

মায়ের বুকের দুধ তাজা রাখতে নতুন যন্ত্র

বাচ্চাদের বেড়ে ওঠা ও পুষ্টির জন্য মায়ের বুকের দুধ সবচেয়ে ভাল হলেও যেসব মহিলা বিভিন্ন কলকারখানায় লম্বা সময় কাজ করেন তাদের জন্য সেটা সবসময় সম্ভব হয় না।

এই সমস্যা মোকাবেলায় ড: সাব্রিনা রশীদের তত্ত্বাবধানে এক উদ্ভাবনী প্রকল্পের আওতায় কিছু পোশাক কারখানায় মায়েদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে বুকের দুধ তাজা রাখার নতুন যন্ত্র।

বাংলাদেশে বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানোর চল বেশি হলেও কর্মজীবী মায়েদের জন্য এটা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, বিশেষ করে দুপুরের খাওয়ার ছুটিতে যাদের কর্মস্থল থেকে বাসায় যাতায়াত অতটা সহজ নয়।
কিন্তু বুকের দুধ খাওয়ানো তাড়াতাড়ি বন্ধ করে অন্য খাবার দিলে শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ।
খুব কম পরিবারেই যেহেতু ফ্রিজ রয়েছে, তাই কারখানার মধ্যেই যন্ত্রের সাহায্যে বুকের দুধকে উচ্চ তাপমাত্রায়- দ্রুত জীবাণুমুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে এই প্রকল্প। ক্যানাডীয় এক গবেষকের উদ্ভাবিত নতুন যন্ত্র বুকের দুধকে তাজা রাখবে অনেকক্ষণ। এই যন্ত্র এমনভাবে তৈরি যা চালাতে খরচ পড়ে খুবই কম এবং কারখানার পরিবেশে এটা ব্যবহার করাও সহজ।
পরীক্ষা সফল হলে অন্য শিল্প কারখানায়ও এর ব্যবহার ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং এর ফলে লক্ষ লক্ষ শিশু মায়ের দুধ থেকে সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি পেয়ে বড় হবার সুযোগ পাবে।