কালীগঞ্জে মেঘবাড়ি রিসোর্টে তারার মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুরের কালীগঞ্জে মেঘবাড়ি রিসোর্টে বসেছে দেশের রুপালি জগতের তারাদের মেলা। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই চলচ্চিত্রাঙ্গনের তারকাদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মেঘবাড়ি।

৩০ জানুয়ারি সকাল ৮টায় বিএফডিসি থেকে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। এ সময় অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তারা।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রবীণ-নবীনসহ প্রায় ছয়শত শিল্পী একত্রিত হয়েছেন সেখানে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পীদের সংগঠন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বার্ষিক বনভোজন উপলক্ষে একত্রিত হয়েছেন এসব তারকারা। প্রিয় সহকর্মী, বন্ধুদের একসঙ্গে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন সবাই। শুরু হয় কুশল বিনিময়, খেলাধুলা, আড্ডা ও গান।

বনভোজনে অংশ নেয়া প্রবীণ তারকাদের মধ্যে রয়েছেন-চিত্রনায়ক ফারুক, সোহেল রানা, ববিতা, চম্পা, অঞ্জনা সুলতানা, নাঈম, শাবনাজ প্রমুখ। এ ছাড়াও উপস্থিত রয়েছেন- অপু বিশ্বাস, বাপ্পারাজ, নাসরিন, সম্রাটসহ অন্যান্যরা।

সন্ধ্যায় মেঘবাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে তারকাদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বার্ষিক বনভোজনের আয়োজন।

কালীগঞ্জ পৌরসভার বনভোজনে তাজমহল, পিরামিড, লোকশিল্প যাদুঘর ও পানম নগর

রফিক সরকার, নারায়ণগঞ্জ (সোনারগাঁও) থেকে ঘুরে এসে: গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ শনিবার (২৭ জানুয়ারী) বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। শীতের কুয়াশা উপেক্ষা করে শনিবার সকালেই পৌরসভার সামনে থেকে একটি বিলাস বহুল গাড়ি যাত্রা শুরু করে। উদ্দেশ্য নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বাংলার তাজমহল, পিরামিড, কারু-লোকশিল্প যাদুঘর ও পানাম নগর ঘুরে দেখা।

গাড়িতে উঠেই প্রত্যেকে পেয়ে গেলেন সকালের নাস্তা, ১১টার টিফিন, দুপুরের খাবার, বিকেলের নাস্তা, পানি, কোমল পানিয় সম্বলিত একটি সাদা ব্যাগ। সাথে উপহার হিসেবে ছিল চমৎকার একটি মগ।

গাড়ি চলছে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। বাজছে গান, চলছে নাচ। কেউ কেউ আবার করছেন হাস্যরস্যে ভরা কৌতুক।উপস্থিত ছিলেন- কালীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর পরিমল চন্দ্র ঘোষ, মো. মোফাজ্জল হোসেন মোমেন, মো. রুহুল আমিন, কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, পৌর সচিব মো. মিলন মিয়া, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাসুদুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির, উপ-সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, হিসাব রক্ষক দুলাল মোড়ল, স্বাস্থ্য সুপারভাইজার মোশারফ হোসেন, বাজার পরিদর্শক শিপলু চন্দ্র দাস, কর নির্ধারক বেলায়েত হোসেনসহ  কালীগঞ্জ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

যা দেখা হলো :

তাজমহল

সম্রাট শাজাহান ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে ভারতের আগ্রায় নির্মাণ করেছিলেন তাজমহল। ঠিক তারই অনুকরণে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব গ্রামে নির্মিত হয়েছে বাংলার তাজমহল। এই অনুপমশৈলীর স্থাপত্য দেখতে চাইলে টাকা খরচ করে ভারতে যেতে হবে না। হাতে সময় নিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে করে চলে আসতে পারেন বাংলার তাজমহলে।

এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি স্থাপনা। তথ্যানুসারে এটি তৈরী করতে সময় লেগেছে মাত্র ৫ বছর এবং ৫৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এর মালিক আহসানুল্লাহ মনি ছিলেন একজন ধনবান চলচিত্র নির্মাতা। আর তিনি এই তাজমহলের রেপ্লিকাটি তৈরী করা হয়েছে যেন তার দেশের মানুষ যাদের ভারত গিয়ে প্রকৃত নিদর্শন দেখার সুযোগ নেই তারা যেন নিজের দেশে থেকেই তাজমহল দেখার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন। এটি প্রায় ১৮ বিঘা জমির উপর অবস্থিত। আশেপাশে আরও ৫২ বিঘা জমি আছে পর্যটনের জন্য।

তাজমহলের নির্মাণ কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিদেশী উপকরণ যেমন ১৭২ টি কৃত্রিম ডায়মন্ড , ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি । নির্মাণ কাজে ৬ জন টেকনিশিয়ানদের নিয়োগ দেয়া হয়। ভারতের তাজমহলকে অনুসরণ করা হয়েছে বলে নির্মাতাকে ভারতে যেতে হয়েছে অনেকবার।

বেহুলার বাসর ঘর

তাজমহলের মূল ভবন স্বচ্ছ ও দামি পাথরে মোড়ানো। চার কোণে চারটি বড় মিনার, মাঝখানে মূল ভবন, সম্পূর্ণ টাইলস করা। সামনে পানির ফোয়ারা, চারদিকে ফুলের বাগান, দুই পাশে দর্শনার্থীদের বসার স্থান। এখানে দেখা যাবে চারপাশের সুন্দর আর মনোরম পরিবেশ, হাজার হাজার নাম না জানা পাখির কিচিরমিচির করা বিকেল আপনার মন ভালো করে দিবে। এখানে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাজমনি ফিল্ম সিটি রেস্তোরাঁ, উন্নতমানের খাবার-দাবারের ব্যবস্থা। রয়েছে রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও। তাজমহলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী, জামদানি শাড়ি, মাটির গহনাসহ আরও অন্যান্য পণ্য সামগ্রী।

তাধীক বছরের পুরনো গাড়ী

পিরামিড

তাজমহলের কাছাকাছি পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম মিসরের পিরামিডের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে পিরামিড।যেখানে রয়েছে অনেক বছরের আগের রাজা-রাণীদের মমির মরদেহ। রয়েছে ক্ষুদি রামের ফাঁসির সেই মঞ্চ, মঞ্চের পাশে শতাধীক বছরের পুরনো দু’টি গাড়ী। রয়েছে বেহুলার বাসর ঘর।

পিরামিড

কারু লোকশিল্প যাদুঘর

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন প্রতিষ্ঠিত কারু ও লোকশিল্প যাদুঘর অবস্থিত। বাংলাদেশের লোকশিল্পের সংরক্ষণ, বিকাশ  ও সর্বসাধারণের মধ্যে লোকশিল্পের গৌরবময় দিক তুলে ধরার জন্য ১৯৭৫ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকার বিশাল এলাকা নিয়ে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন। সোনারগাঁয়ের “বড়সর্দারবাড়ি” নামে পরিচিত একটি প্রাচীন জমিদার প্রাসাদে এই যাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে।এখানে আরো রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, কারুপল্লী ও একটি বিশাল লেক।

যাদুঘরে দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন বাংলার প্রাচীন সুলতানদের ব্যবহৃত অস্ত্র শস্ত্র, তৈজসপত্র, পোশাক, বর্ম, অলংকার ইত্যাদি।বাংলার প্রাচীন ও মধ্য যুগের লোকশিল্পের অনেক নিদর্শন রয়েছে এখানে, রয়েছে বাংলার প্রাচীন মুদ্রা। কারুপল্লীতে বৈচিত্র্যময় দোচালা, চৌচালা ও উপজাতীয়দের আদলে তৈরি ঘরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অজানা, অচেনা, আর্থিকভাবে অবহেলিত অথচ দক্ষ কারুশিল্পীর তৈরি বাঁশ-বেত, কাঠ খোদাই, মাটি, জামদানি, নকশিকাঁথা, একতারা, পাট, শঙ্খ, মৃৎ শিল্প ও ঝিনুকের সামগ্রী ইত্যাদি কারুপণ্যের  প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ১টি যাদুঘর, ১টি লোকজ মঞ্চ, সেমিনার কক্ষ ও কারুশিল্প গ্রাম রয়েছে। এখানকার যাদুঘরে প্রায় সাড়ে চারহাজার নিদর্শন সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও এখানে সাড়ম্বরে আয়োজিত হয় লোকশিল্প মেলা। এমেলায় লোকসংগীত, যাত্রাপালা, কবিগান ইত্যাদি লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানমালা পরিবেশন করা হয়। মেলায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসেন লোকজ শিল্পী ও কারুশিল্পীরা। মাটি, শোলা, বাঁশ, বেত, কাপড়সহ বিভিন্ন হস্ত শিল্পজাত সামগ্রী বিক্রি হয় এ মেলায়।

প্রতি শুক্রবার থেকে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্য়ন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। তবে শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্য়ন্ত জুমার নামাজের জন্য যদুঘর বন্ধ থাকে।  কারু ও লোকশিল্প যাদুঘর এলাকার ভেতরে কৃত্রিম লেকে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা আছে।

পানাম নগর

পৃথিবীর ধ্বংসপ্রায় একশটি ঐতিহাসিক নগরের মধ্যে সোনারগাঁও পানাম নগর একটি। শতবর্ষ পূর্বে এই নগরী ইতিহাসখ্যাত সিল্ক রোডের সাথে সংযুক্ত ছিল। ঈশা খাঁর আমলে বাংলার রাজধানী ছিল পানাম নগর। এখানে অনবদ্য নির্মাণশৈলীর সাক্ষী বহু পুরনো বেশ কিছু ভবনের সমন্বয়ে রয়েছে একটি পরিত্যক্ত নগরী, যা বাংলার বার ভূঁইয়াদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। পানাম নগর ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় অবস্থিত।

এটি ‘‘হারানো নগরী” নামেও পরিচিত। পানাম নগরীর নির্মাণশৈলী অপূর্ব এবং এর নগর পরিকল্পনা দুর্ভেদ্য ও সুরক্ষিত। এটি মুলত বঙ্গ অঞ্চলের তাঁত ব্যবসায়ীদের মূল কেন্দ্র বিন্দু ও আবাসস্থল ছিল । এ স্থান হতে ব্যবসায়ীগণ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁত ব্যবসা পরিচালনা করতেন। বাংলার মসলিনসহ অন্যান্য তাঁত শিল্পের প্রচার প্রসার ও ব্যবসায়ের তীর্থস্থান এ পানাম নগরী। প্রায় চারশত বছর আগ হতে পানাম নগরী স্থাপন শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। ধাপে ধাপে মোগল নির্মাণ শৈলীর সাথে বৃটিশ স্থাপত্য শৈলীর সংমিশ্রনে প্রায় চারশত বছরের পর্যায়ক্রমে স্থাপন পুন:স্থাপন প্রক্রিয়ায় পানাম নগরী বর্তমান রূপলাভ করে।

পানাম নগরীতে মূলত ব্যবসায়ি ও জমিদাররা বসবাস করতেন। এর পাশাপাশি রাজাদের, আমির ওমরাদের জন্য পানাম নগরী ও তার আশেপাশের গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছিল নিপুন কারুকাজ খচিত পাকা ইমারতরাজি। পানাম ও তার আশপাশকে ঘিরে পঞ্চদশ শতক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত এক সমৃদ্ধ জনজীবন ছিল। এখানে সরু রাস্তার দুই ধারে গড়ে উঠেছিল অট্টালিকা, সরাইখানা, মসজিদ, মন্দির, মঠ, ঠাকুরঘর, গোসলখানা, কূপ, নাচঘর, খাজাঞ্চিখানা, টাকশাল, দরবার কক্ষ, গুপ্তপথ, প্রশস্থ দেয়াল, প্রমোদালয় ইত্যাদি।

পানাম নগরীতে দেখা যায় ৪০০ বছরের পুরনো মঠবাড়ি। পানামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পঙ্খীরাজ খাল। এ খাল পানামের গুরুত্বপূর্ন ভবনগুলো ছুঁয়ে পূর্বদিকে মেনিখালি নদ হয়ে মেঘনা নদীতে মিশেছে। ৫ মিটার প্রশস্থ ও ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি সড়কের দুই পাশে একতলা, দোতলা ও তিনতলা দালান রয়েছে পানামে। এছাড়াও রয়েছে প্রায় ৫২ টি ভবন। পানাম নগরীর মাঝে যে রাস্তা চলে গেছে এর উত্তর পাশে আছে ৩১ টি ভবন এবং দক্ষিণ পাশে আছে ২১টি ভবন।

অবশেষে রাত ৮টায় শেকড়ে ফেড়া হলো।

আলোকচিত্র : রফিক সরকার

 

একি কাণ্ড, ভাগ্নের হাত ধরে খালা উধাও

পরকীয়ার সম্পর্কে ভাগ্নের হাত ধরে নগদ ১০ লাখ টাকা, ছয় ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে দুই কন্যা সন্তানকে ফেলে রেখে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছে খালা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী ও আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের লেবুতলী গ্রামের।

ওই গ্রামের আব্দুস সাত্তার বেপারীর পুত্র সৌদি প্রবাসী সাইদুর রহমান জানান, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সামাজিকভাবে তিনি একই উপজেলার টিকাসার গ্রামের জনৈক এস্কেন্দার হাওলাদারের কন্যা খাদিজা আক্তার নুপুরকে (২৪) বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

প্রবাসী সাইদুর রহমান আরো জানান, সম্প্রতি তার স্ত্রী নুপুরের সাথে তার খালাতো বোনের ছেলে (ভাগ্নে) পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঠারোগাছিয়া গ্রামের দুলাল সরদারের পুত্র কুমিল্লার ১৬ বেঙ্গল ক্যান্টমেন্টের জনৈক আব্দুল করিমের অধীনস্থ ঝাড়ুদার নাসির সরদারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১২ আগস্ট প্রবাসী সাইদুর রহমান ছুটিতে নিজ বাড়িতে আসেন। পরবর্তীতে কৌশলে প্রবাসীর অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে তার স্ত্রী নুপুর বেগমকে গত ২৭ আগস্ট পরকীয়া প্রেমিক নাসির বাগিয়ে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়।

সহকর্মী নিয়ে হোটেলে রাত কাটাতে এসে স্ত্রীর হাতে ধরা, অতপর ঘটল ভয়ঙ্কর কান্ড

সহকর্মী কেবিন ক্রু নিয়ে হোটেলে রাত কাটাতে গিয়ে স্ত্রীর হাতে ধরা পড়েছেন বেসরকারি এক বিমানের কর্মকর্তা। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম মীর ফয়সাল আহমেদ (৩০)। তিনি বেসরকারি বিমান কোম্পানী নভো এয়ারের কাস্টমার সার্ভিসে বিভাগে কর্মরত আছেন।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, মীর ফয়সাল আহমেদ তার ঘনিষ্ট বান্ধবী নভো এয়ারের কেবিন ক্রু সোনিয়াকে নিয়ে শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের শহরতলী ঢোলাদিয়া এলাকার হোটেল সিলভার ক্যাসলে উঠেন।

বিষয়টি ফয়সালের স্ত্রী মিরাজ্জুম মনিরা নিরা জানতে পেরে পরের দিন আত্মীয়-স্বজনসহ হোটেলে এসে তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এসময় ফয়সাল ক্ষিপ্ত হয়ে তার শাশুড়ীর সামনেই স্ত্রীকে মারধর করেন।

বিষয়টি কোতোয়ালী মডেল পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ ফয়সাল এবং তার বান্ধবী সোনিয়াকে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় স্ত্রী মিরাজ্জুম মনিরা নিরা বাদী হয়ে সোমবার কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। পরে ফয়সালকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সোনিয়াকে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

ঘুষসহ হাতেনাতে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ঘুষের টাকাসহ ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দীনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গ্রেপ্তারকালে তার দেহ তল্লাশি করে আরো ২৬ হাজার ৯০০ টাকা পায় দুদক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে অজয় চন্দ্র রায় নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণকালে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য‌ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক সূত্র আরো জানায়, অভিযোগকারী অজয় চন্দ্র রায় তার নামে নতুন জরিপের ওপর নামজারি করতে পূর্বের মাঠ জরিপের নামজারি ও ভূমি কর পরিশোধ সংক্রান্তে রেকর্ডপত্র দাখিল করার জন্য ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। এ সময় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন অফিস খরচ বাবদ তার কাছ থেকে ১৩০০ টাকা আদায় করেন।

পরবর্তীকালে অভিযোগকারীর কাছে আরো ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। শুধু তাই নয়, ওই টাকা না দিলে নামজারি সংক্রান্ত প্রস্তাব সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে প্রেরণ করবেন না বলেও জানান তিনি।

সূত্র জানায়, এ বিষয়ে তিনি অভিযোগ করলে দুদক ওই ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তরের জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করে। এরপরই দুদকের পরামর্শে হেলাল উদ্দীনকে ওই কর্মকর্তার নিজ দপ্তরে চার হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে দুদক।

গ্রেপ্তারের পরপরই দুদকের ময়মনসিংহের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় মামলা দায়ের করেন।

অনার্স ২য় ও ৩য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের অনার্স ২য় বর্ষ (বিশেষ) পরীক্ষার ফরম পূরণ আগামী ৭ আগস্ট থেকে এবং ২০১৬ সালের অনার্স ৩য় বর্ষ (বিশেষ) পরীক্ষার ফরম পূরণ আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও পরামর্শ দফতর এ তথ্য জানিয়েছে।

শুধুমাত্র অনিয়মিত ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ২০০৯-১০ হতে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। ফরম পূরণসহ অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.nu.edu.bd) ও (www.nubd.info) থেকে জানা যাবে।

গাজীপুরে নারী শ্রমিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুরে এক নারী শ্রমিককে এক ওসি থাপ্পর মেরে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকলে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. খলিলুর রহমান এর কার্য্যলয়ে লাঞ্ছিত ওই নাড়ীশ্রমিক এসে অভিযোগ করেন।

অভিযোগে জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আমবাগ এলাকায় মো. সোহরাফ হোসেন ইন্সপেক্টর (ওসিতদন্ত) এর বাড়িতে বাসাভাড়া নিয়ে স্থাীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। বিদ্যুৎ বিলের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ওসি তার এক ভাড়াটিয়া নারীকে থাপ্পর মেরে কান অবস করে দেন। লাঞ্ছিত ওই নারী শ্রমিক পটুয়াখালী জেলার মৌকরণ গ্রামের মো. সেলিম হোসেনের স্ত্রী মোসা. শাহিনুর বেগম।

শাহিনুর জানান, স্বামী, সন্তান নিয়ে সোহরাফ ওসির বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করি। গত মাসের চেয়ে এ মাসের বিদ্যুৎ বিল আড়াইশ টাকা বেশি হওয়ায় বিষয়টি জানতে চাওয়া মাত্র ওসি সোহরাফ হোসেন তাকে থাপ্পর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ ঘটনা জানাজানি হলে ওসির আত্বীয় মো. আব্দুস ছামাদ সেক্রটারী ওই রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে তার পক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা এবং স্থানীয় একটি ফার্মাসি থেকে ঔষধ কিনে দিয়ে পরিবেশ শান্ত করে।

এলাকাবাসি জানায়, মো. সোহরাফ হোসেন টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানায় ইন্সপেক্টর (ওসি তদন্ত) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি কিছু দিন পর পর ছুটিতে এসেই মাঝেঁর মধ্যে এ ধরণের এঘটনা ঘটান। শাহিনুর বেগম দৈনিক ভোরের ডাককে জানান, থাপ্পর মারার পরে ওসি এসে ক্ষমা চেয়েছে আমি তাকে ক্ষমা করিনি।