খালেদাকে নিয়ে সঙ্গীত শিল্পী বেবি নাজনীন যা বললেন

বিএনপি’র সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী বেবি নাজনীন বলেছেন, আমার জন্মভূমি সৈয়দপুরে সকলকে সাথে নিয়ে এক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে চাই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন অতীতের ভূল ভ্রান্তি সংশোধন করে এবং সকল দলীয় কোন্দল মিটিয়ে প্রমাণ করতে হবে সৈয়দপুর বিএনপি’র ঘাঁটি।

বিএনপির কর্মীসভায় অংশ নিতে শনিবার দুপুরে ঢাকা থেকে নীলফামারীতে যাওয়ার পথে সৈয়দপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী বেবি নাজনীন বলেন, ২০১৮ হচ্ছে নির্বাচনের বছর। এবারের নির্বাচন হবে চ্যালেঞ্জের নির্বাচন। একদিকে জনগন অন্যদিকে ক্ষমতাসীনরা। তাই জনগনের আশা আকাংখা পূরণে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বড় দলে ছোটখাট সমস্যা থাকতেই পারে। আর এসব সমস্যা সমাধান করে সৈয়দপুর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি কাজ করে যাবেন। তিনি বলেন, আমরা বড়দের সম্মান আর ছোটদের স্নেহ করি বলেই বিএনপির জনপ্রিয় দল। বেবি নাজনীন বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমাদের বিজয় অবশ্যই হবে। আগামীতে আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য দলের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

মতবিনিময়কালে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য বলেন, বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. ওবায়দুর রহমান, একেএম এহসানুল হক, প্রভাষক শওকত হায়াৎ শাহ, শামসুল আলম প্রমুখ। এ সময় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দলসহ অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

‘ডিএনসিসি’র মেয়র প্রার্থী হলেন মাইলসের শাফিন

জনপ্রিয় ব্যান্ড দল মাইলসের বেজ গিটারিস্ট ও প্রধান গায়ক শাফিন আহমেদ এবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপ-নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হলেন। ববি হাজ্জাজের দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) থেকে প্রার্থী হচ্ছেন শাফিন।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ববি হাজ্জাজ তার দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে শাফিন আহমেদের নাম ঘোষণা করেন। শাফিন দলটির উচ্চ পরিষদ সদস্য। সংবাদ সম্মলনে দলটির অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

গত ১ ডিসেম্বর মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ডিএনসিসি’র মেয়র পদটি শূন্য ঘোষণা করে সরকার। নির্বাচন কমিশন এখন সে পদের উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারির শেষে নির্বাচন হতে পারে বলে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব জানিয়েছেন।

অপু বিশ্বাসকে সাহস দিয়ে যা বললেন মেয়র আইভী

বছরের আলোচিত একটি ঘটনা হয়েই থাকছে শাকিব-অপুর দাম্পত্য ও ডিভোর্স কাণ্ড। ২০০৮ সালে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন ঢাকাই ছবির আলোচিত জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ ৮ বছর এই খবর ছিলো গোপন। সেই খবর প্রকাশ হতে না হতেই ডিভোর্সের পথে হাঁটছে এই দাম্পত্য।

গেল ২৮ নভেম্বর দুটি অভিযোগ এনে অবাধ্য স্ত্রী অপু বিশ্বাসকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছেন শাকিব খান। এই খবর নাড়া দিয়ে গেছে সারাদেশের সিনেমাপ্রেমী ও নানা অঙ্গনের মানুষদের। সমালোচিত হচ্ছেন দুই তারকাই। তবে ধর্ম, জাত ত্যাগ করে শাকিবকে বিয়ে করা অপুর এই ভাগ্য মেনে নিতে পারছেন না তার ভক্তরা। এই দুঃসময়ে অপুকে সাহস ও পরামর্শ দিচ্ছেন তার সহকর্মীরা। তাকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিনসহ আরও অনেকেই।

এবার সেই তালিকায় এলেন নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। গতকাল সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সাংষ্কৃতিক এক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সেখানেই তিনি অপু বিশ্বাসকে এই দুঃসময়ে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন।

অপুকে সাহস যুগিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আজকে বিশেষ কিছু বলার জন্য আসিনি। আমি শুধু ক্লাব মেম্বার এবং প্রার্থীদের আয়োজন উপভোগ করতে এসেছি। আমি আপনাদের মতই ক্লাবের একজন সাধারণ মেম্বার। চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস যেহেতু আমাকে কিছু কথা বলতে বলেছে, তাই তাকে সম্মান করেই বলছি। মানুষের জীবনে হার জিত থাকেই। খারাপ ভাল মিলিয়ে মানুষের জীবন। নারীদের ক্ষেত্রে কিছু হলেই সমাজ নারীদের দিকেই আঙ্গুল তোলে। দোষ হোক যে কারো, সেটা নারীদের উপর দিয়েই যাবে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে বলছি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হতে হবে।’

অপুকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘যার সাহস আছে সেই এগিয়ে যেতে পারে। অপু বিশ্বাস যদি ব্যক্তি জীবনে পরিষ্কার থাকেন তবে আপনাকে বলছি, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সত্যকে মেনে নিতে হবে, নিজের সাথে প্রতারণা করা যাবে না। সত্য যত কঠিনই হোক তাকে প্রকাশ করতে হবে। সেটা যে ক্ষেত্রেই হোক। সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তি জীবন। ধৈর্য ধারন করুন।’

প্রসঙ্গত, বিজয় দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে এই আয়োজন করেন ক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী মাহবুবুর রহমান মাসুম ও সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী ইকবাল হাবিব। সেখানে ক্লাবের সদস্যগণের পাশাপাশি রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। সূত্র- জাগো নিউজ

মঞ্চে শামীম ওসমানকে নাচালেন জয় (ভিডিও)

জুমবাংলা ডেস্কঃ এটিএন বাংলার আলোচিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘সেন্স অব হিউমার’ এর উপস্থাপক অভিনেতা ও পরিচালক শাহরিরার নাজিম জয়। একের পর চমক দিয়ে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। তার এবারের চমক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শামীম ওসমান। মঞ্চে জয়ের সাথে নাচলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।  এমনকি গানের সুরে ঠোটও মিলিয়েছেন আলোচিত এই সংসদ সদস্য।

গানে ঠোঁট মেলানো এবং নাচার পর উপস্থাপক জয় অতিথি শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘শামীম ভাই আপনি যে নাচলেন সেটা অসাধারণ হলেও আপনার নাচ অনেক দুর্বল। মিনিমাম ২ বছর লাগবে আপনার নাচ শিখতে।’

 

এরপর শামীম ওসমান জয়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি আমাকে নাচের ট্রেনিং দেন।’ শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘আমার ভাগ্নি রয়েছে নাম সাদিয়া ইসলাম মৌ। তাকে বলবো সে আমাকে শিখিয়ে দেব। এরপর যদি এই অনুষ্ঠানে আসি তখন আপনার (জয়) চেয়ে ভালো নাচব।’

তারকাদের জীবনের নানা গোপন তথ্য ফাঁস করে ইতিমধ্যেই আলোচিত হয়ে উঠেছে রম্য ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘সেন্স অব হিউমার’। এবার সেখানে গিয়েছেন শামীম ওসমান। সেখানে রাজনৈতিক জীবনের নানা অজানা কথা তুলে ধরেছেন আলোচিত এই রাজনৈতিক নেতা। সেখানে তিনি জবাব দিয়েছেন কেন তিনি এত আলোচিত এবং সমালোচিত। তার জীবনের নানা উত্থান পতনের গল্পও রসিকতার ছলে বলেছেন।

অনুষ্ঠানের একটি ভিডিওতে দেখা যায় আলোচনার এক পর্যায়ে উপস্থাপনাক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের কথা মত সুবীর নন্দির গাওয়া ‌‘বন্ধু তোর বরাত নিয়ে আমি যাবো’ গানের সঙ্গে ঠোঁট মেলান ও নাচেন শামীম ওসমান। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ এ পর্বের শুটিং শেষ। এটিএন বাংলায় প্রচার হবে ২ ডিসেম্বর।

ভিডিও ক্লিপটি দেখতে ক্লিক করুন

সতর্ক করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের ৬ বিতর্কিত এমপিকে

উৎপল দাস: নিজ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় কোন্দল, দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এমন এমপিদের ঢাকায় ডাকা হচ্ছে। সতর্ক করা হচ্ছে তাদের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে। পাশাপাশি এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সব ধরনের বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশও দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে বেশ কয়েক নেতাকে দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ডেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পক্ষে তাদের সতর্ক করেছেন। প্রথম দিকে ঢাকার এমপিদের দলীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট নেতারা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলার নেতাদেরও ডাকা হবে।

দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ডাক পেয়েছেন এমন দুজন এমপি বলেন, দলীয় সভাপতির পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক তাদেরকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও নৌকার পক্ষে এখন থেকেই ভোট চাওয়ার কথা বলেছেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় দ্বন্দ্ব নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংসদ সদস্য যারা বেপরোয়া হয়ে গেছেন, যাদের কাজকর্মে জনমনে ক্ষোভ ও বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে তাদের ডেকে সতর্ক করে দিচ্ছেন। তাদের ভালো হওয়ার কথা বলেছেন, সংশোধন হওয়ার কথা বলেছেন। জনগণ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে, যারা জনগণের দুর্ভোগের কারণ, দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করছেন, বিভেদ তৈরি করছেন, উপদল তৈরি করছেন, আত্মীয়করণ করছেন তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না। এটা যেমন আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, সাধারণ সম্পাদকও বলছেন। তিনি বলেন, ঢাকা-২০ আসনের এমপি এম এ মালেককেও দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এম এ মালেক বলেন, ওবায়দুল কাদের আমাকে ডেকেছিলেন। তিনি বলেছেন, তোমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করো। নির্বাচন কঠিন হবে। তাই এখন থেকেই তোমরা নির্বাচনের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ো। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন, তার নির্দেশে তোমাদের ডাকছি। তিনি বলেন, শুধু আমাকে নয় ওইদিন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, ঢাকা-১৯ আসনের এনামুর রহমানকেও ডাকা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের আমাদের বলেছেন, নির্বাচনী এলাকায় যারা বিরোধিতা করে তাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করো। বিতর্কিত এমপি ও নেতাদের দলীয় কার্যালয়ে ডেকে সতর্ক করা প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, যারা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন দলের পক্ষ থেকে তাদেরই মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে প্রার্থীদের ডেকে সতর্ক করলে যতটুকু না ফলদায়ক হবে বরং দলীয়ভাবে দ্বন্দ নিরসনের উদ্যোগটা বেশি ফলদায়ক হবে। কারণ কোনো কারণে বা প্রয়োজনে প্রার্থীদের কোনো গ্রুপ হয়তো তাকে সাপোর্ট করে আবার কোনো গ্রুপ করে না। তো তারা (এমপি বা নেতা) কীভাবে রিলেশন করবে? সুতরাং এটা দলীয়ভাবেই উদ্যোগ নেয়া উচিত। আমি মনে করি যাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তাদের ডেকে দলীয়ভাবে উদ্যোগ নিলে আরও বেশি ফলদায়ক হবে।

এদিকে নির্বাচনকে টার্গেট করে এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকামুখী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপিরা। যোগ দিচ্ছেন নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। বাড়িয়েছেন অনুদানের পরিমাণও। সব মিলিয়ে তাদের টার্গেট আগামী নির্বাচনে আবারও দলের টিকিট পাওয়া। কয়দিন আগেও নির্বাচনী এলাকার মানুষরা যেসব এমপিদের কাছে পাননি এখন সব সময়ই তাদের কাছে পাচ্ছেন। এমপিরা অনেকের বাড়িতে গিয়েও খোঁজ নেয়া শুরু করেছেন। আগে সহকারীদের মাধ্যমে অনুদান দেয়া বা সামাজিক কর্মসূচি পালন করলেও এখন নিজেরাই এসব করছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তারা। কীভাবে জনসংযোগ বাড়িয়ে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া যায় তা নিয়ে সতর্ক হচ্ছেন আওয়ামী লীগের এমপিরা। ভোটারদের মন জয় করতে নতুন নতুন প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন কেউ কেউ। এলাকায় যোগাযোগ বাড়াতে কিছুদিন আগে এমপিদের পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও। এ কারণে আগে যারা মাসে একবারও এলাকায় আসতেন না তারা সপ্তাহে অন্তত তিন-চার দিন থাকছেন এলাকায়।

গত ৭ই মে সংসদ সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে এমপিদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন শেখ হাসিনা। ওইদিন তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন কাউকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে না। আগামী নির্বাচন সহজ হবে না। অনেক কঠিন হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে। সরকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে বলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগলে কিংবা নির্বাচনকে সহজভাবে নিলে চলবে না। জনগণের কাছে যেতে হবে। কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মানুষের কাছে তুলে ধরে জনগণের মন জয় করতে হবে। দলীয় প্রধানের ওই নির্দেশনার পর মূলত জনবিচ্ছিন্ন এমপিরা এলাকায় নতুন করে যাতায়াত বাড়িয়ে দেন। সম্প্রতি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিতর্কিত ও জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবে না।

লন্ডনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের গোপন বৈঠকের খবর কতটা সত্য?

লন্ডনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বৈঠক খবর কতটা সত্য? মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরালের এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লেও কোনো গণমাধ্যমে তা আসেনি। এদিকে পূর্বপশ্চিমের কাছে গোপন বৈঠকের বিষয় বেশ কিছু তথ্য এসেছে। তথ্যের প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের অনুসন্ধান চালাতে পারিনি। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আমাদের কাছে যেসব তথ্য এসেছে সেগুলোর মধ্যে চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়। সেখানে তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে গোপন বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে। খুব গোপনীয়ভাবে সেন্ট্রাল লন্ডনে একটি হোটেলে তারা বসেছিলেন। গোপন ওই বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন তারেক রহমান, লন্ডনে পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন আর এক যুদ্ধাপরাধী আশরাফুজ্জামান এবং লন্ডনের জামায়াতের কয়েকজন নেতা ।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন যাবার পর থেকেই তার উপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। তাদের তথ্য অনু্যায়ী লন্ডনস্থ পাকিস্তান এম্বাসিতে কর্মরত জুনায়েদ নামের এক ব্যাক্তি যিনি সম্ভবত পাকিস্তান এর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আই এর আন্ডার কাভার একজন অফিসার, তিনি খালেদা জিয়ার সাথে তার লন্ডন এ পৌঁছানোর পরই দেখা করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায় ছদ্মবেশী এই জুনায়েদ লন্ডনে থাকাকালীন খালেদা পুত্র এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তথা বাংলাদেশের সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়ার সাথে খুবই নিবিড় ও গোপন সম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। জানা যায়, জুনায়েদের সাক্ষাতের পর পাকিস্তান এর আই এস আই এর পূর্বাঞ্চল গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা রিয়াজ আশফাক লন্ডনে পাড়ি জমান এবং বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাত করেন। জুনায়েদ এবং রিয়াজ এর সাথে উভয় সাক্ষাতই ঘটে লন্ডনের সেইন্ট জেমস কোর্ট এরিয়াতে অবস্থিত তাজ হোটেলে ১৮ এবং ১৯ জুলাই , ২০১৭ সালে, গভীর রাতে।

উল্লেখ্য এই তাজ হোটেলেই তারেক রহমান বাংলাদেশে ২০১৪ সালের নির্বাচনের এর পূর্বে ও পরে তার গোপন বৈঠকগুলো পরিচালনা করতেন। এমনকি এই তাজ হোটেলেই ২০১৪ এর নির্বাচন প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নিশা দিশাই বিলওয়ালের পূর্বে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন এসিটেন্ট সেক্রেটারি রবার্ট ব্লেকের সাথেও দুবার তারেক সাক্ষাত করেছিলেন ।

এই হোটেলটি আই এস আই এর আগেও বহুবার তাদের গোপন বৈঠকের জন্য ব্যবহার করেছে। ১৯৯৫-৯৬ সালে আই এস আই এই হোটেলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনী আব্দুর রশীদ এর সাথে বাংলাদেশ এর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠক করেছিলো বলে জানা যায় ।

এছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাটির রিপোর্টে জানা যায়, আই এস এর সদস্যরা নেদারল্যান্ডের রাজধানীর উপকূলের একটি শহর ব্রেডায় বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সাথে দেখা করে। এছাড়াও বাংলাদেশ বংশোদ্ভুত খালেদ মহিউদ্দিনের সাথেও তারা বৈঠক করে ।

এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি ফারুক-রশিদদের সাথে বৈঠক করে শ্রীলংকার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এল টি টি ই’ র সাথে যোগাযোগ এবং প্রক্রিয়া খোঁজার চেষ্টা করে যে যেভাবে শ্রীলংকান এল টি টি ই যেভাবে আত্মঘাতী বোমা হামলায় রাজীব গান্ধীকে হত্যা করে, তেমন কোন প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যা করা যায় কিনা। কিন্তু সেসময় ইজরায়েলি একটি সংস্থার মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশীয় দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সে তথ্য পেয়ে যায় এবং এই হত্যা চক্রান্ত ভেস্তে যায়।

কিন্তু বর্তমানে এই খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরে আই এস আই এর রিয়াজ এর সাথে বৈঠকের ব্যাপারটি থেকে এই উপমহাদেশের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা করছে হয়তো খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া সহ আওয়ামী বিরোধী চক্র বাংলাদেশ এ নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় বা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে সফররত অবস্থায় বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটানোর প্রচেষ্টা করতে পারে এবং এই আত্মঘাতী বোমা হামলার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে পাকিস্তানের আত্মঘাতী বোমা হামলায় পারদর্শী জিহাদি গোষ্ঠীর সদস্যদের এবং সেই সাথে বাংলাদেশ এ আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের দ্বারা গঠিত আত্মঘাতী শিশু এবং নারী বোমা হামলাকারীদের দ্বারা।

এছাড়া জানা যায় বাংলাদেশের কিছুটা অস্থির পার্বত্য অঞ্চলের সরকার বিরোধী গোষ্ঠীদেরও এই হামলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ।

উল্লেখ্য যে, দুজন আই এস আই অফিসার যাদের নাম জানা যায় যথাক্রমে কর্ণেল বশির এবং মেজর ইমতিয়াজ তারা বর্তমানে হংকং এ সক্রিয় রয়েছে চীন নির্মিত অবৈধ অস্ত্র কিভাবে মায়ানমার-চীন বর্ডার দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী উলফা এবং বাংলাদেশের জন সংহতি সমিতিকে সরবরাহ করা যায় ।

উল্লেখ্য কর্ণেল বশির এবং মেজর ইমতিয়াজ মায়ানমারের অন্যতম বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী UNITED WA STATE ARMY এর নিকট থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করছে বলে জানা যায় । উল্লেখ্য USWA বর্তমানে মায়ানমার এর অন্যতম বিদ্রোহী বিছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যাদের প্রায় ২৫০০০ সদস্য আছে বলে জানা যায় ।

এমনকি অনেক সূত্র থেকে গোপনে জানা যায়, সংগঠনটি চীনা ভারি অস্ত্র এবং অত্যাধুনিক অ্যান্টি এয়ারক্রাফট মিসাইলও নিজেদের করায়ত্ত করেছে ।

আর UWSA এর তরফ থেকে নেপালি বংশোদ্ভুত শিভ পাণ্ডে নামক একজন এই অস্ত্র কেনা-বেচার মধ্যস্থতা করছেন বলেও জানা যায় ।

তবে, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকের কথা দলটির পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। এমনকি লন্ডনে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী একজনকে ভাইভারে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

সৌজন্যেঃ পূর্বপশ্চিম 

লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার মতবিরোধ তুঙ্গে

পরিবারের সঙ্গে সময় দিতে এবং চিকিৎসার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে লন্ডনে অবস্থান করছেন। বড় ছেলে এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কিংসটনের বাসায় তিনি অবস্থান করছেন। লন্ডনে যাওয়ার পর থেকেই তিনি এ কয়দিন নাতনীদের সঙ্গে আনন্দেই সময় কাটিয়েছেন বলে জানিয়েছে খালেদা জিয়ার এক সফরসঙ্গী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরসঙ্গী বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর খালেদা জিয়া দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে বসেন। এসময় তাদের দুজনের মতবিরোধ তুঙ্গে উঠে।

কি বিষয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয় এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কথা তুলেন তারেক রহমান। ওই সময় খালেদা জিয়া কয়েকজন বয়স্ক ছাত্রদল নেতার নাম প্রস্তাব করলে ক্ষেপে যান তারেক রহমান। তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, মাঠ দখল করতে হলে ছাত্রদলকে ঢেলে সাজাতে হবে।

সূত্র আরো জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে তারেক রহমান সরাসরি বলেছেন- এবারের ছাত্রদলের কমিটি নিজের মতো গড়তে চান তিনি। যেখানে বুড়োদের কোনো ঠাঁই হবে না। নতুন কমিটির শীর্ষ ৫ নেতার নামও বলেছেন তারেক রহমান। তাদের মধ্য থেকে যেকোনো দুই জনকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করার কথা বলেছেন।