মঞ্চে শামীম ওসমানকে নাচালেন জয় (ভিডিও)

জুমবাংলা ডেস্কঃ এটিএন বাংলার আলোচিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘সেন্স অব হিউমার’ এর উপস্থাপক অভিনেতা ও পরিচালক শাহরিরার নাজিম জয়। একের পর চমক দিয়ে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। তার এবারের চমক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শামীম ওসমান। মঞ্চে জয়ের সাথে নাচলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।  এমনকি গানের সুরে ঠোটও মিলিয়েছেন আলোচিত এই সংসদ সদস্য।

গানে ঠোঁট মেলানো এবং নাচার পর উপস্থাপক জয় অতিথি শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘শামীম ভাই আপনি যে নাচলেন সেটা অসাধারণ হলেও আপনার নাচ অনেক দুর্বল। মিনিমাম ২ বছর লাগবে আপনার নাচ শিখতে।’

 

এরপর শামীম ওসমান জয়কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি আমাকে নাচের ট্রেনিং দেন।’ শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘আমার ভাগ্নি রয়েছে নাম সাদিয়া ইসলাম মৌ। তাকে বলবো সে আমাকে শিখিয়ে দেব। এরপর যদি এই অনুষ্ঠানে আসি তখন আপনার (জয়) চেয়ে ভালো নাচব।’

তারকাদের জীবনের নানা গোপন তথ্য ফাঁস করে ইতিমধ্যেই আলোচিত হয়ে উঠেছে রম্য ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘সেন্স অব হিউমার’। এবার সেখানে গিয়েছেন শামীম ওসমান। সেখানে রাজনৈতিক জীবনের নানা অজানা কথা তুলে ধরেছেন আলোচিত এই রাজনৈতিক নেতা। সেখানে তিনি জবাব দিয়েছেন কেন তিনি এত আলোচিত এবং সমালোচিত। তার জীবনের নানা উত্থান পতনের গল্পও রসিকতার ছলে বলেছেন।

অনুষ্ঠানের একটি ভিডিওতে দেখা যায় আলোচনার এক পর্যায়ে উপস্থাপনাক শাহরিয়ার নাজিম জয়ের কথা মত সুবীর নন্দির গাওয়া ‌‘বন্ধু তোর বরাত নিয়ে আমি যাবো’ গানের সঙ্গে ঠোঁট মেলান ও নাচেন শামীম ওসমান। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ এ পর্বের শুটিং শেষ। এটিএন বাংলায় প্রচার হবে ২ ডিসেম্বর।

ভিডিও ক্লিপটি দেখতে ক্লিক করুন

সতর্ক করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের ৬ বিতর্কিত এমপিকে

উৎপল দাস: নিজ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় কোন্দল, দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এমন এমপিদের ঢাকায় ডাকা হচ্ছে। সতর্ক করা হচ্ছে তাদের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে। পাশাপাশি এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সব ধরনের বিরোধ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশও দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে বেশ কয়েক নেতাকে দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ডেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পক্ষে তাদের সতর্ক করেছেন। প্রথম দিকে ঢাকার এমপিদের দলীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট নেতারা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলার নেতাদেরও ডাকা হবে।

দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ডাক পেয়েছেন এমন দুজন এমপি বলেন, দলীয় সভাপতির পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক তাদেরকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও নৌকার পক্ষে এখন থেকেই ভোট চাওয়ার কথা বলেছেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় দ্বন্দ্ব নিরসন করে ঐক্যবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংসদ সদস্য যারা বেপরোয়া হয়ে গেছেন, যাদের কাজকর্মে জনমনে ক্ষোভ ও বিরুপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে তাদের ডেকে সতর্ক করে দিচ্ছেন। তাদের ভালো হওয়ার কথা বলেছেন, সংশোধন হওয়ার কথা বলেছেন। জনগণ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে, যারা জনগণের দুর্ভোগের কারণ, দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করছেন, বিভেদ তৈরি করছেন, উপদল তৈরি করছেন, আত্মীয়করণ করছেন তাদের মনোনয়ন দেয়া হবে না। এটা যেমন আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, সাধারণ সম্পাদকও বলছেন। তিনি বলেন, ঢাকা-২০ আসনের এমপি এম এ মালেককেও দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এম এ মালেক বলেন, ওবায়দুল কাদের আমাকে ডেকেছিলেন। তিনি বলেছেন, তোমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করো। নির্বাচন কঠিন হবে। তাই এখন থেকেই তোমরা নির্বাচনের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ো। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন, তার নির্দেশে তোমাদের ডাকছি। তিনি বলেন, শুধু আমাকে নয় ওইদিন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, ঢাকা-১৯ আসনের এনামুর রহমানকেও ডাকা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের আমাদের বলেছেন, নির্বাচনী এলাকায় যারা বিরোধিতা করে তাদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করো। বিতর্কিত এমপি ও নেতাদের দলীয় কার্যালয়ে ডেকে সতর্ক করা প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, যারা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন দলের পক্ষ থেকে তাদেরই মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে প্রার্থীদের ডেকে সতর্ক করলে যতটুকু না ফলদায়ক হবে বরং দলীয়ভাবে দ্বন্দ নিরসনের উদ্যোগটা বেশি ফলদায়ক হবে। কারণ কোনো কারণে বা প্রয়োজনে প্রার্থীদের কোনো গ্রুপ হয়তো তাকে সাপোর্ট করে আবার কোনো গ্রুপ করে না। তো তারা (এমপি বা নেতা) কীভাবে রিলেশন করবে? সুতরাং এটা দলীয়ভাবেই উদ্যোগ নেয়া উচিত। আমি মনে করি যাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তাদের ডেকে দলীয়ভাবে উদ্যোগ নিলে আরও বেশি ফলদায়ক হবে।

এদিকে নির্বাচনকে টার্গেট করে এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকামুখী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপিরা। যোগ দিচ্ছেন নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। বাড়িয়েছেন অনুদানের পরিমাণও। সব মিলিয়ে তাদের টার্গেট আগামী নির্বাচনে আবারও দলের টিকিট পাওয়া। কয়দিন আগেও নির্বাচনী এলাকার মানুষরা যেসব এমপিদের কাছে পাননি এখন সব সময়ই তাদের কাছে পাচ্ছেন। এমপিরা অনেকের বাড়িতে গিয়েও খোঁজ নেয়া শুরু করেছেন। আগে সহকারীদের মাধ্যমে অনুদান দেয়া বা সামাজিক কর্মসূচি পালন করলেও এখন নিজেরাই এসব করছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তারা। কীভাবে জনসংযোগ বাড়িয়ে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া যায় তা নিয়ে সতর্ক হচ্ছেন আওয়ামী লীগের এমপিরা। ভোটারদের মন জয় করতে নতুন নতুন প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন কেউ কেউ। এলাকায় যোগাযোগ বাড়াতে কিছুদিন আগে এমপিদের পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও। এ কারণে আগে যারা মাসে একবারও এলাকায় আসতেন না তারা সপ্তাহে অন্তত তিন-চার দিন থাকছেন এলাকায়।

গত ৭ই মে সংসদ সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে এমপিদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন শেখ হাসিনা। ওইদিন তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন কাউকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হবে না। আগামী নির্বাচন সহজ হবে না। অনেক কঠিন হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে। সরকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে বলে আত্মতৃপ্তিতে ভুগলে কিংবা নির্বাচনকে সহজভাবে নিলে চলবে না। জনগণের কাছে যেতে হবে। কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মানুষের কাছে তুলে ধরে জনগণের মন জয় করতে হবে। দলীয় প্রধানের ওই নির্দেশনার পর মূলত জনবিচ্ছিন্ন এমপিরা এলাকায় নতুন করে যাতায়াত বাড়িয়ে দেন। সম্প্রতি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিতর্কিত ও জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবে না।

লন্ডনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের গোপন বৈঠকের খবর কতটা সত্য?

লন্ডনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বৈঠক খবর কতটা সত্য? মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরালের এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লেও কোনো গণমাধ্যমে তা আসেনি। এদিকে পূর্বপশ্চিমের কাছে গোপন বৈঠকের বিষয় বেশ কিছু তথ্য এসেছে। তথ্যের প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের অনুসন্ধান চালাতে পারিনি। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আমাদের কাছে যেসব তথ্য এসেছে সেগুলোর মধ্যে চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়। সেখানে তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে গোপন বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে। খুব গোপনীয়ভাবে সেন্ট্রাল লন্ডনে একটি হোটেলে তারা বসেছিলেন। গোপন ওই বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন তারেক রহমান, লন্ডনে পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছেন আর এক যুদ্ধাপরাধী আশরাফুজ্জামান এবং লন্ডনের জামায়াতের কয়েকজন নেতা ।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন যাবার পর থেকেই তার উপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। তাদের তথ্য অনু্যায়ী লন্ডনস্থ পাকিস্তান এম্বাসিতে কর্মরত জুনায়েদ নামের এক ব্যাক্তি যিনি সম্ভবত পাকিস্তান এর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আই এস আই এর আন্ডার কাভার একজন অফিসার, তিনি খালেদা জিয়ার সাথে তার লন্ডন এ পৌঁছানোর পরই দেখা করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায় ছদ্মবেশী এই জুনায়েদ লন্ডনে থাকাকালীন খালেদা পুত্র এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তথা বাংলাদেশের সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়ার সাথে খুবই নিবিড় ও গোপন সম্পর্ক বজায় রেখে চলেন। জানা যায়, জুনায়েদের সাক্ষাতের পর পাকিস্তান এর আই এস আই এর পূর্বাঞ্চল গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা রিয়াজ আশফাক লন্ডনে পাড়ি জমান এবং বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাত করেন। জুনায়েদ এবং রিয়াজ এর সাথে উভয় সাক্ষাতই ঘটে লন্ডনের সেইন্ট জেমস কোর্ট এরিয়াতে অবস্থিত তাজ হোটেলে ১৮ এবং ১৯ জুলাই , ২০১৭ সালে, গভীর রাতে।

উল্লেখ্য এই তাজ হোটেলেই তারেক রহমান বাংলাদেশে ২০১৪ সালের নির্বাচনের এর পূর্বে ও পরে তার গোপন বৈঠকগুলো পরিচালনা করতেন। এমনকি এই তাজ হোটেলেই ২০১৪ এর নির্বাচন প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নিশা দিশাই বিলওয়ালের পূর্বে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন এসিটেন্ট সেক্রেটারি রবার্ট ব্লেকের সাথেও দুবার তারেক সাক্ষাত করেছিলেন ।

এই হোটেলটি আই এস আই এর আগেও বহুবার তাদের গোপন বৈঠকের জন্য ব্যবহার করেছে। ১৯৯৫-৯৬ সালে আই এস আই এই হোটেলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনী আব্দুর রশীদ এর সাথে বাংলাদেশ এর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠক করেছিলো বলে জানা যায় ।

এছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাটির রিপোর্টে জানা যায়, আই এস এর সদস্যরা নেদারল্যান্ডের রাজধানীর উপকূলের একটি শহর ব্রেডায় বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সাথে দেখা করে। এছাড়াও বাংলাদেশ বংশোদ্ভুত খালেদ মহিউদ্দিনের সাথেও তারা বৈঠক করে ।

এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি ফারুক-রশিদদের সাথে বৈঠক করে শ্রীলংকার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এল টি টি ই’ র সাথে যোগাযোগ এবং প্রক্রিয়া খোঁজার চেষ্টা করে যে যেভাবে শ্রীলংকান এল টি টি ই যেভাবে আত্মঘাতী বোমা হামলায় রাজীব গান্ধীকে হত্যা করে, তেমন কোন প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যা করা যায় কিনা। কিন্তু সেসময় ইজরায়েলি একটি সংস্থার মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশীয় দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা সে তথ্য পেয়ে যায় এবং এই হত্যা চক্রান্ত ভেস্তে যায়।

কিন্তু বর্তমানে এই খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরে আই এস আই এর রিয়াজ এর সাথে বৈঠকের ব্যাপারটি থেকে এই উপমহাদেশের প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা করছে হয়তো খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া সহ আওয়ামী বিরোধী চক্র বাংলাদেশ এ নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় বা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে সফররত অবস্থায় বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটানোর প্রচেষ্টা করতে পারে এবং এই আত্মঘাতী বোমা হামলার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে পাকিস্তানের আত্মঘাতী বোমা হামলায় পারদর্শী জিহাদি গোষ্ঠীর সদস্যদের এবং সেই সাথে বাংলাদেশ এ আটকে থাকা রোহিঙ্গাদের দ্বারা গঠিত আত্মঘাতী শিশু এবং নারী বোমা হামলাকারীদের দ্বারা।

এছাড়া জানা যায় বাংলাদেশের কিছুটা অস্থির পার্বত্য অঞ্চলের সরকার বিরোধী গোষ্ঠীদেরও এই হামলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ।

উল্লেখ্য যে, দুজন আই এস আই অফিসার যাদের নাম জানা যায় যথাক্রমে কর্ণেল বশির এবং মেজর ইমতিয়াজ তারা বর্তমানে হংকং এ সক্রিয় রয়েছে চীন নির্মিত অবৈধ অস্ত্র কিভাবে মায়ানমার-চীন বর্ডার দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী উলফা এবং বাংলাদেশের জন সংহতি সমিতিকে সরবরাহ করা যায় ।

উল্লেখ্য কর্ণেল বশির এবং মেজর ইমতিয়াজ মায়ানমারের অন্যতম বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী UNITED WA STATE ARMY এর নিকট থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করছে বলে জানা যায় । উল্লেখ্য USWA বর্তমানে মায়ানমার এর অন্যতম বিদ্রোহী বিছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যাদের প্রায় ২৫০০০ সদস্য আছে বলে জানা যায় ।

এমনকি অনেক সূত্র থেকে গোপনে জানা যায়, সংগঠনটি চীনা ভারি অস্ত্র এবং অত্যাধুনিক অ্যান্টি এয়ারক্রাফট মিসাইলও নিজেদের করায়ত্ত করেছে ।

আর UWSA এর তরফ থেকে নেপালি বংশোদ্ভুত শিভ পাণ্ডে নামক একজন এই অস্ত্র কেনা-বেচার মধ্যস্থতা করছেন বলেও জানা যায় ।

তবে, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকের কথা দলটির পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। এমনকি লন্ডনে খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী একজনকে ভাইভারে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।

সৌজন্যেঃ পূর্বপশ্চিম 

লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার মতবিরোধ তুঙ্গে

পরিবারের সঙ্গে সময় দিতে এবং চিকিৎসার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে লন্ডনে অবস্থান করছেন। বড় ছেলে এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কিংসটনের বাসায় তিনি অবস্থান করছেন। লন্ডনে যাওয়ার পর থেকেই তিনি এ কয়দিন নাতনীদের সঙ্গে আনন্দেই সময় কাটিয়েছেন বলে জানিয়েছে খালেদা জিয়ার এক সফরসঙ্গী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরসঙ্গী বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর খালেদা জিয়া দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে বসেন। এসময় তাদের দুজনের মতবিরোধ তুঙ্গে উঠে।

কি বিষয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয় এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কথা তুলেন তারেক রহমান। ওই সময় খালেদা জিয়া কয়েকজন বয়স্ক ছাত্রদল নেতার নাম প্রস্তাব করলে ক্ষেপে যান তারেক রহমান। তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, মাঠ দখল করতে হলে ছাত্রদলকে ঢেলে সাজাতে হবে।

সূত্র আরো জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে তারেক রহমান সরাসরি বলেছেন- এবারের ছাত্রদলের কমিটি নিজের মতো গড়তে চান তিনি। যেখানে বুড়োদের কোনো ঠাঁই হবে না। নতুন কমিটির শীর্ষ ৫ নেতার নামও বলেছেন তারেক রহমান। তাদের মধ্য থেকে যেকোনো দুই জনকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করার কথা বলেছেন।

‘আ.লীগ ডিসি ও নির্বাচন কমিশনারকেও জেলে দেবে’

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ এখনই ইউএনওকে জেলে দিয়েছে, এরপর তো ডিসি ও নির্বাচন কমিশনারকেও জেলে দেবে। তাই আওয়ামী লীগের অধীন কোনো নির্বাচন হবে না। সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে।

মঙ্গলবার বরিশাল নগরের অশ্বিনীকুমার হলে অনুষ্ঠানে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারি খরচে হেলিকপ্টারে প্রচারণা চালাবে, আর বিএনপি নেতারা কোর্টের বারান্দায় দৌড়াবে, তা হবে না। মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। আওয়ামী লীগের শৃঙ্খল ভাঙতে হবে। আগামী নির্বাচন হবে সহায়ক সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে। সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি শক্তি বাড়াতে নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং পুরোনো সদস্যপদ নবায়ন করছে।

তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন হলে কী হয়, তা জনগণ দেখেছে। বিগত উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন মানুষ দেখেছে। প্রশাসনের সহায়তায় তাদের ভোট ডাকাতি প্রতিহত করতেই ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার সরকারকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা হবে। একদিকে আন্দোলন, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতি প্রতিরোধে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ অবলীলায় মিথ্যাচার করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়েও মিথ্যাচার করছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ২ ভাগের বেশি নয়।

মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক সাংসদ মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের সহসভাপতি বেগম সেলিমা রহমান, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান, উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ মেজবাউদ্দিন ফরহাদ, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ারের সদস্য পদ নবায়নের মধ্য দিয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল। বিকেল পাঁচটায় একই স্থানে জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করেন। কাল বুধবার সকাল ১০টায় তিনি উত্তর বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে যোগ দেবেন।

তৃণমূলকে কঠোর যে নির্দেশ পাঠাচ্ছেন শেখ হাসিনা

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আগামীতে কেন্দ্রের অনুমোদন ছাড়া অন্য দল থেকে কাউকে দলে না ভেড়াতে তৃণমূলে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারী এবং যাদের হাত ধরে অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তাদের তালিকা করার কাজ শুরু হচ্ছে শিগগিরই। এছাড়া সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে যাতে বিতর্কিত কেউ দলে ঢুকতে না পারে- এমন বার্তাও যাচ্ছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম এবং স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, অনুপ্রবেশ নিয়ে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে। কাউকে দলে নেয়ার বিষয়ে তার সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজ নেয়া এবং কেন্দ্রকে জানানোর বাধ্যবাধকতা দিয়ে তৃণমূলে চিঠি দেয়া হবে। দলের সব পর্যায়ের নেতাদের নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে নির্দেশনা দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডদের নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বোর্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করার অভিযোগে বরগুনার ইউএনওর বিরুদ্ধে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার মামলার প্রসঙ্গ উঠলে প্রধানমন্ত্রী মামলাকারী ওই নব্য আওয়ামী লীগারকে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওই ব্যক্তি দলে নতুন এবং অত্যুৎসাহী হয়ে মামলা করেছেন বলে বোর্ডে আলোচনা হয়।

তখন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা কঠোর ভাষায় বলেন, ‘যারা বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে ঢোকেন, তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নানা অপকর্ম করেন। আর দোষ পড়ে দলের ওপর।’

তিনি বলেন, ‘কোথায় কারা ঢুকেছেন, কাদের মাধ্যমে ঢুকেছেন, কী অপকর্ম করছেন, এসব তথ্য আমার কাছে আছে। আরও তথ্য আসছে।’

কোথায় ও কার মাধ্যমে অনুপ্রবেশ, কারা দলীয় পদ পেয়েছেন, তাদের তালিকা করে জমা দেয়ার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এর আগে গত ২০ মে দলের বর্ধিত সভায় অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সতর্ক থাকতে প্রথম দফায় নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, কমিশন খাওয়ার লোভে অনেকেই দলে এসে ভিড়তে পারে। তাছাড়া বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী-নাশকতাকারীরা তাদের শাস্তি এড়াতেও নানা কায়দায় আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়তে পারে। এরা কখনোই দলের ভালো চায় না, তাই সবকিছু ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে কাউকে কাউকে দলে নিতে হবে।

পরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, অনুপ্রবেশকারী নিয়ে এখন থেকে কড়া অবস্থানে থাকবে দল। তিনি বলেন, নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সময় সবাইকে সদস্যপদ নবায়ন করতে হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে যারা অনুপ্রবেশকারী, তাদের বাদ দেয়া হবে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি কোথাও। শুক্রবার দলের সভাপতি দ্বিতীয় দফা অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় এখন নড়েচড়ে বসছেন নেতারা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের ইমেজ ক্ষুণ্ণ করছেন অনুপ্রবেশকারীরাই। কিছু আসে স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে, আবার কেউ কেউ নিজের দোষ ঢাকতে এবং শাস্তি থেকে বাঁচতে। নেতারা আশঙ্কা করছেন, আগামী নির্বাচনে দলের ভড়াডুবি ঘটাতে কাজ করতে পারে অনুপ্রবেশকারীরা। দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের মূল কারণও এসব অনুপ্রবেশকারী। ত্যাগী ও দীর্ঘ সময় দলকে সেবা দেয়া নেতাদের বঞ্চিত করে অনুপ্রবেশকারীদের দলীয় পদ দেয়ায় অনেক স্থানেই বিপত্তি বেধেছে। তাই নির্বাচনের আগে নতুন করে কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে এখন থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, শুক্রবার দলের সভাপতি অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করতে বলেছেন। যার হাত ধরে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তাদের তালিকাও করতে বলেছেন। শিগগির এ নিয়ে কাজ শুরু হবে। কোথায়, কীভাবে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তা খুঁজে বের করা হবে। দলের সভাপতির নির্দেশনা অনুসারে দলে কাউকে নেয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের শেষদিকে এসে বিএনপি-জামায়াত থেকে ব্যাপকসংখ্যক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিতে শুরু করে। তা অব্যাহত থাকে ২০১৬ এমনকি ২০১৭ সালে এসেও। বিএনপি-জামায়াতের এসব নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের হাত ধরে আওয়ামী লীগে ভেড়েন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় এমপিদের হাত ধরে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেন তারা। এ নিয়ে বিরূপ সমালোচনায় পড়ে শাসক দল। গণমাধ্যম, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল এবং সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগে বিএনপি-জামায়াতের যোগদানের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেবেশের খবর নজরে এলে ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি-জামায়াত থেকে কাউকে দলে নিতে নিষেধ করেন। কিন্তু এরপরও থেমে থাকেনি বিএনপি-জামায়াতের আওয়ামী লীগে যোগদান।

আগামী নির্বাচন ঘিরে যেসব সিদ্ধান্তে যাচ্ছেন মা-ছেলে

আগামী নির্বাচন বয়কট করে আওয়ামী লীগকে খালি মাঠে গোলের সুযোগ আর দিতে রাজি নন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাথমিক ভাবে এ সিদ্ধান্তেই উপনিত হয়েছেন দলটির দুই শীর্ষ নেতা মা ও ছেলে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী একজনের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র একটি সূত্র এমনটি জানিয়েছে।

লন্ডন অবস্থানের গত এক সপ্তাহ কিংস্টোনে ছেলের বাসায় শুধুমাত্র পরিবারের সাথেই একান্ত সান্নিধ্যে কাটিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। চিকিৎসা গ্রহন লন্ডন আসার অন্যতম একটি কারণ, দলীয় সূত্র এমনটি জানালেও তা এখনো শুরু হয়নি বলে জানা গেছে। বিষয়টি একান্তভাবে তারেক রহমানই দেখছেন এমনটি জানিয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র একজন নেতা বলেন, দলীয় বিষয় নিয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র ২/১জন শীর্ষনেতার সাথে মাঝে মাঝে কথা হলেও মায়ের চিকিৎসার বিষয়টি নিজেই দেখভাল করছেন তারেক রহমান।

অবশ্য পুত্র তারেক রহমান, দুই পুত্রবধূ ও নাতি নাতনিদের সান্নিধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুরফুরে মেজাজে পারিবারিক ভাবে সময় কাটালেও রাজনৈতিক আলোচনা অনুপস্থিত নেই মা-ছেলের মধ্যে, সূত্র এমনটি জানায়।

সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচন, মূল দলসহ অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব, কেন্দ্রীয় নেতাদের গতিবিধি, চলমান মামলা সবকিছু নিয়েই আলোচনা, পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহনের চেষ্টা হচ্ছে বিএনপি’র দুই শীর্ষ নেতা মা-ছেলের মধ্যে। ২/১জন শীর্ষনেতা ছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপি’র নেতাকর্মীদের দেখা সাক্ষাতের কোন সুযোগ নেই দলীয় চেয়ারপার্সনের সাথে। ঈদ উপলক্ষে সবার সাথে মিলিত হবেন নেত্রী, এমন আশ্বাস-স্বান্তনা দিয়েই রাখা হচ্ছে কর্মীদের। অনুষ্ঠান কখন হবে তা এখনও জানা যায়নি।

লন্ডনে কতদিন অবস্থান করবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, এমনটি জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের সফরসঙ্গীর বরাত দিয়ে সূত্র জানায়, চিকিৎসা গ্রহণের পদ্ধতির উপরই নির্ভর করছে এটি। তবে এবারের লন্ডন অবস্থানের সময় বেশ দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ওই সূত্র জানায়, সফরকালীন সময়ে লন্ডনে থেকেই দলের নেতৃত্ব দেবেন খালেদা জিয়া। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী নিয়মিতই দিক নির্দেশনা নিচ্ছেন তাঁর।

লন্ডন অবস্থানকালীন ব্রিটিশ রাজনীতিক কারো কারো সাথে খালেদার সাক্ষাত অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা করতে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র শীর্ষনেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন তারেক এমনটি জানা গেলেও এবিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি সূত্র।

এদিকে, বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় ঐক্যমত-দ্বিমত হলেও আগামী নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে একমত খালেদা-তারেক, সূত্র এমনটি নিশ্চিত করছে। তবে এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা না দিয়ে যতটুকু সম্ভব দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সরকারের উপর চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে দুজন। এক্ষেত্রে প্রভাবশালী দেশগুলোর কুটনীতিকদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজে লাগানোর সম্ভাব্যতা নিয়ে মাকে পরামর্শ দিচ্ছেন তারেক। জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত, বিদেশী দূতাবাসগুলোর সাথে ভালো সম্পর্ক আছে দলের এমন নেতাদের এ বিষয়ে কাজে লাগাতে বলেন তিনি খালেদাকে। আওয়ামী লীগকে আর খালি মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ নয়, এমন সিদ্ধান্ত এখন খালেদা-তারেকের। এক্ষেত্রে বিদেশিদের দিয়ে চাপ দিয়ে দাবি যাই আদায় করা যায় এই চেষ্টাই এখন তাদের। সহায়ক সরকার বা নূন্যতম শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাহীন প্রধানমন্ত্রী রেখে ক্ষমতাধর নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যেকোন ফর্মুলাই আদায় করা যায়, নির্বাচন বয়কট করছেনা এবার বিএনপি।

দলীয় নেতা শমসের মোবিন চৌধুরীর পদত্যাগ ও সাম্প্রতিক সময়ে ২/১জন নেতার বিব্রতকর মন্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় মায়ের নজরে এনেছেন তারেক। এসময় নেতাদের গতিবিধির উপর আরও কঠোর নজরদারী প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। ছাত্রদলের নতুন কমিটিসহ দলের নেতৃত্ব নিয়েও কিছুটা কথা হয় খালেদা-তারেকের। বিএনপি চেয়ারপার্সন এসময় প্রবীণ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে কথা বলতে চাইলে দ্বিমত পোষণ করেন তারেক। তার মতে, রাজনীতির মাট দখলে তরুণ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। পুরোনো নেতাদের কারো কারো সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য সম্পর্কে খালেদা’র দৃষ্টি আকর্ষন করে এদের সম্পর্কে নিজের আস্থাহীনতার কথা এসময় মাকে জানান দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলীয় চেয়ারপার্সনের লন্ডন সফরের বিস্তারিত কর্মসূচী সম্পর্কে জানতে চাইলে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেক বলেন, ‘চিকিৎসার উদ্দেশ্যে একান্ত পারিবারিক সফরে আছেন আমাদের নেত্রী। নেতা তারেক রহমান চিকিৎসাসহ পারিবারিক এই সফরটি নিজেই তদারক করছেন। যেহেতু সফর রাজনৈতিক নয়, সেহেতু আমরাও এনিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছিনা।’

নেতাকর্মীদের সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত অনুষ্ঠানের কোন পরিকল্পনা আছে কি না এমনটি জানতে চাইলে পরিস্কার কিছু না বলে যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি বলেন, ‘স্বৈরশাসনের মধ্যে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলনে দেশের মানুষকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের নেত্রী। এই নেত্রীর সাথে সাক্ষাতের আগ্রহতো অবশ্যই থাকবে নেতাকর্মীদের।’