কণ্ঠনীড়ের ‘পলাশ রাঙা ফাগুন’ পরিবেশনায় মুগ্ধ চট্টগ্রামের দর্শক

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ফাগুন মানেই নতুন প্রাণের কলরব। কচি পাতায় নতুন আলোর নাচন। ফেব্রুয়ারির ফাগুন শুধু প্রাণ জাগাবার মাস নয়, এ মাস স্পর্ধিত সাহস ও অবিনাশী চেতনায় জেগে উঠবার মাস। এ চেতনাকেই ধারণ করে বাচিক শিল্পচর্চাকেন্দ্র কন্ঠনীড়।

ফাগুনের এই উদ্বোধনী আলোতেই শুক্রবার এই সংগঠনের আয়োজনে নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আবৃত্তি সন্ধ্যা ‘পলাশ রাঙা ফাগুন’। একক আবৃত্তি, বৃন্দ পরিবেশনা, কাব্য নাটক এবং সঙ্গীতায়োজনের মধ্য দিয়ে মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন। আরো উপস্থিত ছিলেন এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক রোকেয়া বেগম, সঙ্গীত ভবনের অধ্যক্ষ কাবেরী সেন গুপ্তা, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদ হাসান, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের নির্বাহী সদস্য মাহফুজুর রহমান মাহফুজ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাচিক শিল্প চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সেলিম রেজা সাগর।

তাজুল ইসলাম ও পূর্ণিমা দেবনাথের সঞ্চালনায় কথামালার আয়োজন শেষে প্রাণবন্ত এক বৃন্দ পরিবেশনা উপভোগ করেন শ্রোতারা। ‘মাতৃভূমির পঙ্কতিমালা’। গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় সেলিম রেজা সাগর।

বৃন্দ পরিবেশনা শেষে বাচিকশিল্পী তাজুল ইসলামের বলিষ্ঠ দীপ্ত কন্ঠে কবি মহাদেব সাহার কবিতা ‘একুশের গান’ দিয়ে শুরু হয় একক আবৃত্তি পরিবেশনা। একে একে শিল্পীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় শামসুর রাহমানের ‘বর্ণমালা আমার বর্ণমালা’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘পাহাড় চূড়ায়’, হুমায়ুন আজাদের ‘আমাদের মা’। মনীষা মীরার কন্ঠে এই আবৃত্তি শুনতে শুনতে দর্শকদের চোখ যেন ভেসে আসে প্রিয় মায়ের ছবি। ভেতরে ভেতরে এক বোবা কান্নায় স্তব্ধ করে দেয় সময়। এমন নীরবতায় হঠাৎ প্রেমের স্পন্দন। বিবি মরিয়মের কন্ঠে পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘সেই গল্পটা’যেন খানিকটুকুই ছন্দ ফিরিয়ে আনে মিলনায়তনে। এরপই প্রান্তিক পাল পরিবেশন করেন সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ছাড়পত্র’, সুকুমার রায়ের ‘ভয় পেয়োনা’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন জেসমিন আক্তার, আরিকা মাইশার কন্ঠে কাজী নজরুলের ‘কান্ডারী হুঁশিয়ার’, কাজী ফাতেমা হীরার কন্ঠে ময়ূখ চৌধুরী ‘পুনরাবৃত্তি’ আবৃত্তি পরিবেশনা উপভোগ করেন দর্শকরা।

শুধু কণ্ঠনীড় নয়, এ আয়োজনে আমন্ত্রিত হয়ে আসেন কবি, বিভিন্ন সংগঠনের বাচিক শিল্পী, আবৃত্তি সংগঠন। একক পরিবেশনার মাঝেই নির্মাণ আবৃত্তি অঙ্গনের কাব্যনাটক ‘কর্ণফুলীর সাম্পান’ এক ভিন্ন আবহের সঞ্চার করে মিলনায়তনে। গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় সমুদ্র টিটো।

আবৃত্তি, কবিতা পাঠ, কাব্য নাটকের মধ্যে ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে প্রান্তিক পাল ও শুভ্রজিৎ এর গান। এছাড়া আমন্ত্রিত কবি হাফিজ রশিদ খান, কবি খালিদ আহসান, কবি মনিরুলমনিরের কবিতা পাঠও ছিল উপভোগের মতো। নগরীর বিভিন্ন সংগঠনের আমন্ত্রিত আবৃত্তি শিল্পীরাও আবৃত্তি পরিবেশন করেন এ আয়োজনে।

হুমায়ূন আহমেদের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি

বাংলা সাহিত্যের জননন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন আজ। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়েই হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যে পালাবদলের তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

একের পর জনপ্রিয় উপন্যাস রচনা করে গেছেন। তাঁর বিভিন্ন উপন্যাসে জনপ্রিয় হয়ে যাওয়া উক্তিগুলো পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো :
০১-জীবনে কখনো কাউকে বিশ্বাস করতে যেও নাও কারণ, যাকেই তুমি বিশ্বাস করবে সেই তোমাকে ঠকাবে।

০২-ভালোবাসা একটা পাখি। যখন খাঁচায় থাকে তখন মানুষ তাকে মুক্ত করে দিতে চায়। আর যখন খোলা আকাশে তাকে ডানা ঝাপটাতে দেখে তখন খাঁচায় বন্দী করতে চায়।

০৩-সঠিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা আছে শুধুই আল্লাহপাকের। মানুষকে মাঝে মাঝে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রমাণ করতে হয় যে সে মানুষ।

০৪-দুঃসময়ে কোনো অপমান গায়ে মাখতে হয় না।

০৫-মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলোই পৃথিবীর আসল রূপ দেখতে পায়।

০৬-কান্নার সঙ্গে তো সমুদ্রের খুব মিল আছে। সমুদ্রের জল নোনা। চোখের জল নোনা। সমুদ্রে ঢেউ ওঠে। কান্নাও আসে ঢেউয়ের মতো। যুদ্ধ এবং প্রেমে কোনো কিছু পরিকল্পনা মতো হয় না।

০৭-যে জিনিস চোখের সামনে থাকে তাকে আমরা ভুলে যাই। যে ভালোবাসা সব সময় আমাদের ঘিরে রাখে। তার কথা আমাদের মনে থাকে না…. মনে থাকে হঠাৎ আসা ভালোবাসার কথা।

০৮-কল্পনা শক্তি আছে বলেই সে মিথ্যা বলতে পারে। যে মানুষ মিথ্যা বলতে পারে না, সে সৃষ্টিশীল মানুষ না, রোবট টাইপ মানুষ।

০৯-পৃথিবীর সব মেয়েদের ভেতর অলৌকিক একটা ক্ষমতা থাকে। কোনও পুরুষ তার প্রেমে পড়লে মেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তা বুঝতে পারে। এই ক্ষমতা পুরুষদের নেই। তাদের কানের কাছে মুখ নিয়ে কোনও মেয়ে যদি বলে- ‘শোন আমার প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। আমি মরে যাচ্ছি। ’
তারপরেও পুরুষ মানুষ বোঝে না। সে ভাবে মেয়েটা বোধ হয় এপেন্ডিসাইটিসের ব্যাথায় মরে যাচ্ছে!’

১০-মানব জাতির স্বভাব হচ্ছে সে সত্যের চেয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিরাপদ মনে করে..

১১- পৃথিবীতে সব নারীদের ডাক উপেক্ষা করা যায়, কিন্তু ‘মা’ এর ডাক উপেক্ষা করার ক্ষমতা প্রকৃতি আমাদের দেয়নি।

১২যে নারীকে ঘুমন্ত অবস্থায় সুন্দর দেখায় সেই প্রকৃত রূপবতী।

১৩-যা পাওয়া যায়নি, তার প্রতি আমাদের আগ্রহের সীমা থাকে না। মেঘ আমরা স্পর্শ করতে পারি না বলেই মেঘের প্রতি আমাদের মমতার সীমা নেই।

১৪-মানুষের কষ্ট দেখাও কষ্টের কাজ

১৫-মেয়েদের আসল পরীক্ষা হচ্ছে সংসার, ঐ পরীক্ষায় পাশ করতে পারলে সব পাশ!

১৬-তুমি যখন ভালো করতে থাকবে, মানুষ তোমাকে হিংসা করতে শুরু করবে। না চাইলেও তোমার শত্রু জন্মাবে।

১৭-গাধা এক ধরনের আদরের ডাক। অপরিচিত বা অর্ধ-পরিচিতদের গাধা বলা যাবে না। বললে মেরে তক্তা বানিয়ে দেবে। প্রিয় বন্ধুদেরই গাধা বলা যায়। এতে প্রিয় বন্ধুরা রাগ করে না বরং খুশি হয়।

১৮-মিথ্যা বলা মানে আত্মার ক্ষয়। জন্মের সময় মানুষ বিশাল এক আত্মা নিয়ে পৃথিবীতে আসে। মিথ্যা বলতে যখন শুরু করে তখন আত্মার ক্ষয় হতে থাকে। বৃদ্ধ বয়সে দেখা যায়, আত্মার পুরোটাই ক্ষয় হয়ে গেছে।

১৯-কাজল ছাড়া মেয়ে দুধ ছাড়া চায়ের মতো।

মোবাইল ফোনে বানানো বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অস্কারে যাচ্ছে

চেক রিপাবলিকে অনুষ্ঠিত জিলাভা ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা আশিক মোস্তফার ‘ইন্টেরিয়র্স এন্ড এক্সটেরিয়র্স’ জিতেছে শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারি ফিল্মের জন্য ‘ক্রাটকা রাডস্ট (শর্ট জয়)’ পুরস্কার।

‘শর্ট জয়’ পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসাবে আছে অনলাইন ডিস্ট্রিবিউশন এবং প্রচারণা বাবদ তিন হাজার ইউরো। এছাড়াও অস্কার মনোনীত ‘শর্ট জয়’, পুরস্কারপ্রাপ্ত ফিল্ম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডেরর শর্ট ডকুমেন্টরি বিভাগের জন্য প্রি-সিলেক্টেড হয়। সেই হিসাবে অস্কারের ৯১তম আসরের জন্য ছবিটি প্রতিযোগিতা করবে।

ছবিটির দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত।

মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের সৃজনশীল ডকুমেন্টারির সর্ববৃহৎ এই উৎসবে প্রথাবিরোধী ও নিরীক্ষাধর্মী ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। উৎসবে চলচ্চিত্রটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার উপলক্ষ্যে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে নির্মাতা আশিক মোস্তফা বলেন, ‘একসাথে এত অসাধারণ সব চলচ্চিত্র দেখতে পারা আমার দৃষ্টিভঙ্গিকে আরো প্রসারিত করেছে। এই ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণে আমি এখন আরো বেশি অনুপ্রাণিত।’

মোবাইল ফোনে ধারণকৃত জিরো-বাজেটে নির্মিত ‘ইন্টেরিয়র্স এন্ড এক্সটেরিয়র্স’ ঢাকা শহরের প্রতিদিনকার দেখা একটি আপাত সাধারণ দৃশ্যের সূক্ষ্ম ও ব্যঞ্জনাময় উপস্থাপন। একটি মাত্র শটে নেয়া ৮ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি যেন একটি চলমান স্থিরচিত্র যেখানে একই ফ্রেমে প্রতিফলিত হয়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্মচর্চা ও শ্রেণী বৈষম্যের ভিতর-বাহিরের একটি চিত্র।

খনা টকিজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আশিক মোস্তফা নিউ ইয়র্কের স্কুল অব ভিজ্যুয়াল আর্টস থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তখন গ্র্যাজ্যুয়েশন ফিল্ম হিসাবে তিনি ফুলকুমার (২00২) তৈরি করেন যা বাংলাদেশে শুট করা হয়েছিল। চলচ্চিত্র অঙ্গনে এখনো ফুলকুমারকে গুরুত্বের সাথে স্মরণ করা হয়, কারণ এটি তখন ছবিটির নির্মাণের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত একঝাক তরুণকে অণুপ্রাণিত করেছিল যাদের অনেকেই এখন প্রতিষ্ঠিত নির্মাতা। তিনি ৭২০ ডিগ্রি, মেহেরজান ও আন্ডার কন্সট্রাকশন-এর মতো কিছু আন্তর্জাতিক ভাবে সমাদৃত চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা করেছেন এবং বর্তমানে শূন্য-বাজেটে মোবাইল ফোনে ধারণ করা ‘ইনভেডিং প্রাইভেসি’ নামে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারি ছবির সম্পাদনার কাজ করছেন।

খনা টকিজের ব্যানারে ‘ইন্টেরিয়র্স এন্ড এক্সটেরিয়র্স’ ছবিটি প্রযোজনা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন।

রোহিঙ্গাদের জন্য গাইলেন কবীর সুমন, বর্মিদের বর্বরতা নিয়ে যা বললেন…

জুমবাংলা ডেস্ক: আরো একবার গর্জে উঠলো কবীর সুমনের প্রতিবাদী সত্ত্বা, মিয়ানমারে চলতে থাকা রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের নিন্দা করে রচনা করলেন নতুন গান।

পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত এই সংগীতশিল্পী বৃহস্পতিবার দুপুরে তার ফেইসবুক ফ্যানপেইজ আর সাউন্ডক্লাউডে প্রকাশ করেন ‘রোহিঙ্গা’ শিরোনামের গানটি।

এক সাক্ষাৎকারে কবীর সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও কলকাতার অনেক বন্ধুরা আমাকে অনুরোধ করেছিলো এরকম একটা গান লিখতে, সেকথা সত্যি। এরকম বিষয়ের উপর তো আসলে গান করতে খুব কষ্ট হয়। তারপরও করলাম, একটা সামাজিক সচেতনতার যায়গা থেকে। এই গান থেকে মানুষকে যদি কিছুটা ভাবানো যায়…’

এর পরপরই একটু দম নিয়ে নিজের বক্তব্যের প্রতি নিজেই সন্দেহ প্রকাশ করলেন সুমন।

বললেন, ‘আসলে সেটা এখন আর হয় কিনা জানিও না। এখন আর মানুষ, গান-কবিতা-নাটক থেকে কিছু গ্রহণ করে কিনা… সেটা আর আমার খুব একটা মনে হয় না।’

গান কি তবে এখন আর মানুষকে ভাবায় না?

এমন প্রশ্নে কবীর সুমনের উত্তর, ‘দীর্ধদিন ধরেই তো বেঁচে আছি, গান করছি, গান লিখছি, কিন্তু মানুষ তো বদলায়নি। মানুষ যেরকম বর্বর ছিলো সেরকমই তো আছে। নাহলে রোহিঙ্গাদের সাথে যা করছে ওরা, এটা কি মানুষ করতে পারে? তাই গান লিখে মানুষকে শোধরানো যায় না- এটাই মনে হয় এখন অনেক বেশি।’

কবীর সুমনের ‘রোহিঙ্গা’ শীর্ষক গানটির কথা হুবহু তুলে দেওয়া হলো :

বর্মিবাহিনী নেমেছে মাঠে
রোহিঙ্গা জানে কে গলা কাটে
শান্তিপদ্মে কী ভীষণ হুম
রোহিঙ্গা জানে রাত্রি নিঝুম।

মিডিয়া-ছবিতে অস্ত্র হাতে
গেরুয়াধারীরা অনেক রাতে
রোহিঙ্গাদের নিধনে শান্তি
বর্মিবাহিনী নধরকান্তি।

হাজার বছর আরাকানে বাস
রোহিঙ্গাদের থেঁতলানো লাশ
রোহিঙ্গা মেয়ের গর্ভে লাথি
ভ্রূণ হত্যার মসলাপাতি।

এ হলো মানুষ তীর্থফেরা
সবার ওপরে সত্য এরা
কারা রোহিঙ্গা কী যায় আসে
বসছে শকুন শিশুর লাশে।

স্বাগত শকুন তোমারই যোগ্য
আমরা মানুষ পোকার ভোগ্য
উপড়ানো চোখ তোমাকেই দেব
শুনলে এ গান রোহিঙ্গা ভেব।

নারীর নগ্ন শরীর যেখানে শিল্পীর ক্যানভাস!

সিব্বীর ওসমানীঃ   দক্ষিন কোরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমের দায়েগু শহরে বডি পেইন্টিং উৎসব উপলক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জড়ো হয়েছেন শিল্পীরা৷ নারীদের শরীরকে রূপ দেয়া হয়েছে জীবন্ত ক্যানভাসে৷ শরীরে ফুটে ওঠা এ শিল্প প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে সারা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার শিল্পী ও শিল্পমনা মানুষের এক মিলনমেলায় পরিনত হয়েছে শহরটি।

প্রদর্শনীতে নিজ নিজ শিল্পকর্ম  নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিল্পীরাও। ক্যানভাস যদিও নারীর নগ্ন শরীর, কিন্তু শিল্পীর তুলির নিপুন ছোয়ার তা আর মোটেও অশ্লীল থাকেনি। বরং শিল্পের যাদুতে নারীর নগ্ন শরীর এখানে পরিনত হয়েছে এক উচ্চমার্গীয় শিল্পকর্মে । জুমবাংলার পাঠকদের জন্য আজ রইল তারই ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা:

অদ্ভুত এই শিল্প
সাধারণত চিত্রশিল্পীদের ক্যানভাস হয়ে থাকে দ্বিমাত্রিক৷ ফলে তাদের শুধু সামনে থেকে দেখার কথাই চিন্তা করতে হয়৷ কিন্তু বডি পেইন্টিংয়ে ক্যানভাসটা ত্রিমাত্রিক৷ ফলে সবদিক থেকে মডেলকে দেখতে কেমন লাগবে, সে কথাও মাথায় রাখতে হয় শিল্পীদের৷ তাছাড়া মডেল তো আর চুপচাপ বসে থাকবে না৷ ফলে চিত্রকর্মটাও মডেলের সাথেই রীতিমতো নড়েচড়ে, হেঁটে বেড়াবে৷ ফলে ৩৬০ ডিগ্রির এই ক্যানভাসে শিল্পীদের থাকতে হয় একটু বেশিই সতর্ক৷

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
মঞ্চে যাওয়ার আগে মেকআপের খুঁটিনাটি পরীক্ষা করছেন একজন মডেল৷ একজন ধ্যানরত নারীর চারপাশে কোরিয়ান ভাষার লেখা রয়েছে মডেলের শরীর জুড়ে৷ এই উৎসব উপলক্ষ্যে অন্তত ১০টি দেশ থেকে শিল্পীরা এসেছেন দায়েগুতে৷

শিল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা
শুধু নিজেদের শিল্পের প্রদর্শনী না, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিল্পী ও মডেলরা নিজেদের চিন্তার আদানপ্রদানও উৎসবের অন্যতম একটা দিক৷ ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মঞ্চে ওঠার আগে দুই মডেল বডি পেইন্টিং নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন৷

চলছে মহড়া
মঞ্চে ওঠার আগে শেষ বারের মতো মহড়া দিচ্ছেন এক মডেল৷ বডি পেইন্টিং চিত্রকর্ম, মডেলিং, ফ্যাশন শো, সবকিছুর এক মিশেল৷ ফলে মানবশরীর, পেইন্টিংয়ের পাশাপাশি প্রপস বা মঞ্চে মডেলের ব্যবহৃত সরঞ্জামও বড় ভূমিকা রাখে৷

অবশেষে…
জাপানি শিল্পী ইওয়াসাকি মাসাকাজুর পেইন্টিং প্রদর্শন করছেন এই মডেল৷ ‘‘আমি আমার স্বামী ছাড়া আর কারও সামনে কখনও নগ্ন হইনি’’, হাসতে হাসতে বলছিলেন মার্কিন মডেল নিওমি ম্যুলেনবার্গ৷ স্প্রে পেইন্ট এবং ব্রাশ নিয়ে শিল্পীরা তখন ব্যস্ত তার শরীর রং করতে৷ হলভর্তি লোক আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশের মধ্যে মঞ্চে নিজের শরীরে আঁকা চিত্র প্রদর্শনীর শেষে তিনি বলেন, ‘‘অবাক করা ব্যাপার হলো, আমার মনে হচ্ছিল আমি কাপড় পড়েই আছি৷’’

অঙ্গভঙ্গিটাও গুরুত্বপূর্ণ
শিল্পী আঁকলেন, আর মডেল শুধু মঞ্চে হেঁটে আসলেন, তাতে তো হবে না৷ মঞ্চে অঙ্গভঙ্গির ওপর শরীরে আঁকা চিত্রকর্মের অভিব্যক্তি অনেকটাই নির্ভর করে৷ যেমনটা দেখা যাচ্ছে এই ছবিতে৷

মডেল, আলোছায়ার খেলা
ইটালিয়ান শিল্পী ইমানুয়েল বোরেলোর আঁকা চিত্রকর্ম দর্শকদের সামনে তুলে ধরছেন একজন মডেল৷ বডিপেইন্টিং প্রদর্শনীতে মঞ্চের আলোকসজ্জাও একটা বড় ব্যাপার৷ শরীরে আঁকা ছবির ভিন্ন ভিন্ন রং ভিন্ন ভিন্ন আলোতে আলাদাভাবে ফুটে ওঠে৷ বলতে গেলে বডি পেইন্টিং প্রদর্শনীতে পুরো মঞ্চটাই একটা চিত্রকর্মে রূপ নেয়৷

‘নুহাশপল্লীতে যেতে ইচ্ছে করে না’

হুমায়ূন আহমেদের নুহাশপল্লীর সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে​ আছে আসাদুজ্জামান নূরের। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর নুহাশপল্লীতে আর যাওয়া হয়নি।

হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠতম বন্ধুদের একজন আসাদুজ্জামান নূর। তিনি হুমায়ূন আহমেদের অনেকগুলো নাটক আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। দেশের জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতার প্রয়াণ দিবসে তাঁকে স্মরণ করে একটি জাতীয় দৈনিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।

হুমায়ূন আহমেদের নুহাশপল্লীতে অনেক নাটক আর চলচ্চিত্রের কাজ করেছেন আসাদুজ্জামান নূর। আড্ডা দিয়েছেন। অবসর কাটিয়েছেন। আজ এই জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করে অভিনেতা ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, ‘নুহাশপল্লীতে যেতে ইচ্ছে করে না। বন্ধুরা কখনো কখনো ভেবেছিলাম যাব, কিন্তু হয়ে ওঠেনি। হুমায়ূন মারা যাওয়ার আগে নিউইয়র্কে তিন দিন ওর পাশে ছিলাম। ফিরে আসার সময় আবার লন্ডন থেকে ফোন করেছিলাম, অন্যপ্রকাশের মাজহার বলেছে, এখন সে কিছুটা ভালো। কিন্তু তারপর…ওর লাশ যখন দেশে এল, আমি ছিলাম না। ভালোই হয়েছে। সে সময় যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা খুবই বেদনাদায়ক। দেশে থাকলে আমাকেও কোনো না কোনোভাবে তার সঙ্গে যুক্ত হতে হতো।’

হুমায়ূন আহমেদের ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন আসাদুজ্জামান নূর ও সুবর্ণা মুস্তাফা

‘বাকের ভাই’ চরিত্রে অভিনয় করে টেলিভিশন নাটকে অসাধারণ জনপ্রিয়তা পান আসাদুজ্জামান নূর। ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারাবাহিকে তিনি একটি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। বললেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, “তোমার তো সফট ফেস। স্ক্রিনে আসো ভালো মানুষের চেহারা নিয়ে। গুন্ডাপান্ডার রোলে তুমি ফেল করবা।” আমি ভাবলাম, মুনার প্রেমিক হিসেবে আমি যেভাবে উঠি বসি চলি, সেভাবে করলেই হয়ে যাবে। আমাকে কোনো চেষ্টা বা পরিশ্রম করতে হবে না। কিন্তু বাকের ভাই চরিত্রটি যদি করি, তাহলে ভেবেচিন্তে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। কিন্তু প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। নাটক লেখার পর কাজ শুরু করতে সময় লাগে না। ভেবেছিলাম চুলটা আরেকটু লম্বা করব, একটা ঝুঁটি বাঁধব। পরে সানগ্লাসে চোখ ঢেকে, গলায় চেইন, হাতে ব্রেসলেট পরে কিছুটা পরিবর্তন এনেছিলাম।’

একশ বছরে ক্যামু

TO GO WITH AFP STORY BY CLARISSE LUCAS
(…TO GO WITH AFP STORY BY CLARISSE LUCAS
(FILES) A file picture taken on October 17, 1957 shows French writer Albert Camus posing for a portrait in Paris following the announcement that he was being awarded the Noel Prize for literature. To mark the centennial of the birth of Camus, French editor Gallimard is publishing his correspondance with French writer Louis Guilloux. AFP PHOTO / STRINGER-/AFP/Getty Images

১৯১৩ সালের ৭ নভেম্বর আলবেয়ার ক্যামু জন্মেছিলেন আলজেরিয়ায়। তার একশতম জন্মদিনকে নানাভাবে উদযাপন করছে বোদ্ধা ও ভক্তরা। এই উপলক্ষ্যে বিখ্যাত প্রকাশন সংস্থা পেঙ্গুইন নতুন প্রচ্ছদ ও ভূমিকাসহ তার বইগুলো নতুন করে ছেপেছে। এখনই আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করতে পারেন- কেন একশ বছর বয়সী আলবেয়ার ক্যামু এ কালের পাঠকের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রভাবক হবার যোগ্য?
সেটা তার লেখার বিষয় ও আগ্রহ থেকে স্পষ্ট হওয়া যাবে খানিকটা। ক্যামুর আগ্রহ বৈচিত্র্য ধরণের। নাটক লেখা থেকে শুরু করে ইন্ডি রক কোথায় নেই ক্যামু। তাকে বলা হয় মাস্টার অভ এবসার্ড। তিনি স্কুল বেলা থেকেই দারুণ ফুটবল খেলতেন। খেলায় তিনি গোল ধরার কাজই করতেন। সেটা নাকি তার জীবনে দারুণভাবে কাজে লেগেছিল। তিনি ফুটবল খেলার কাছে নৈতিকতা ও বাধ্যতা শেখার জন্য ঋণ স্বীকার করেছেন এক লেখায়।
কিন্তু কি পরিহাস! বদাভ্যাসের জন্য ফুটবল খেলা বেশি দিন চালিয়ে যেতে পারেননি। খুব খারাপ ধরনের যক্ষা রোগের পরেও তিনি ধুমপান ছাড়েননি। যা তার ফুটবল ক্যারিয়ারের জন্য যম হয়ে দাঁড়ায়। শুনলে মজাই পাবেন তিনি পোষা বিড়ালকে সিগারেট নামে ডাকতেন।
মাত্র ছেচল্লিশ বছর বয়সে ১৯৬০ সালের ৪ জানুয়ারি কার এক্সিডেন্টে তিনি মারা যান। এটা নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার মাত্র তিন বছর পরের ঘটনা।
ক্যামু পাঁচটি ফিকশন বা উপন্যাস লিখেছিলেন। এগুলো হলো : দি ফল, দি আউটসাইডার, দি প্লেগ, এ হ্যাপি ডেথ এবং দি ফার্স্ট ম্যান। সম্ভবত ১৯৪২ সালে প্রকাশিত দি আউটসাইডারের জন্যই লোকে তাকে বেশি চেনে। এটি খুবই জনপ্রিয় উপন্যাস। ম্যুসাল্ট নামের একজন খুনীর গল্প দি আউটসাইডার। সমাজের সঙ্গে তার কোন সুসংহত সম্পর্ক ছিল না। এ সমাজে সে যেন অন্য কেউ। সমাজ তাকে কোনভাবেই আন্দোলিত করে না। এমনকি মায়ের মৃত্যুতে তার কান্না আসে না। এক ধরণের মানসিক বিকারগ্রস্থতার আবরণে ক্যামু একটি সময় ও তার প্রতিক্রিয়া মানুষের চরিত্রের উপর আরোপ করেন। এই বইয়ের প্রথম লাইনটা বেশ বিখ্যাত। যেখানে মা মারা যাবার কথাটি অনির্ধারিত সময় দিয়ে উল্লেখ করে নায়ক।
ক্যামুর লেখা প্রবন্ধগুলোতে থেকে তার চিন্তা ও চিন্তার প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা মেলে। তার বিখ্যাত প্রবন্ধ দি মিথ অব সিসিফাস প্রায় দি আউটসাইডারের দৈর্ঘ্যের সমান (১৩০ পৃষ্ঠা)। এটি এবসার্ডের প্রতি তার আকর্ষণের ভালো উদাহরণ। মানুষ যে জগতে বাস করে তার অর্থ খোঁজার মধ্যে এক ধরনের নিরর্থক ব্যাপার আছে। সেই জগতের প্রকৃত রূপ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। ফলে কখনো প্রকৃত সত্য জানতে পারে না। মানুষ কিভাবে জীবনের প্রতিকূল বাস্তবতার মোকাবেলা করে তা-ই তার আলোচনার বিষয়।
ক্যামুর এবসার্ড থিওরি এতই তারিফ লাভ করে যে এক পর্যায়ে তিনি কথাবার্তায় ‘দ্যাটস এবসার্ড’ শব্দটির ব্যবহার বন্ধ করে দেন। তার এই ধারনাকে পাঠকরা সুক্ষদর্শী দার্শনিক বিষয় হিসেবেই নেয়। পরবর্তীতে এই ধারনা অনেকে প্রভাবিত হয়েছেন।
আলবেয়ার ক্যামু তার ফিকশন ও প্রবন্ধের জন্য বেশি জনপ্রিয়। এছাড়া তিনি ছয়টি নাটক লিখেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলো কালিগুলা। এবসার্ডের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে একে দি আউটসাইডার ও দি মিথ অব সিসিফাসের পাশে রাখা হয়।
তিনি একদা আলজার রিপাবলিক্যান নিউজপেপারে রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেছিলেন। সাংবাদিকতায় তিনি মুগ্ধ ছিলেন। তিনি একে শ্রেষ্ঠ পেশার মধ্যে একটি মনে করতেন। নাজি দখলকৃত ফ্রান্স স্বাধীন হবার পর তিনি কমব্যাট নামের একটি পত্রিকায় কলাম লিখতেন। আকচুয়ালেস নামে তার রাজনৈতিক সাংবাদিকতা, প্রবন্ধ ও সাক্ষাৎকারের একটি সংগ্রহ বাজারে আছে। এতে অন্তর্ভুক্ত আছে মার্কসবাদ ও অস্তিত্ববাদ নিয়ে তার বৈপ্লবিক চিন্তা। তাকে সচরাচর অস্তিত্ববাদী দার্শনিকদের কাতারে ফেলা হলেও তিনি এই বিষয়ে মজার একটি কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি অস্তিত্ববাদী নয়। এর সঙ্গে আমাদের নাম যুক্ত আছে দেখে সার্ত্রে আর আমি সবসময় অবাকই হই। সার্ত্রের কথার সঙ্গে মিলে যায় বিনয় মজুমদারের একটা ঘটনা। বিনয় মজুমদারের ভাষ্যে তিনি কলকাতার হাংরি জেনারেশন আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন না। অথচ পত্রিকায় বলা হচ্ছিল তিনিই নাকি এই আন্দোলনের নেতা।
ক্যামুর সর্বশেষ বইয়ের নাম দি ফার্স্ট মেন। এটি পাওয়া যায় তাকে নিয়ে এক্সিডেন্টকরা গাড়ির ধ্বংসাবশেষের ভেতর। এটাও একটি ফিকশন। তবে এতে তার আত্মজৈবনিক উপাদান ছিল। এতে আলজেরিয়ায় দরিদ্র অবস্থার শৈশব ও অক্ষরজ্ঞানহীন তার মায়ের দেখা মেলে।
তার প্রভাব নিয়ে সামান্য উদাহরণ দেয়া যাক। বিশ শতকের অন্যতম সেরা নাট্যকার স্যামুয়েল বেকেট ও আর্থার মিলার তার নাটক ও অন্যান্য লেখা থেকে অনুপ্রাণিত ছিলেন। ব্রিটিশ মিউজিক্যাল নাটকে দি আউটসাউডার রেখে গেছে স্থায়ী প্রভাব। স্কটিশ ইন্ডি রক ব্যান্ড ম্যুসাল্টের নাম এসেছে তার বিখ্যাত চরিত্র থেকে। এই ব্যান্ডের গায়ক নিল পেনিকক বলেন, এই দুনিয়ায় যত রাগী তরুণ আছে তাদের সবসময়ই ক্যামু এবং ল’ইস্টানজার (দি আউটসাইডার) কাজে লাগবে।