মুক্তিযুদ্ধের সময় ভাতের ফ্যান নিয়ে কাড়াকাড়ি করতাম : নূতন

মুক্তিযুদ্ধের সময় চিত্রনায়িকা নূতনের পরিবারের সদস্যরা খেতে পারতেন না। তাদের বাড়িতে এক গ্লাস ভাতের ফ্যান (মাড়) আসলে ভাই-বোন সকলেই মিলে কাড়াকাড়ি শুরু করে দিতেন।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নূতন যুদ্ধের সময়ের কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কষ্টের স্মৃতিচারণ করে চিত্রনায়িকা নূতন বলেন, আমি ছোট ছিলাম, তবে যুদ্ধ দেখেছি। দেখেছি কীভাবে পাকহানাদার বাহিনী মানুষকে হত্যা করেছে, কীভাবে তারা বাঙালিদের ওপর পাশবিক নির্যাতন করেছে। আমরা অনেক কষ্ট করেছি। না খেয়ে থেকেছি। আমাদের বাড়িতে এক গ্লাস ভাতের ফ্যান আসলেই সবাই তাই নিয়ে কাড়াকাড়ি করতাম।

‘আমার মা আমাদের লুকিয়ে রাখতেন। গাছের ডালে উঠে আমরা পালিয়ে থাকতাম। সেইসব যারা দেখেনি, তারা স্বাধীনতার মর্ম বুঝবে না। যারা দেখেছে, তারা জানবে, বুঝবে স্বাধীন কীভাবে হয়েছে’-বলেন ঢাকার সিনেমার একসময়কার জনপ্রিয় এই নায়িকা।

তিনি বলেন, আমি একজন অভিনেত্রী। আমার পেশা অভিনয় করা। আমার জীবন এফডিসিতে শুরু, এফডিসিতেই শেষ হবে। আমরা অপনাদের বিনোদন দেয়ার জন্য কাজ করি। সারাদিন কাজ করে একটু বিনোদনের জন্য আপনারা হলে গিয়ে ছবি দেখেন। একটু নাচ, গান, কমেডি দেখে ভালো লাগল, আপনারা বাসায় ফিরে আসলেন। এটাতো জীবন না, জীবন হলো আগে নিজের দেশ। নিজের দেশকে আগে বাঁচান।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং প্রধান বক্তা হিসেবে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী মারা যাওয়ায় হাছান মাহমুদ আসেননি। আর শাহে আলম মুরাদ আরেকটি অনুষ্ঠানে থাকায় আসতে পারেননি।

বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের সভাপতি মো. জিন্নাত আলী খান জিন্নাহ, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন টয়েল প্রমুখ।

আরএম-৪৪/১৫-১২ (বিনোদন ডেস্ক)

রেকর্ডসংখ্যক ১৭৫টি হলেই ‘অন্তর জ্বালা’র মুক্তি

দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়ে রেকর্ড গড়েছে ‘অন্তর জ্বালা’। ছবিটি মুক্তির আগেই পরিচালক মালেক আফসারী বলেছিলেন, ১৭৫ হলে সিনেমাটি মুক্তি দেবেন।

শেষ পর্যন্ত ১৭৫ হলেই শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। এর আগে শাকিব খানের ছবি ‘রাজা বাবু’ সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৬৫টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল।

‘অন্তর জ্বালা’ ছবিতে পরীমণির বিপরীতে অভিনয় করেছেন জায়েদ খান। পরীমণি অভিনয় করেছেন সোনা চরিত্রে। প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার ভক্তের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জায়েদ।

মালেক আফসারী পরিচালিত ২৪তম চলচ্চিত্র ‘অন্তর জ্বালা’। ছবিটি পরিবেশনা করছে নায়ক মান্নার প্রযোজনা সংস্থা কৃতাঞ্জলি কথাচিত্র। জায়েদ-পরী ছাড়াও অভিনয় করেছেন জয় চৌধুরী, মৌমিতা, চিকন আলী, বদ্দা মিঠু, মিজু আহমেদ, অমিত হাসান প্রমুখ।

আরএম-২০/১৫-১২ (বিনোদন ডেস্ক)

১৫৭ সিনেমা হলে বিনা মূল্যে মুক্তিযুদ্ধের ৪ ছবি

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে দেশের ১৫৭টি সিনেমা হলে চারটি মুক্তিযুদ্ধের ছবি প্রদর্শনীর উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। ছবি চারটি হলো চাষী নজরুল ইসলামের ওরা ১১ জন, তৌকীর আহমেদের জয়যাত্রা, হুমায়ূন আহমেদের আগুনের পরশমণি ও নাসির উদ্দীন ইউসুফের গেরিলা। এই প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবছরই বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে দেশের একাধিক প্রেক্ষাগৃহে এ ধরনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয় বলে জানান মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগের উপসচিব শাহিন আরা বেগম। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করি আমরা। ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষ বিনা মূল্যে ছবিগুলো দেখার সুযোগ পান।

এসব ছবি থেকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা তৈরি হবে সবার।’ তবে অন্যবারের চেয়ে এবার ছবির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং প্রদর্শনীর পরিসরও বেড়েছে। এ বিষয়ে উপসচিব বলেন, ‘এখন থেকে নতুন প্রজন্মের সামনে এ ধরনের ছবি আরও বেশি করে প্রদর্শন করতে চায় সরকার।’

সরকারের এ ধরনের উদ্যোগকে প্রশংসা করে জয়যাত্রা ছবির পরিচালক তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ এটি। এর আগে জাতীয় চলচ্চিত্র উত্সব আয়োজন করে ৬৪টি জেলায় ভালো ভালো ছবি দেখানো হয়েছিল। এতে শুধু জনরুচিই উন্নত হবে না, চলচ্চিত্রের প্রতি মানুষের আকর্ষণ আরও বাড়বে।’

আরএম-৩০/১৪-১২ (বিনোদন ডেস্ক, তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)

জীবন্ত নেকড়ের সাথে লড়াই করলেন সালমান খান

[unable to retrieve full-text content]

১৩ বছর পর শাওন জানালেন হ‌ুমায়ূন আহমেদের সাথে তাঁদের বিয়ের গল্প

‘১৩ সংখ্যাটা আমার জন্য সবচেয়ে শুভ। আমার জীবনের প্রিয় মানুষটির জন্ম ১৩ তারিখ। আমাদের বিয়ের তারিখও ১৩ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ হ‌ুমায়ূন ভাবলেন, এক দিন আগেই বিয়ে করবেন। আজ ১২ ডিসেম্বর, আমাদের বিয়ের তারিখ।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন মেহের আফরোজ শাওন, জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও নির্মাতা প্রয়াত হ‌ুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী।

আজ ১২ ডিসেম্বর হ‌ুমায়ূন আহমেদ আর শাওনের বিবাহবার্ষিকী। ২০০৪ সালের ১২ ডিসেম্বর হ‌ুমায়ূন আহমেদ ও শাওন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের ১৩তম বার্ষিকীতে বিয়ের দিনের কিছু গল্প তিনি তুলে ধরেছেন। এসব গল্প অনেকেরই অজানা। শাওন লিখেছেন, ‘খুব সাদামাটাভাবেই হওয়ার কথা ছিল আমার বিয়েটা। ভেবেছিলাম কোনো রকম একটা শাড়ি পরে তিনবার কবুল বলা আর একটা নীল রঙের কাগজে কয়েকটা সাইন।’

হ‌ুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে শাওন লিখেছেন, ‘আজ ১২ ডিসেম্বর। ২০০৪ সালের এই দিনে কুসুম (‘শ্রাবণ মেঘের দিনে’ ছবিতে শাওনের চরিত্রের নাম) আর হ‌ুমায়ূন নতুন জীবন শুরু করে। কুসুম তার জীবনের সবচেয়ে শুভ ১৩ বছর পার করেছে। কুসুমকে শুভেচ্ছা। কুসুমের হ‌ুমায়ূনকে শুভেচ্ছা।’

নিজের বিয়ের আগের দিনের গল্প বলতে গিয়ে শাওন লিখেছেন, ‘১১ ডিসেম্বর হ‌ুমায়ূন আমাকে জোর করে পাঠালেন নিউমার্কেটে, উদ্দেশ্য একটা হলুদ শাড়ি কিনে আনা, যেন সন্ধ্যায় আমি হলুদ শাড়ি পড়ে নিজের গায়ে একটু হলুদ মাখি। বললেন, “তোমার নিশ্চয়ই বিয়ে নিয়ে, গায়েহলুদ নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। আমাকে বিয়ে করার কারণে কোনোটাই পূরণ হচ্ছে না। আমি খুবই লজ্জিত। তারপরও আমি চাই, আজ সন্ধ্যায় তুমি হলুদ শাড়ি পরে ফুল দিয়ে সাজবে, নিজের জন্য, তোমার ভবিষ্যৎ সন্তানের জন্য, আমার জন্য। আমরা দুজন মিলে আজ গায়েহলুদ করব।” আমি একা একা শাড়ি কিনেছি। গাঁদা ফুলের মালা কিনেছি। কী মনে করে একটা লাল পাঞ্জাবিও কিনেছি।’

শাওন আরও লিখেছেন, ‘সন্ধ্যায় নিজে নিজে সেজেছি। বাথরুমের আয়নায় নিজেকে দেখে আমার চোখ ফেটে পানি চলে আসে। চোখ মুছে খোঁপায়-কানে গাঁদা ফুলের মালা গুঁজেছি। হঠাৎ শুনি দরজায় ধুমধাম শব্দ। দরজা খুলে বেরিয়ে দেখি ডালা কুলো হাতে মাজহার ভাইয়ের স্ত্রী স্বর্ণা ভাবি, পাশে তিন বছরের ছোট্ট অমিয়, একটু দূরে লাল পাঞ্জাবি পরে হ‌ুমায়ূন ঠোঁট টিপে হাসছেন। হইহই করে ঘরে ঢুকলেন হ‌ুমায়ূনের আরও বন্ধু আর তাঁদের স্ত্রীরা। তাঁরা আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যান পাশের রুমে।’

সেদিন যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের কথা মনে করে শাওন লিখেছেন, ‘চার-পাঁচটা প্রদীপ দিয়ে সাজানো ছোট্ট একটি রুমের পাশ। সেখানে হলুদের কী স্নিগ্ধ ছিমছাম আয়োজন! লেখক মইনুল আহসান সাবের ভাইয়ের স্ত্রী কেয়া ভাবি আর মাজহার (প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম) ভাইয়ের স্ত্রী স্বর্ণা ভাবি আমার আর হ‌ুমায়ূনের হাতে রাখি পরালেন। সে কী খুনসুটি! সে কী আহ্লাদ! সে এক অন্য রকম গায়েহলুদ। আরেক ভাবি নামিরা সব মেয়ের হাতে মেহেদি দিয়ে দেন। আমার আর হ‌ুমায়ূনের দুই গাল কাঁচা হলুদে রাঙা।’

আরএম-২৫/১২-১২ (বিনোদন ডেস্ক, তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো)

চলতি বছরে ঘর ভেঙেছে যেসব তারকার

সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার খেলায় নিত্যই ডুবে থাকে শোবিজ। আজ এই তারকার বিয়ে তো কাল ওই তারকার ছাড়াছাড়ি! এসব নিয়ে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি তো চলেই। এসব দেখে বিরক্ত দর্শক-ভক্তরাও। তাই কোনো তারকার বিয়ে হলে তারা প্রার্থনা করেন, বিচ্ছেদটা যেন অন্তত শান্তিতে হয়!

চলতি বছর শোবিজের অনেক জনপ্রিয় তারকার সুখের সংসার ভেঙেছে। আবার অনেকেরই বিচ্ছেদ চূড়ান্ত না হলেও ঝুলে আছে আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়। অনেকেই আবার স্বামী-সংসার কিংবা বউ ছেড়ে আলাদা থাকছেন। তারকাদের সম্পর্কের নানা গল্প নিয়ে এই আয়োজন-

বছর শেষের বেদনা শাকিব-অপুর বিচ্ছেদ
প্রথমেই বলতে হয় সর্বশেষ বিচ্ছেদ হওয়া তারকা জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের কথা। অনেক নাটক আর আলোচনা সমালোচনার জন্ম দেয়া এই তারকাদ্বয়ের দাম্পত্য জীবন অবশেষে ভেঙেই যাচ্ছে। ২৮ নভেম্বর অপু বিশ্বাসের কাছে ডিভোর্স নোটিশ পাঠান শাকিব খান। সেই নোটিশ হাতে পেয়ে অবাক হন অপু। যাকে ভালোবেসে ধর্ম, জাত, ক্যারিয়ার সব বিসর্জন দিয়েছেন তার কাছ থেকে বিচ্ছেদের প্রস্তাব? অবিশ্বাস্য লাগছে তার কাছে। তবে শাকিব খান তার ডিভোর্স নোটিশে অপুকে অবাধ্য স্ত্রী দাবি করে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ এনেছেন।

এদিকে অপুও বেশ কিছু পাল্টা অভিযোগ করেছেন শাকিবের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেছেন, শাকিব তাকে কৌশলে ধর্ম পরিবর্তন করিয়েছেন। তিনবার তার গর্ভপাত করতে বাধ্য করেছেন। স্বামীর প্রতি স্ত্রী অপুর এই অভিযোগ হতবাক করেছে দুই তারকার ভক্তদের। কলকাতার গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে শাকিবকে তুলোধুনা করা হয়েছে।

এই মুহূর্তে শাকিব রয়েছেন দেশের বাইরে। অপুও তেমন করে মুখ খুলছেন না। কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি সেটাও জানা যাচ্ছে না। তবে এই দুই তারকার সংসার ভাঙার খবর আলোচনার গরম ইস্যু হিসেবেই দেশময় ছড়িয়েছে। বিভক্ত হয়েছে শাকিব-অপুর ভক্তরা। জ্বালাময়ী অনেক স্ট্যাটাস ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে চলচ্চিত্রপ্রেমী, নারীবাদিদের। চায়ের দোকান, বাস স্টেশন, অফিসের ডেস্ক, স্কুল-কলেজের আড্ডা- সবখানেই আলোচিত শাকিব-অপুর ডিভোর্সের বিষয়টি।

তবে চলচ্চিত্রের সিনিয়র কর্মীরা শাকিব-অপুকে বিচ্ছেদে না গিয়ে সমঝোতায় আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দুই তারকাকে তাদের একমাত্র সন্তান আব্রাম খান জয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে এক হয়ে পাশাপাশি থেকে যাওয়াটাকেই বুদ্ধিমানের হবে বলে মনে করেন। এদিকে শাকিব ভারতের হারাদারাবাদ থেকে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, তার সিদ্ধান্তে তিনি অটল থাকবেন। শাকিব খানের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে যদি তাদের মত পরিবর্তন না হয় তাহলে ডিভোর্স কার্যকর হয়ে যাবে।

মিলার দশ বছরের প্রেম টেকেনি দশ মাস
সবখানে এখন আলোচিত কণ্ঠশিল্পী মিলার সংসার ভাঙার গল্প। চলতি বছরের ১২ মে বিয়ে করেছিলেন তিনি। বছর না পেরুতেই গুঞ্জন ছড়িয়েছিলো ভেঙে যাচ্ছে তার সংসার। গেল ১৮ সেপ্টেম্বর বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথেই যাচ্ছেন মিলা ও তার স্বামী বেসরকারি এয়ারলাইন্সের পাইলট পারভেজ সানজারি। তবে বিনোদনের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে সব খবরকে মিথ্যে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘বললেই তো আর ডিভোর্স হয়ে যায় না। যারা বানোয়াট মনগড়া নিউজ ছড়াচ্ছেন তাদের বলব আল্লাহর ওয়াস্তে মনগড়া নিউজ করে বিভ্রান্তিতে ফেলবেন না।’

অবশেষে ৭ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৩টার দিকে মিলা তার ফেসবুক ভেরিফায়েড ফ্যান পেজে ডিভোর্সের বিষয়টি নিজেই ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, ‘১০ বছর সম্পর্কের পর আমরা বিয়ে করি। যে লোক এত দীর্ঘ সম্পর্কের পরও আমার সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে, তার সঙ্গে আমি থাকতে পারব না। আর চুপ করে সহ্য করা উচিত না। নিজ হাতেই আমার ভাগ্য গড়তে হবে আর বের হয়ে আসতে হবে এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে।

শুধু ডিভোর্সেই নয়, মিলার দাম্পত্য শেষ হবার গল্পটি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের দায়ে মিলা তার স্বামীর নামে মামলা করেন। তার প্রাক্তন স্বামী এখন কারাগারে বন্দী।

বছর শুরু হয়েছিলো হাবিবের বিচ্ছেদে
না বললেই নয় একটি কথা। সেটি হলো চলতি বছরে বিয়ে-বিচ্ছেদে বেশি আলোচিত হয়েছে সংগীতাঙ্গন। বছরের শুরুতেই দারুণ ধাক্কা দিয়ে গেল হাবিবের সংসার ভাঙনের খবর। গেল বছরের শেষদিকে হঠাৎ গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল হার্টথ্রব সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদের সাংসারিক টানাপোড়ন চলছে। হাবিবের একাধিক ঘনিষ্ঠজনও বলেছিলেন সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না এই দম্পতির। দু’জনে নাকি গেল বছরের শেষে আলাদাও থেকেছেন কিছুদিন।

সেই গুঞ্জন সত্যি হলো অবশেষে। দ্বিতীয় স্ত্রী রেহানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স হয়ে গেল হাবিবের গত ২৬ জানুয়ারি। দুই পরিবারের সমঝোতায় ডিভোর্স হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাবিব।

শিল্পী জীবনের প্রথমে ২০০৩ সালে লুবিয়ানা নামের এক নারীর সঙ্গে প্রেম করে প্রথম বিয়ে করেন হাবিব ওয়াহিদ। কিছুদিন পর সেই সংসার ভেঙে যায়। এরপর মডেল-অভিনেত্রী মোনালিসার সঙ্গে গভীর সম্পর্কে জড়ান এই শিল্পী। ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো তারা বিয়েও করবেন। কিন্তু কোনো এক কারণে সেই সম্পর্কে পরিণতি আসেনি। তার কিছুদিন পরই হুট করে ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর পারিবারিক সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের মেয়ে রেহানকে বিয়ে করেন হাবিব। এই সংসারে হাবিবের আলিম ওয়াহিদ নামে এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির প্লেবয় খ্যাত এই তারকা বিচ্ছেদের পরপরই সম্পর্কে জড়ান মডেল-অভিনেত্রী তানজিন তিশার সঙ্গে। সেই সম্পর্ক যখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করলো সবখানে তখনই হাবিবের সাবেক স্ত্রী রেহান ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে তোলপাড় করে দিলেন। তিনি দাবি করেন, তানজিন তিশার সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরেই হাবিবের সঙ্গে ভেঙেছে তার সংসার। শুধু তাই নয়, রেহানের দাবি পিয়া বিপাশার সঙ্গেও সম্পর্ক ছিলো হাবিবের। এই স্ট্যাটাসের পর শুরু হয় রেহান-হাবিব ও তিশার ত্রিমুখী লড়াই। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাবিবের সঙ্গে এখন তিশার সম্পর্কটাও ভালো যাচ্ছে না। বর্তমানে সিঙ্গেলই রয়েছেন হাবিব।

ভক্তদের থমকে দিয়েছে তাহসান-মিথিলার ডিভোর্স
চলতি বছরে ডিভোর্স ঘোষণা নিয়ে ভক্তদের শোকের মিছিলে ভাসিয়েছেন শোবিজের আদর্শ জুটি বলে খ্যাত তাহসান-মিথিলা। অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিলো তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না। তবে এই বিষয়ে প্রশ্ন এলে তারা দুজনই কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গেল ২০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাহসান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ডিভোর্সের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। দুজন যৌথভাবে এই স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন।

সেখানে তাহসান-মিথিলা বলেন, ‘অতি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরেই আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম। আমরা জানি আমাদের এ সিদ্ধান্তে অনেকে ব্যথিত হবেন। সেজন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।’

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন মেধাবী ছাত্র তাহসান। সে সময় মিথিলার সঙ্গে পরিচয়। এরপর তাহসানের মনের ঘরে বাঁধা পড়েন মিথিলা। ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট এক সুতোয় বাঁধা পড়ে তাহসান-মিথিলার জীবন। তাহসান-মিথিলার ঘরে রয়েছে একমাত্র কন্যাসন্তান আইরা তাহরিম খান। বর্তমানে মিথিলার কাছেই থাকে আইরা।

শোবিজের মানুষেরা মনে করছেন এমন একটি আদর্শ ও সুখী দম্পতির পতন তারকাদের সংসার জীবনের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধে দারুণভাবে আঘাত করেছে।

ভেঙেছে নোভার ঘর
ঘর ভাঙনের সেই মিছিলে সর্বশেষ নাম নোভা আহমেদ। ছোট পর্দার এই অভিনেত্রী ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলেন জনপ্রিয় নাট্য নির্মাতা রায়হান খানকে। ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর বিয়ে করেছিলেন তারা। ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই তাদের ঘরে জন্ম নেয় রাফাজ রায়হান। ছয় বছর সংসার করার পর গত ২৬ আগস্ট ঢাকা জজকোর্ট কাজী অফিসে তারা পরস্পরকে ডিভোর্স দেন। তা প্রকাশ হয় গত ৮ অক্টোবর।

জানা গেছে, এ ডিভোর্সে তাদের পারিবারিক সম্মতি ছিল। তবে কী কারণে তাদের সংসারে ভাঙন এল সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

ভালোবেসে বিয়ে করেও স্পর্শিয়ার ডিভোর্স
ঘর ভেঙেছে মডেল-অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়ার। তার স্বামী নির্মাতা রাফসান আহসানের সঙ্গে গত ২১ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাজী অফিসে ডিভোর্সের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। স্পর্শিয়ার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের খবরটি নিশ্চিত করেছেন রাফসান নিজেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুজনের সিদ্ধান্তে ডিভোর্স হয়েছে। ডিভোর্সের সময় আমার এবং স্পর্শিয়ার কাছের বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।’

ভালোবেসেই পারিবারিকভাবেই তো বিয়ে করেছিলেন? কিন্তু ডিভোর্স হলো কেন? এ প্রশ্নের জবাবে রাফসান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি ঢুকেছিল। সত্যি কথা বলতে চারপাশের কিছু মানুষের কারণে আসলে বিষয়টি জটিল হয়ে গেছে। যার কারণে আমরা ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ধোঁয়াশায় শখ-নিলয়ের সংসার
আরেক জনপ্রিয় জুটি শখ-নিলয়ের ডিভোর্সের খবরও বেশ কষ্ট দিয়ে গেছে শোবিজের মানুষ ও দুই তারকার ভ্ক্তদের। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি দীর্ঘদিনের প্রেমকে মধুর পরিণতি দিতে বিয়ে করেন নিলয়-শখ। পারিবারিক আয়োজনের বিয়েতে তাদের দেনমোহর নির্ধারিত ছিল ১০ লাখ টাকা। তারপর শখ তার পুরান ঢাকার বাসা ছেড়ে মিডিয়ায় নিয়মিত কাজ করবেন বলে নিলয়ের সঙ্গে উত্তরায় বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন।

কিন্তু বিয়ের বছর না যেতেই শোবিজে গুঞ্জনের ডালপালা মেলেছে নিলয়-শখের বৈবাহিক সম্পর্কে ফাটল ধরেছে! বারবার সেই প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেলেও সম্প্রতি জানা গেল, বিচ্ছেদের পথেই এগিয়েছে এই সংসার। তবে সংসার ভাঙন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি দুই তারকার কেউই। তাদের কাছের সূত্রে জানা গেছে, আপাতত আলাদাই থাকছেন নিলয় ও শখ। দেনমোহরের ঝামেলায় আটকে আছে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত।

আড়ালেই ছিলো বাঁধনের বিচ্ছেদের খবর
ডিভোর্স হয়ে গেছে লাক্স তারকা আজমেরী হক বাঁধনের। কয়েক বছর ধরে বিষয়টি ছিলো গুজব-গুঞ্জন। তবে বাঁধনের স্বামী মাশরুর সিদ্দিকী সনেট গেল ২১ সেপ্টেম্বর দেয়া এক সাক্ষাতকারে জানান, ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর আনুষ্ঠানকিভাবেই বিচ্ছেদ হয়েছে তাদের। বাঁধন নিজেই ঢাকা সিটি করপোরেশনের সালিশী পরিষদে বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেছিলেন।

আবেদনটি করেছিলেন ২০১৪ সালের আগস্টের ১০ তারিখ। বিচ্ছেদ চাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর ৯০ দিন পার হয়ে গেলেও দুই পক্ষের কেউই আপস মীমাংসার জন্য হাজির হননি এবং কোনো আবেদন করেননি। স্বাভাবিক নিয়মেই বিচ্ছেদটি গৃহীত হয় ২৬ নভেম্বর। তবে ডিভোর্স সার্টিফিকেটে বিচ্ছেদের তারিখ হিসেবে ১০ আগস্টকেই গণ্য করা হয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁধনও ডিভোর্সের বিষয়টি কাছে স্বীকার করে নেন। তবে তিনি বলেন, ‘ডিভোর্সের আবেদন আমি করিনি। সনেটই ডিভোর্স চেয়ে আমাকে নোটিশ পাঠিয়েছে।’

আরএম-৫৪/১১-১২ (বিনোদন ডেস্ক, তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ)

শাহরুখকে ফলো করেন শাকিব!

প্রত্যেক মানুষই কারো না দ্বারা কারো দ্বারা প্রভাবিত। কেউ তার বাবা কিংবা মায়ের প্রভাবে নিজের জীবনকে বিকশিত করেন। কেউ বড় ভাইবোনের মতো হতে চাওয়ার চেষ্টাকেই জীবনের ব্রত করে নেন। কেউ আবার কোনো মনীষীকে করে নেন জীবনের উৎসাহ। প্রভাবিত হবার এ চর্চাকেও একরকম শিল্পের গুণ বলা যেতে পারে। তবে তাতে যদি নিজস্বতা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা যায়।

প্রভাবিত হবার এমন গল্পে দারুণ এক সংযোজন ঢাকাই ছবির চিত্রনায়ক শাকিব খান। তার ভক্তরা কখনো তাকে শাহরুখ খান আবার কখনো সালমান খানের সঙ্গে তুলনা করেন। সম্প্রতি অপুকে ডিভোর্স কাণ্ডের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে শাহরুখকে ‘নকল’ করে চলা শাকিবের এ প্রবণতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাকিব ভক্তদের সঙ্গে এ নিয়ে সাধারণ সিনেমাপ্রেমীদের তর্ক চলছেই। ভক্তদের দাবি, শাকিব বলিউডে জন্মালে শাহরুখদের চেয়েও বেশি জনপ্রিয় হতেন। আর বিপরীতমুখীরা বলছেন, যে নায়ক অন্য দেশের নায়কের সবকিছু কপি করে সে নায়ক কখনোই বলিউডের মতো ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে পারতেন না।

তর্ক-বিতর্ক যাই হোক, শাকিবের জীবনের কিছু বিষয় স্পষ্টই প্রমাণ দেয়, বলিউড বাদশাহ দ্বারা তুমুল প্রভাবিত তিনি। নিজের নাম থেকে শুরু করে ছেলের নামেও শাহরুখের প্রভাব দেখা যায় শাকিবের। তবে আদর্শ, মানবিকতা, মূল্যবোধে শাহরুখের সঙ্গে তার যোজন যোজন দূরত্ব।

দেখে নেয়া যেতে পারে শাকিব খান তার তারকাজীবনে শাহরুখকে কতোটা অনুসরণ করেছেন। এ বিষয়ে আলোচনার প্রথমেই কথা বলা যায় নাম নিয়ে। গোপালগঞ্জে জন্ম নেয়া শাকিব খানের নাম কিন্তু এটা ছিল না। তিনি মাসুদ রানা হিসেবেই বেড়ে উঠেছিলেন, এটাই তার পারিবারিক নাম। এ নাম নিয়েই তিনি এফডিসিতে এসেছিলেন এবং ঘুরে বেড়িয়েছেন নাচের শিল্পী হিসেবে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালে তিনি নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালোবাসা’ ছবি দিয়ে। সেটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের ২৮ মে। তখনই বদলে যায় নামখানা। মাসুদ রানা হয়ে উঠলেন শাকিব খান। শাহরুখের খান থাকলো উপাধি হিসেবে আর নামের শুরুতে শাহরুখের প্রথম শব্দ ‘শা’। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান দিয়েছিলেন শাকিবের এ নাম। এক সাক্ষাতকারে শাকিব নিজেই জানিয়েছেন এ কথা।

মুসলিম হয়েও শাহরুখ ভালোবেসে বিয়ে করেছেন হিন্দু ধর্মের মেয়ে গৌরিকে। শাকিব খানও ভালোবেসে বিয়ে করেছেন অপু বিশ্বাসকে। তবে শাহরুখ তার স্ত্রীর ধর্ম পরিবর্তনের জন্য কোনো রকম চাপ বা উৎসাহ দেননি। কিন্তু শাকিব খান তার স্ত্রীকে ইসলাম গ্রহণ করতে পরামর্শ দেন এবং তার নাম রাখেন অপু ইসলাম খান।

শাহরুখ তার বসবাসের জন্য মুম্বাইয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন ‌‘মান্নাত’ নামে। শাকিব খানও পূবাইলে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন ‘জান্নাত’ নামে।

শাহরুখ খানের কনিষ্ঠ ছেলের নাম রেখেছেন আব্রাম খান। শাকিব খানও তার একমাত্র ছেলের নাম রেখেছেন আব্রাম খান। তবে শাকিব ছেলের একটি ডাক নাম রয়েছে, জয়।

বলিউডে সালমান, আমির, ইরফান, সাঈফসহ আরও কয়েকজন নায়ক রয়েছেন যাদের নামের শেষে খান উপাধি যুক্ত। সবার থেকে শাহরুখকে আলাদা করতে ‘কিং খান’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় সেখানে। শাকিবও নিজেকে কিং খান হিসেবে পরিচিত করেছেন। সেই নামে সিনেমাও করেছেন তিনি।

শাহরুখ খানের ছবি আছে ‘মাই নেম ইজ খান’ নামে। শাকিবও একই নামে ছবি করেছেন। আফসোসের বিষয় হলো শাহরুখ খানের ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিটিতে ‘মুসলামান মানেই সন্ত্রাস নয়’ এ বিষয়টির উপস্থাপন ও ইউরোপ আমেরিকাতে মুসলমানদের প্রবেশ ও থাকার ভোগান্তির চিত্র দেখে দর্শক কেঁদেছে আর শাকিবের ‘মাই নেম ইজ খান’ ছবিটি দর্শককে স্বস্তা সংলাপ আর গল্পে বিরক্তি দিয়েছে।

কিছুদিন আগে শাহরুখ খানকে নিয়ে ‘রংবাজ’ নামে একটি নতুন ছবির ঘোষণা আসে। শাকিবও শামীম আহমেদ রনির পরিচালনায় একই নামে একটি ছবি করেছেন। শাকিবের ছবিটি মুক্তি পেলেও শাহরুখের ছবিটি এখনো নির্মাণাধীন। শোনা যাচ্ছে ওই ছবির নাম বদলে যাচ্ছে।

এসব কিছু চিত্র দেখে বোঝাই যায় নিজের নায়ক জীবনের চারপাশে শাহরুখ খানকে জড়িয়ে রেখেছেন শাকিব খান। তবে শাহরুখের মতো একজন আদর্শ মানুষ, আদর্শ স্বামী, আদর্শ পিতা, গ্রহণযোগ্য মেন্টর, সব শ্রেণির কাছে গ্রহণযোগ্যতা, নতুন প্রজন্মের কাছে আইকন হওয়ার যোগ্যতা রপ্ত করতে পারেননি শাকিব। শাহরুখের ব্যক্তিত্ব ‍ও মানবীয় গুণাবলী থেকে তিনি নিজেকে প্রভাবিত করতে পারেননি।

শাহরুখের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনোই শোনা যায়নি কোনো বাজে স্ক্যান্ডাল। ‘ডন’ সিনেমা করতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে জড়িয়ে কিছু কথা ছড়ালেও শেষাবধি তা সিনেমার প্রচার হিসেবেই গ্রহণ করেছে দর্শক। কিন্তু শাকিব তার ছবির অনেক নায়িকা নিয়েই স্ক্যান্ডালের জন্ম দিয়েছেন। সর্বশেষ নায়িকা বুবলীর সঙ্গে শাকিবের প্রেম নিয়ে তো আলোচনা-সমালোচনার শেষই নেই। বুবলীকে বিয়ে করেছেন শাকিব সেই কথাও ছড়ানো আছে চলচ্চিত্রের বাজারে।

শাহরুখ খান দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি জয় করেছেন তার অগ্রজ-অনুজ সহকর্মীদেরও মন। নতুন প্রজন্মের তারকারা তাকে আইকন হিসেবে শ্রদ্ধা করেন। নিজের অদৃশ্য মেন্টর হিসেবে দাবি করেন। কিন্তু তিন শতাধিক ছবি করা শাকিব খানকে আইকন মেনে ইন্ডাস্ট্রিতে আসা নায়ক বা তারকার সংখ্যা দূরবীন দিয়েই খুঁজে বের করতে হবে। কেউ কেউ হয়তো শাকিবের পজিশন বা চাহিদার প্রতি মোহ পুষে রাখেন, তবে তাকে মেন্টর হিসেবে মানেন সে কথা এখন পর্যন্ত কোনো তারকার মুখে শোনা যায়নি।

শাহরুখ খানের হাত ধরে দীপিকা, আনুশকার মতো তারকরা বলিউড জয় করেছেন। কাজল, মাধুরী, রানি মুখার্জি, জুহি চাওলারা পেয়েছেন শাহরুখের নায়িকা হিসেবে বিশেষ জনপ্রিয়তা। কিন্তু শাকিব খানের বেলাতে তেমনটি দেখা গেছে কেবল অপু বিশ্বাস আর বুবলীর বেলাতে। এই দুই নায়িকা ইন্ডাস্ট্রিতে একটা অবস্থান করে নিতে পারলেও সেটা কেবলই শাকিবের নায়িকা হিসেবে। দীপিকা-আনুশকাদের মতো সার্বজনীন হতে পারেননি। যদিও অপু রিয়াজ, ফেরদৌসসহ আরও দুই একজন নায়কের বিপরীতে কাজ করেছেন তবে সেগুলো আলোচনায় আসেনি। আর সেসব ছবি সফল না হওয়ার পেছনে শাকিবের কৌশল নেপথ্যে ছিলো বলেও মনে করেন অনেকে।

শাহরুখ খান শুটিং সেটে পরিচালকের সঙ্গে তারকাগিরি প্রকাশ করেছেন সেই খবর কখনো শোনা যায়নি। কিন্তু শাকিব খান শুটিং স্পটে ‘নায়ক শাকিব’ মুডেই থাকেন সেই খবর অজানা নয় চলচ্চিত্রের মানুষদের। তার ইচ্ছেমতো শিডিউল দেয়া, শুটিং স্পটে আসা যাওয়ার অনেক খবরই গণমাধ্যমে এসেছে। এরমধ্যে গতবছর একটি ছবির মহরতে সিনিয়র অভিনেত্রী আনোয়ারা ও একঝাঁক সাংবাদিক বসিয়ে রেখেও আসেননি শাকিব। এটা তিনি অহরহই করেন। সেদিন সেখানে সাংবাদিকরা অপেক্ষা করে বিরক্ত হয়েছেন বলেই কেবল সেটি আলোচনায় এসেছিলো সংবাদের শিরোনাম হয়ে।

এখানে এ বিষয়টিও উল্লেখ করা যায়, শাহরুখ খান সিনেমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বিবাহিত বলে পরিচিত ছিলেন। ক্যারিয়ারের ভয়ে তাকে স্ত্রী-সংসার আড়ালে রাখতে হয়নি। বরং স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা ও সন্তানদের নিয়ে আদর-আহ্লাদ তিনি প্রকাশ করেছেন ঘটা করেই। আর শাকিব খান ক্যারিয়ারের ভয়ে আট বছর গোপন রেখেছেন বিয়ের খবর।
শাহরুখ খানের ব্যস্ততা নতুন করে বলার কিছু নেই। সিনেমা, নানারকম ব্যবসা নিয়ে দিন কাটে তার। এসবের মধ্যেও সময় পেলেই পরিবার নিয়ে ঘুরতে বের হন তিনি। স্ত্রী, পুত্র-কন্যাদের নিয়ে অবকাশ যাপন করেন সাধারণ একজন মানুষের মতোই। আর শাকিব খান বিয়ের খবরটাই রেখেছিলেন গোপন। সিনেমার ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে সন্তান জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকেননি। প্রথমবারের মতো ছেলের মুখ দেখেছিলেন প্রায় চার মাস পর!

নিজে শুটিংয়ের টানে দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ালেও বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কখনো শোনা যায়নি স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে বেড়িয়েছেন। চলতি বছরের দুটি ঈদের একটিতেও শাকিবকে দেখা যায়নি স্ত্রী-ছেলের সঙ্গে। ছেলের মার্কেট করে দিয়েই তিনি সাংসারিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

প্রায় সময়ই দেখা যায় শাহরুখ তার বাবা ও মাকে নিয়ে নানা রকম আবেগঘন মন্তব্য করেন। সেসব মন্তব্য নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ দেয় মা-বাবা ও পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে। কিন্তু শাকিব খানের পরিবার সম্পর্কে তার ভক্তরা তেমন কোনো তথ্য জানে না বললেই চলে। তিনি জনপ্রিয়তা পেলেও তার পরিবার ও পরিবারের মানুষেরা থেকে গেছে আড়ালেই। যার কারণে পারিবারিক বা সামাজিক মূল্যবোধের জায়গাটিতে কখনোই শাকিব প্রভাব ফেলতে পারেননি বলে ধারণা অনেকের।

শাহরুখের প্রতি শাকিবের দুর্বলতা গোপন কিছু নয়, বেশ প্রকাশ্যই বলা চলে। তবে শাহরুখের মানবীয় গুণাবলী তিনি এড়িয়ে চলেছে হতাশাজনকভাবে। শাহরুখের ব্যক্তিত্ব তিনি রপ্ত করতে পারেননি, হয়তো চেষ্টাও করেননি। সেরা নায়ক আর সুপারস্টার ঘোরেই কেটে যাচ্ছে তার দিনগুলো। পরিণত হয়েছেন অভিনয়ে, তামিল হিরোদের স্টাইল-ফ্যাশন আর লুক কপি করে; পরিণত হতে পারেননি জীবনবোধের ভাবনা ও দর্শনে।

প্রায়ই মনে হয়, নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তার যে চূড়ায় তিনি উঠেছেন তার সঙ্গে নিজের বিনয় ও মানবীয় গুণগুলোকেও শাকিব যদি নান্দনিকতার চূড়ায় নিয়ে যেতে পারতেন হয়তো বাংলাদেশ অসাধারণ কাউকে পেতো। হয়তো ঢাকাই ছবির ইন্ডাস্ট্রি একটা কালজয়ী নাম পেত, যাকে সম্মান করা যায় নত হৃদয়ে। হয়তো নতুন প্রজন্মের স্বপ্নই হতো সাকিব আল হাসানের মতো শাকিব খান হতে পারাটাও।

কিন্তু সেই হয়তো আটকে রইলো আফসোসেই!

আরএম-৩১/১০-১২ (বিনোদন ডেস্ক)